ঢাকা ০৫:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ফ্রান্স-স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, ঘরছাড়া ২ লাখ ২০ হাজার মানুষ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৫৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
  • / 58

ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্স ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। তীব্র তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় বনাঞ্চল, জনবসতি ও পর্যটন এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সংকট মোকাবিলায় ফ্রান্স সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে, আর স্পেন জারি করেছে জাতীয় জরুরি অবস্থা। দুই দেশই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তা চেয়েছে।

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিরন্দ ও লঁদ অঞ্চলে দাবানল সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। শুধু ফ্রান্সেই প্রায় ২ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বোর্দোর আশপাশের এলাকা থেকে নতুন করে আরও প্রায় ৬০ হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

দাবানলের কারণে জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা ক্যাপ ফেরে উপদ্বীপ পুরোপুরি খালি করা হয়েছে। অনেক পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দা নৌকায় করে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। ফ্রান্সের দমকল বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২২ সালের ভয়াবহ দাবানলের চেয়েও এবার পরিস্থিতি আরও জটিল। দীর্ঘদিনের খরার কারণে রাতেও আগুনের তীব্রতা কমছে না।

আরও পড়ুন  ইউক্রেনে রুশ ড্রোন আটকাতে ফ্রান্সের পুরনো মাছ ধরার জাল ব্যবহৃত হচ্ছে

এ পর্যন্ত জিরন্দ অঞ্চলে ১৯ হাজার হেক্টরের বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে এবং অন্তত ৮০টি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে অন্তত ৫০ জন দমকলকর্মী আহত হয়েছেন।

এদিকে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের আশপাশে একাধিক দাবানল একত্রিত হয়ে বিশাল অগ্নিকাণ্ডে রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় দেশটিতে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। অন্তত ২৫ হাজার মানুষকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আরও প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে ঘরের ভেতরে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।

মাদ্রিদ অঞ্চলে দাবানলের প্রভাবে ৬০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, বাতাসে আগুনের ছাই ও জ্বলন্ত কণা কয়েক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে, ফলে নতুন নতুন এলাকায় আগুন লাগার আশঙ্কা রয়েছে।

আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, মাদ্রিদের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল। প্রবল বাতাস, চরম তাপপ্রবাহ এবং শুষ্ক আবহাওয়া আগুনকে আরও ভয়ংকর করে তুলেছে। আগুনের বিস্তার ঠেকাতে স্পেনের সামরিক জরুরি ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে।

আভিলা প্রদেশেও দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, পৃথক দুটি দাবানল একত্রিত হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। ইতোমধ্যে মাদ্রিদ অঞ্চলে প্রায় ৬ হাজার হেক্টর এবং আভিলা প্রদেশে প্রায় ৯ হাজার হেক্টর জমি পুড়ে গেছে।

দাবানল মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নও সহায়তার হাত বাড়িয়েছে। ইইউর সিভিল প্রোটেকশন মেকানিজমের আওতায় আগুন নেভাতে বিভিন্ন দেশ থেকে বিমান ও হেলিকপ্টার পাঠানো হচ্ছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, চেক প্রজাতন্ত্র ও স্লোভাকিয়া থেকেও অতিরিক্ত সহায়তা আসছে।

এদিকে স্পেনের বুর্গোহন্দো এলাকায় দাবানলের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের অবহেলা থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপে তাপপ্রবাহ ও দীর্ঘস্থায়ী খরার ঘটনা বাড়ছে। ফলে প্রতি বছরই দাবানলের ঝুঁকি আরও তীব্র হচ্ছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ফ্রান্স-স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, ঘরছাড়া ২ লাখ ২০ হাজার মানুষ

আপডেট সময় ১০:৫৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

ফ্রান্স ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। তীব্র তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় বনাঞ্চল, জনবসতি ও পর্যটন এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সংকট মোকাবিলায় ফ্রান্স সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে, আর স্পেন জারি করেছে জাতীয় জরুরি অবস্থা। দুই দেশই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তা চেয়েছে।

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিরন্দ ও লঁদ অঞ্চলে দাবানল সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। শুধু ফ্রান্সেই প্রায় ২ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বোর্দোর আশপাশের এলাকা থেকে নতুন করে আরও প্রায় ৬০ হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

দাবানলের কারণে জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা ক্যাপ ফেরে উপদ্বীপ পুরোপুরি খালি করা হয়েছে। অনেক পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দা নৌকায় করে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। ফ্রান্সের দমকল বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২২ সালের ভয়াবহ দাবানলের চেয়েও এবার পরিস্থিতি আরও জটিল। দীর্ঘদিনের খরার কারণে রাতেও আগুনের তীব্রতা কমছে না।

আরও পড়ুন  ফ্রান্সের সঙ্গে ইউক্রেনের খনিজ সম্পদ নিয়ে আলোচনা

এ পর্যন্ত জিরন্দ অঞ্চলে ১৯ হাজার হেক্টরের বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে এবং অন্তত ৮০টি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে অন্তত ৫০ জন দমকলকর্মী আহত হয়েছেন।

এদিকে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের আশপাশে একাধিক দাবানল একত্রিত হয়ে বিশাল অগ্নিকাণ্ডে রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় দেশটিতে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। অন্তত ২৫ হাজার মানুষকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আরও প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে ঘরের ভেতরে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।

মাদ্রিদ অঞ্চলে দাবানলের প্রভাবে ৬০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, বাতাসে আগুনের ছাই ও জ্বলন্ত কণা কয়েক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে, ফলে নতুন নতুন এলাকায় আগুন লাগার আশঙ্কা রয়েছে।

আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, মাদ্রিদের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল। প্রবল বাতাস, চরম তাপপ্রবাহ এবং শুষ্ক আবহাওয়া আগুনকে আরও ভয়ংকর করে তুলেছে। আগুনের বিস্তার ঠেকাতে স্পেনের সামরিক জরুরি ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে।

আভিলা প্রদেশেও দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, পৃথক দুটি দাবানল একত্রিত হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। ইতোমধ্যে মাদ্রিদ অঞ্চলে প্রায় ৬ হাজার হেক্টর এবং আভিলা প্রদেশে প্রায় ৯ হাজার হেক্টর জমি পুড়ে গেছে।

দাবানল মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নও সহায়তার হাত বাড়িয়েছে। ইইউর সিভিল প্রোটেকশন মেকানিজমের আওতায় আগুন নেভাতে বিভিন্ন দেশ থেকে বিমান ও হেলিকপ্টার পাঠানো হচ্ছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, চেক প্রজাতন্ত্র ও স্লোভাকিয়া থেকেও অতিরিক্ত সহায়তা আসছে।

এদিকে স্পেনের বুর্গোহন্দো এলাকায় দাবানলের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের অবহেলা থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপে তাপপ্রবাহ ও দীর্ঘস্থায়ী খরার ঘটনা বাড়ছে। ফলে প্রতি বছরই দাবানলের ঝুঁকি আরও তীব্র হচ্ছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে।