ঢাকা ০৭:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
রামেক হাসপাতালে রোগীদের ভোগান্তি কমাতে বসছে একক ‘অ্যাম্বুলেন্স সেন্টার’ বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ আজ নাটোরে ৪৫ টাকা চা বিলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১২ মধুখালীতে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে সুপারভাইজার নিহত, আহত ১৫ শাহজালাল বিমানবন্দরে আনসার সদস্যদের যাতায়াত সহজে বিশেষ বাস সেবা চালু ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হবে পরিকল্পনার মাধ্যমে: প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ: বাণিজ্যমন্ত্রী কলকাতা ভ্রমণে বাংলাদেশিদের জন্য উপহাইকমিশনের সতর্কবার্তা নেপালের ভয়াবহ দুর্যোগে সহায়তার হাত বাড়াল বাংলাদেশ ছিনতাইয়ের ঘটনায় শিক্ষিকার মৃত্যু: উদ্ধার বাইক নিয়ে প্রশ্ন, ডিবির ছায়া তদন্ত

জোটে বদ্ধ বিরোধীরা: গদি হারানোর শঙ্কায় নেতানিয়াহু

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:১৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • / 127

ছবি সংগৃহীত

 

ইসরায়েলের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটাতে নজিরবিহীন ঐক্য গড়েছেন দেশটির বিরোধী নেতারা। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিভেদ দূরে সরিয়ে বর্তমান কট্টর ডানপন্থী সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে একজোট হয়েছেন সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এবং ইয়ার লাপিদ।

গত বৃহস্পতিবার এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই দুই প্রভাবশালী নেতা ‘টুগেদার’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের ঘোষণা দেন। ডানপন্থী বেনেট এবং মধ্যপন্থী লাপিদের এই নতুন মোর্চা গঠনের খবরটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা প্রধান শিরোনাম হিসেবে প্রকাশ করেছে।

আরও পড়ুন  ইসরাইলের বিরুদ্ধে ১০০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি এরদোয়ানের

ইসরায়েলের বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসন এবং একটি স্থিতিশীল ও দায়িত্বশীল প্রশাসন উপহার দিতেই এই আকস্মিক জোট গঠন করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ইসরায়েল রাষ্ট্র এবং এর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থেই তারা আদর্শিক মতভেদ ভুলে এক ছাতার নিচে এসেছেন। তার মতে, ইসরায়েল বর্তমানে যে ধ্বংসাত্মক পথে এগোচ্ছে, তা থেকে জাতিকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি।

২০২২ সালের নভেম্বরে ক্ষমতায় ফেরার পর নেতানিয়াহু দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে কট্টর রক্ষণশীল মন্ত্রিসভা গঠন করেন। তার মেয়াদে গাজা উপত্যকায় ভয়াবহ যুদ্ধে ইতোমধ্যে সাড়ে ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যা বৈশ্বিক অঙ্গনে ইসরায়েলকে কোণঠাসা করেছে। একই সঙ্গে লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইরানের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতের কারণে খোদ ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও জনরোষের মুখে পড়েছেন তিনি।

জনমত জরিপগুলোর তথ্য বলছে, নেতানিয়াহুর একসময়ের প্রবল ‘নিরাপত্তা রক্ষক’ ইমেজ এখন সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ। ইসরায়েলিরা এখন দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের ক্লান্তি এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা থেকে মুক্তি পেতে চাইছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে এই ‘টুগেদার’ জোট নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টির জন্য সবচেয়ে বড় অস্তিত্বের সংকট তৈরি করবে।

দুর্নীতির অভিযোগ এবং বিতর্কিত বিচার বিভাগীয় সংস্কার ইস্যুতে অনেক আগে থেকেই রাজপথে বিক্ষোভ চলছিল। এখন বেনেট-লাপিদের এই রাজনৈতিক কৌশল ইসরায়েলের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। দীর্ঘ সময় ক্ষমতার শীর্ষে থাকা নেতানিয়াহু এই ঐক্যবদ্ধ শক্তির মোকাবিলা করে টিকে থাকতে পারবেন, নাকি ইসরায়েলে নতুন কোনো রাজনৈতিক যুগের সূচনা হবে—সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে বিশ্ববাসী।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

জোটে বদ্ধ বিরোধীরা: গদি হারানোর শঙ্কায় নেতানিয়াহু

আপডেট সময় ১০:১৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

 

ইসরায়েলের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটাতে নজিরবিহীন ঐক্য গড়েছেন দেশটির বিরোধী নেতারা। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিভেদ দূরে সরিয়ে বর্তমান কট্টর ডানপন্থী সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে একজোট হয়েছেন সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এবং ইয়ার লাপিদ।

গত বৃহস্পতিবার এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই দুই প্রভাবশালী নেতা ‘টুগেদার’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের ঘোষণা দেন। ডানপন্থী বেনেট এবং মধ্যপন্থী লাপিদের এই নতুন মোর্চা গঠনের খবরটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা প্রধান শিরোনাম হিসেবে প্রকাশ করেছে।

আরও পড়ুন  নেতানিয়াহুর প্ররোচনায় যুদ্ধে জড়িয়েছেন ট্রাম্প: কমলা

ইসরায়েলের বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসন এবং একটি স্থিতিশীল ও দায়িত্বশীল প্রশাসন উপহার দিতেই এই আকস্মিক জোট গঠন করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ইসরায়েল রাষ্ট্র এবং এর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থেই তারা আদর্শিক মতভেদ ভুলে এক ছাতার নিচে এসেছেন। তার মতে, ইসরায়েল বর্তমানে যে ধ্বংসাত্মক পথে এগোচ্ছে, তা থেকে জাতিকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি।

২০২২ সালের নভেম্বরে ক্ষমতায় ফেরার পর নেতানিয়াহু দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে কট্টর রক্ষণশীল মন্ত্রিসভা গঠন করেন। তার মেয়াদে গাজা উপত্যকায় ভয়াবহ যুদ্ধে ইতোমধ্যে সাড়ে ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যা বৈশ্বিক অঙ্গনে ইসরায়েলকে কোণঠাসা করেছে। একই সঙ্গে লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইরানের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতের কারণে খোদ ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও জনরোষের মুখে পড়েছেন তিনি।

জনমত জরিপগুলোর তথ্য বলছে, নেতানিয়াহুর একসময়ের প্রবল ‘নিরাপত্তা রক্ষক’ ইমেজ এখন সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ। ইসরায়েলিরা এখন দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের ক্লান্তি এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা থেকে মুক্তি পেতে চাইছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে এই ‘টুগেদার’ জোট নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টির জন্য সবচেয়ে বড় অস্তিত্বের সংকট তৈরি করবে।

দুর্নীতির অভিযোগ এবং বিতর্কিত বিচার বিভাগীয় সংস্কার ইস্যুতে অনেক আগে থেকেই রাজপথে বিক্ষোভ চলছিল। এখন বেনেট-লাপিদের এই রাজনৈতিক কৌশল ইসরায়েলের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। দীর্ঘ সময় ক্ষমতার শীর্ষে থাকা নেতানিয়াহু এই ঐক্যবদ্ধ শক্তির মোকাবিলা করে টিকে থাকতে পারবেন, নাকি ইসরায়েলে নতুন কোনো রাজনৈতিক যুগের সূচনা হবে—সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে বিশ্ববাসী।