ঢাকা ০৭:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ফেরিতে যাত্রীসহ বাস ওঠানো নিষিদ্ধ: নৌমন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারি এল সালভাদর: ছোট দেশ, বড় ইতিহাস ও পরিবর্তনের গল্প চট্টগ্রামের সাগরিকায় বিডি ফুডসের কোল্ড স্টোরেজে ভয়াবহ আগুন ইউরোপ যাওয়ার পথে সলিল সমাধি: গ্রিস উপকূলে সুনামগঞ্জের ১০ প্রাণহানি সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক রূপ দিতে নেপালের আগ্রহ দেশের ১১ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ ইরানি হামলায় বিপর্যস্ত মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি, নিরাপত্তা শঙ্কায় আবাসন ছাড়ছেন সেনারা মাতৃত্বের পর নতুন রূপে কিয়ারা উড়োজাহাজের কার্গো টয়লেট থেকে ৩৮ কোটি টাকার সোনা উদ্ধার গাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে স্কুল অধ্যক্ষের মৃত্যু

ইউরোপ যাওয়ার পথে সলিল সমাধি: গ্রিস উপকূলে সুনামগঞ্জের ১০ প্রাণহানি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:০৬:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
  • / 27

ছবি: সংগৃহীত

 

লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিস যাওয়ার পথে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১৮ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ১০ জনই সুনামগঞ্জের বাসিন্দা। গত শুক্রবার রাতে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছে এই ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে জগন্নাথপুর উপজেলার ৫ জন, দিরাই উপজেলার ৪ জন এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার ১ জন রয়েছেন। গ্রিক কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, তারা ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে, যাদের মধ্যে ২১ জনই বাংলাদেশি।

নিহতদের স্বজনরা জানিয়েছেন, গত ২৩ মার্চ ৪৩ জন যাত্রী নিয়ে নৌযানটি লিবিয়া থেকে গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। পথিমধ্যে দিক হারিয়ে ফেলায় টানা পাঁচ-ছয় দিন সাগরে ভাসতে থাকে যানটি। দীর্ঘ সময় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে একে একে প্রাণ হারান অনেক যাত্রী। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নৌযানে থাকা যাত্রীদের মৃত্যু হওয়ার পর দুই দিন ধরে মরদেহগুলো সেখানেই ছিল। পরবর্তীতে পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে বাধ্য হয়ে মরদেহগুলো সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।
নিহতদের মধ্যে জগন্নাথপুরের ইজাজুল হক, মো. নাঈম, শায়েক আহমেদ, আমিনুর রহমান ও মোহাম্মদ আলী এবং দিরাইয়ের মো. নূরুজ্জামান, সাজিদুর রহমান, সাহান এহিয়া ও মুজিবুর রহমানসহ দোয়ারাবাজারের আবু ফাহিমের নাম শনাক্ত করা গেছে।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে সুনামগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোতে। জগন্নাথপুর ও দিরাই উপজেলার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নিশ্চিত করেছেন যে, দালালের মাধ্যমে উন্নত জীবনের আশায় গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে তারা বাড়ি ছেড়েছিলেন।

আরও পড়ুন  উত্তরায় দাঁড়িয়ে থাকা বাসে আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা

দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকার জানিয়েছেন, জীবিত উদ্ধার হওয়াদের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনও স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে। সাগরপথে এই অনিয়মিত অভিবাসনের ভয়াবহ পরিণতি আবারও এক শোকাতুর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইউরোপ যাওয়ার পথে সলিল সমাধি: গ্রিস উপকূলে সুনামগঞ্জের ১০ প্রাণহানি

আপডেট সময় ০৫:০৬:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

 

লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিস যাওয়ার পথে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১৮ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ১০ জনই সুনামগঞ্জের বাসিন্দা। গত শুক্রবার রাতে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছে এই ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে জগন্নাথপুর উপজেলার ৫ জন, দিরাই উপজেলার ৪ জন এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার ১ জন রয়েছেন। গ্রিক কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, তারা ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে, যাদের মধ্যে ২১ জনই বাংলাদেশি।

নিহতদের স্বজনরা জানিয়েছেন, গত ২৩ মার্চ ৪৩ জন যাত্রী নিয়ে নৌযানটি লিবিয়া থেকে গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। পথিমধ্যে দিক হারিয়ে ফেলায় টানা পাঁচ-ছয় দিন সাগরে ভাসতে থাকে যানটি। দীর্ঘ সময় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে একে একে প্রাণ হারান অনেক যাত্রী। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নৌযানে থাকা যাত্রীদের মৃত্যু হওয়ার পর দুই দিন ধরে মরদেহগুলো সেখানেই ছিল। পরবর্তীতে পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে বাধ্য হয়ে মরদেহগুলো সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।
নিহতদের মধ্যে জগন্নাথপুরের ইজাজুল হক, মো. নাঈম, শায়েক আহমেদ, আমিনুর রহমান ও মোহাম্মদ আলী এবং দিরাইয়ের মো. নূরুজ্জামান, সাজিদুর রহমান, সাহান এহিয়া ও মুজিবুর রহমানসহ দোয়ারাবাজারের আবু ফাহিমের নাম শনাক্ত করা গেছে।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে সুনামগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোতে। জগন্নাথপুর ও দিরাই উপজেলার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নিশ্চিত করেছেন যে, দালালের মাধ্যমে উন্নত জীবনের আশায় গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে তারা বাড়ি ছেড়েছিলেন।

আরও পড়ুন  ইউরোপকে ইরানের হুঁশিয়ারি।

দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকার জানিয়েছেন, জীবিত উদ্ধার হওয়াদের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনও স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে। সাগরপথে এই অনিয়মিত অভিবাসনের ভয়াবহ পরিণতি আবারও এক শোকাতুর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।