নতুন সরকারের কাছে নিরাপত্তা ও বিনিয়োগ সহযোগিতার বার্তা যুক্তরাষ্ট্রের
- আপডেট সময় ০২:০৬:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 32
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের পরবর্তী সরকারের সঙ্গে সামরিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা জোরদারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন নতুন করে কৌশলগত তৎপরতা বাড়াচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা চাহিদা পূরণে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামরিক সরঞ্জাম বিকল্প হিসেবে প্রস্তাব করা হতে পারে। চীনা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমাতে সম্ভাব্য বিকল্প তুলে ধরতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী বলেও জানান তিনি। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি রাষ্ট্রদূত।
২০২৪ সালের আগস্টে জেন-জি নেতৃত্বাধীন এক গণআন্দোলনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিবর্তন আসে। হাসিনা দেশত্যাগ করে ভারতে অবস্থান নেওয়ার পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়ে বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে চীনের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে পশ্চিমা কূটনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
সম্প্রতি ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকায় ড্রোন কারখানা স্থাপনে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি পশ্চিমা মহলে উদ্বেগের কারণ হয়েছে। পাশাপাশি চীন ও পাকিস্তানের যৌথ উদ্যোগে তৈরি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে বাংলাদেশ আলোচনা চালাচ্ছে বলেও জানা গেছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, বাংলাদেশ ও চীনের সহযোগিতা পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে এবং এটি কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয়। তারা এ সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাইরের হস্তক্ষেপ মেনে নেবে না বলেও জানিয়েছে।
রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন আরও বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্ক দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে, যার প্রভাব ভিসা কার্যক্রম ও ক্রীড়া বিনিময়েও পড়েছে।
বাণিজ্যিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বেশ কিছু মার্কিন কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাই করছে। তবে তারা প্রত্যাশা করছে, নতুন সরকার স্পষ্টভাবে ব্যবসাবান্ধব নীতি তুলে ধরবে। বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণকে যুক্তরাষ্ট্র অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানান তিনি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যে অগ্রগতি হয়েছে, তা নতুন সরকারের সঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত।
বর্তমানে জ্বালানি প্রতিষ্ঠান শেভরন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে কার্যক্রম চালালেও অন্যান্য বড় মার্কিন ব্র্যান্ডের উপস্থিতি সীমিত। উচ্চ করহার ও মুনাফা দেশে ফেরত পাঠানোর জটিলতা বিনিয়োগে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে বলে বিশ্লেষকদের মত। বাংলাদেশে এখনো স্টারবাকস বা ম্যাকডোনাল্ডসের মতো ব্র্যান্ডের কার্যক্রম শুরু হয়নি।
রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশের জনগণ যে সরকারই নির্বাচিত করুক না কেন, যুক্তরাষ্ট্র সেই সরকারের সঙ্গে কাজ করবে।
রোহিঙ্গা শরণার্থী ইস্যুতেও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রিত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার মানবিক সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র এখনো সর্ববৃহৎ দাতা দেশ। স্বাস্থ্য ও মানবিক সহায়তা কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি। সম্প্রতি জাতিসংঘের সঙ্গে ২০০ কোটি ডলারের একটি বৈশ্বিক তহবিল কাঠামোতে স্বাক্ষরের কথাও উল্লেখ করেন, যা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে সহায়তা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ক্রিস্টেনসেন বলেন, এই দায়িত্ব এককভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়; বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব জরুরি।


























