ঢাকা ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রিজেন্টের সেই সাহেদ ফের গ্রেপ্তার সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন

পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট ও স্ত্রীকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:৪৩:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৫
  • / 439

ছবি সংগৃহীত

 

পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট ওলান্টা হুমালা এবং তার স্ত্রী নাদিন হেরেদিয়াকে অর্থ পাচারের দায়ে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। দীর্ঘ তিন বছরের বেশি সময় বিচার প্রক্রিয়া চলার পর মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) লিমার একটি আদালত এই বহুল প্রত্যাশিত রায় ঘোষণা করে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বুধবার (১৬ এপ্রিল) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আদালতের রায়ে বলা হয়, হুমালা ২০০৬ ও ২০১১ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ব্রাজিলের একটি নির্মাণ কোম্পানি থেকে অবৈধভাবে তহবিল গ্রহণ করেছিলেন। এই অর্থ তিনি নিজের নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহার করেন। হুমালার স্ত্রী নাদিন হেরেদিয়াও এই তহবিল পাচার প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য, হেরেদিয়া তার স্বামীর সঙ্গে মিলে ‘জাতীয়তাবাদী দল’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

আরও পড়ুন  অবৈধ সম্পদের মালিক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সেই সাবেক গাড়িচালক আব্দুল মালেকের ১৩ বছরের কারাদণ্ড

রায় ঘোষণার সময় সাবেক প্রেসিডেন্ট হুমালা আদালতে উপস্থিত থাকলেও, তার স্ত্রী ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন। তবে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে তারা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।

পেরুর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা যায়, রায় ঘোষণার আগে হেরেদিয়া ব্রাজিলে রাজনৈতিক আশ্রয় পান এবং বর্তমানে তিনি তার ছেলেসহ সেখানেই অবস্থান করছেন।

প্রসিকিউটররা হুমালার জন্য ২০ বছর এবং হেরেদিয়ার জন্য ২৬ বছর ছয় মাসের কারাদণ্ডের আবেদন করেছিল। তবে আদালত দুজনকেই ১৫ বছর করে কারাদণ্ড প্রদান করে।

সাবেক সামরিক কর্মকর্তা ওলান্টা হুমালা ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পেরুর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাজনীতিতে প্রবেশের আগে তিনি সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। ২০০৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি অংশ নেন এবং তৎকালীন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় রাজনৈতিক জোট গড়ে তোলেন। তখনও তার বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছিল।

এই রায় পেরুতে রাজনীতিতে দুর্নীতি ও অবৈধ অর্থের ব্যবহার নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দেশটির নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যম এই রায়কে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট ও স্ত্রীকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড

আপডেট সময় ০১:৪৩:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৫

 

পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট ওলান্টা হুমালা এবং তার স্ত্রী নাদিন হেরেদিয়াকে অর্থ পাচারের দায়ে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। দীর্ঘ তিন বছরের বেশি সময় বিচার প্রক্রিয়া চলার পর মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) লিমার একটি আদালত এই বহুল প্রত্যাশিত রায় ঘোষণা করে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বুধবার (১৬ এপ্রিল) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আদালতের রায়ে বলা হয়, হুমালা ২০০৬ ও ২০১১ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ব্রাজিলের একটি নির্মাণ কোম্পানি থেকে অবৈধভাবে তহবিল গ্রহণ করেছিলেন। এই অর্থ তিনি নিজের নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহার করেন। হুমালার স্ত্রী নাদিন হেরেদিয়াও এই তহবিল পাচার প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য, হেরেদিয়া তার স্বামীর সঙ্গে মিলে ‘জাতীয়তাবাদী দল’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

আরও পড়ুন  আশুগঞ্জে অবৈধ সীসা কারখানায় অভিযান, তিন চীনা নাগরিকসহ ৬ জনের কারাদণ্ড

রায় ঘোষণার সময় সাবেক প্রেসিডেন্ট হুমালা আদালতে উপস্থিত থাকলেও, তার স্ত্রী ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন। তবে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে তারা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।

পেরুর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা যায়, রায় ঘোষণার আগে হেরেদিয়া ব্রাজিলে রাজনৈতিক আশ্রয় পান এবং বর্তমানে তিনি তার ছেলেসহ সেখানেই অবস্থান করছেন।

প্রসিকিউটররা হুমালার জন্য ২০ বছর এবং হেরেদিয়ার জন্য ২৬ বছর ছয় মাসের কারাদণ্ডের আবেদন করেছিল। তবে আদালত দুজনকেই ১৫ বছর করে কারাদণ্ড প্রদান করে।

সাবেক সামরিক কর্মকর্তা ওলান্টা হুমালা ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পেরুর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাজনীতিতে প্রবেশের আগে তিনি সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। ২০০৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি অংশ নেন এবং তৎকালীন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় রাজনৈতিক জোট গড়ে তোলেন। তখনও তার বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছিল।

এই রায় পেরুতে রাজনীতিতে দুর্নীতি ও অবৈধ অর্থের ব্যবহার নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দেশটির নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যম এই রায়কে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছে।