হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন
- আপডেট সময় ০৮:৪৭:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
- / 37
জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও রংপুর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় তাঁর নিজ বাসভবনে অভিযান চালিয়ে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়। ডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রংপুরে সংঘটিত একটি হত্যা মামলার আসামি হিসেবে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ডিবি কার্যালয়ে স্থানান্তর ও মামলার প্রেক্ষাপট
পুলিশ সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, গ্রেপ্তারের পরপরই সাবেক স্পিকারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শিরীন শারমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলাসহ বর্তমানে অন্তত দুটি সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি মামলা রয়েছে। জুলাই ও আগস্ট মাসে সংঘটিত গণ-আন্দোলন কেন্দ্রিক সহিংসতার একটি মামলায় তাঁকে প্রাথমিকভাব গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
রংপুরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী হত্যায় নামীয় আসামি
সাবেক এই স্পিকারের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগটি এসেছে গত ২৭ আগস্ট রংপুরের একটি আদালত থেকে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রংপুর সিটি বাজার এলাকায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ছাত্র-জনতার ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী মুসলিম উদ্দিন নৃশংসভাবে নিহত হন।
নিহত মুসলিম উদ্দিনের পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলার আরজিতে দাবি করা হয়েছে, তৎকালীন সংসদ সদস্য শিরীন শারমিন চৌধুরীর নির্দেশেই আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীরা এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে। মামলার বাদীপক্ষ মুসলিম উদ্দিনের মৃত্যুর জন্য সাবেক স্পিকারকে সরাসরি হুকুমদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করেছেন।
শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল প্রথমবার জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন। এরপর থেকে টানা চার মেয়াদে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তিনি রংপুর-৬ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হয়েছিলেন।
জুলাই মাসে শুরু হওয়া ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায়, গত ২ সেপ্টেম্বর তিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকারের পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই তিনি লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিলেন বলে জানা যায়।


























