ঢাকা ০২:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

এক টাকা জরিমানা, পরিশোধ করতে যেতে হয় ব্যাংকে

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৩৫:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
  • / 20

ছবি: সংগৃহীত

প্রযুক্তির যুগে যেখানে অধিকাংশ সেবা অনলাইননির্ভর হয়ে উঠছে, সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে এখনো বহাল রয়েছে এক ব্যতিক্রমী নিয়ম। বই ফেরত দিতে দেরি হলে মাত্র এক টাকা জরিমানা দিতে হয়, আর সেই অর্থ জমা দেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের যেতে হয় ব্যাংকে। সম্প্রতি এক শিক্ষার্থীর এমন অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাবিলা হক নিজের ফেসবুক পোস্টে এক টাকা জরিমানা দেওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান পাঠাগার থেকে নেওয়া বই নির্ধারিত সময়ের আট দিন পর জমা দিতে গেলে তাকে এই জরিমানা করা হয়।

জরিমানার অর্থ পরিশোধের জন্য তাকে যেতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকার জনতা ব্যাংকের শাখায়।

আরও পড়ুন  অটোপাইলট দুর্ঘটনায় টেসলার বিরুদ্ধে ২৪৩ মিলিয়ন ডলারের জরিমানা

নাবিলার পোস্টের সঙ্গে জরিমানা আদায়ের একটি ফরমের ছবিও যুক্ত করা হয়েছে। সেখানে শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত পরিচিতি, বিভাগ, হল ও গ্রন্থাগার কার্ডের তথ্যের পাশাপাশি জরিমানার পরিমাণ হিসেবে এক টাকা উল্লেখ রয়েছে। ফরমটিতে গত ৩ নভেম্বর সংশ্লিষ্ট গ্রন্থাগার কর্মকর্তার স্বাক্ষরও রয়েছে।

নাবিলা জানান, পূজার ছুটির আগে তিনি বিজ্ঞান পাঠাগার থেকে বই নিয়েছিলেন। বই জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ২২ তারিখ। তবে ৩ তারিখে বই ফেরত দিতে গেলে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ায় তাকে এক টাকা জরিমানা করা হয়।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, নিজের হল কাছাকাছি হওয়ায় ব্যাংকে গিয়ে টাকা জমা দিতে তার তেমন অসুবিধা হয়নি। তবে অন্য কোনো হলে থাকলে বিজ্ঞান পাঠাগার থেকে জনতা ব্যাংকের শাখায় গিয়ে জরিমানা পরিশোধ করা বেশ ঝামেলার হতো।

জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের অধীনেই পরিচালিত হয় বিজ্ঞান পাঠাগার। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও এর অধীন পাঠাগারগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে জরিমানা আদায়ের এই পদ্ধতি চালু রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও বিভাগের গ্রন্থাগার অবশ্য নিজস্ব নিয়মে পরিচালিত হয়।

অন্যদিকে, এক টাকার কাগুজে নোট এখন সচরাচর লেনদেনে দেখা না গেলেও এক টাকার ধাতব মুদ্রা এখনো প্রচলিত রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৫ সালের ২৯ মে ঘোষিত নতুন নকশার ব্যাংক নোটের তালিকায় এক টাকার নোট রাখা হয়নি।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার পরিচালক অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তাক গাউসুল বলেন, এক টাকা জরিমানা হলেও ব্যাংকে জমা দিতে হয়—বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। কাগজপত্র পর্যালোচনা করে তিনি জানতে পেরেছেন, জরিমানা আদায়ের এই নিয়ম ১৯৭৫ সাল কিংবা স্বাধীনতার আগের সময় থেকে চলে আসছে।
তিনি আরও বলেন, সামনে গ্রন্থাগার কমিটির সভা রয়েছে। সেখানে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন তিনি। জরিমানার পরিমাণ সামান্য হওয়ায় ভবিষ্যতে অনলাইনে অর্থ জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায় কি না, সে বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবছেন।

গ্রন্থাগারের নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের পর বই জমা দেওয়া কিংবা বই হারিয়ে ফেললে জরিমানাসহ বিভিন্ন বিধান রয়েছে। পুরোনো বইয়ের ক্ষেত্রে হিসাবের পদ্ধতিও আলাদা। পরিচালক জানান, কোনো সাম্প্রতিক বই হারিয়ে গেলে তার মূল্য পরিশোধের সুযোগ থাকলেও ১৯৬০ সালের মতো পুরোনো বইয়ের গায়ে যদি ৫০ পয়সা দাম লেখা থাকে, তাহলে সেটির জন্য আলাদা নিয়ম অনুসরণ করতে হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

এক টাকা জরিমানা, পরিশোধ করতে যেতে হয় ব্যাংকে

আপডেট সময় ১১:৩৫:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

প্রযুক্তির যুগে যেখানে অধিকাংশ সেবা অনলাইননির্ভর হয়ে উঠছে, সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে এখনো বহাল রয়েছে এক ব্যতিক্রমী নিয়ম। বই ফেরত দিতে দেরি হলে মাত্র এক টাকা জরিমানা দিতে হয়, আর সেই অর্থ জমা দেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের যেতে হয় ব্যাংকে। সম্প্রতি এক শিক্ষার্থীর এমন অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাবিলা হক নিজের ফেসবুক পোস্টে এক টাকা জরিমানা দেওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান পাঠাগার থেকে নেওয়া বই নির্ধারিত সময়ের আট দিন পর জমা দিতে গেলে তাকে এই জরিমানা করা হয়।

জরিমানার অর্থ পরিশোধের জন্য তাকে যেতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকার জনতা ব্যাংকের শাখায়।

আরও পড়ুন  খেলাপি ঋণ ৪ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা, চাপ বাড়ছে ব্যাংক খাতে: বাংলাদেশ ব্যাংক

নাবিলার পোস্টের সঙ্গে জরিমানা আদায়ের একটি ফরমের ছবিও যুক্ত করা হয়েছে। সেখানে শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত পরিচিতি, বিভাগ, হল ও গ্রন্থাগার কার্ডের তথ্যের পাশাপাশি জরিমানার পরিমাণ হিসেবে এক টাকা উল্লেখ রয়েছে। ফরমটিতে গত ৩ নভেম্বর সংশ্লিষ্ট গ্রন্থাগার কর্মকর্তার স্বাক্ষরও রয়েছে।

নাবিলা জানান, পূজার ছুটির আগে তিনি বিজ্ঞান পাঠাগার থেকে বই নিয়েছিলেন। বই জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ২২ তারিখ। তবে ৩ তারিখে বই ফেরত দিতে গেলে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ায় তাকে এক টাকা জরিমানা করা হয়।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, নিজের হল কাছাকাছি হওয়ায় ব্যাংকে গিয়ে টাকা জমা দিতে তার তেমন অসুবিধা হয়নি। তবে অন্য কোনো হলে থাকলে বিজ্ঞান পাঠাগার থেকে জনতা ব্যাংকের শাখায় গিয়ে জরিমানা পরিশোধ করা বেশ ঝামেলার হতো।

জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের অধীনেই পরিচালিত হয় বিজ্ঞান পাঠাগার। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও এর অধীন পাঠাগারগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে জরিমানা আদায়ের এই পদ্ধতি চালু রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও বিভাগের গ্রন্থাগার অবশ্য নিজস্ব নিয়মে পরিচালিত হয়।

অন্যদিকে, এক টাকার কাগুজে নোট এখন সচরাচর লেনদেনে দেখা না গেলেও এক টাকার ধাতব মুদ্রা এখনো প্রচলিত রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৫ সালের ২৯ মে ঘোষিত নতুন নকশার ব্যাংক নোটের তালিকায় এক টাকার নোট রাখা হয়নি।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার পরিচালক অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তাক গাউসুল বলেন, এক টাকা জরিমানা হলেও ব্যাংকে জমা দিতে হয়—বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। কাগজপত্র পর্যালোচনা করে তিনি জানতে পেরেছেন, জরিমানা আদায়ের এই নিয়ম ১৯৭৫ সাল কিংবা স্বাধীনতার আগের সময় থেকে চলে আসছে।
তিনি আরও বলেন, সামনে গ্রন্থাগার কমিটির সভা রয়েছে। সেখানে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন তিনি। জরিমানার পরিমাণ সামান্য হওয়ায় ভবিষ্যতে অনলাইনে অর্থ জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায় কি না, সে বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবছেন।

গ্রন্থাগারের নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের পর বই জমা দেওয়া কিংবা বই হারিয়ে ফেললে জরিমানাসহ বিভিন্ন বিধান রয়েছে। পুরোনো বইয়ের ক্ষেত্রে হিসাবের পদ্ধতিও আলাদা। পরিচালক জানান, কোনো সাম্প্রতিক বই হারিয়ে গেলে তার মূল্য পরিশোধের সুযোগ থাকলেও ১৯৬০ সালের মতো পুরোনো বইয়ের গায়ে যদি ৫০ পয়সা দাম লেখা থাকে, তাহলে সেটির জন্য আলাদা নিয়ম অনুসরণ করতে হয়।