ঢাকা ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের পথ ধরে জরুরি খাদ্য মজুতের নির্দেশ দিল জাপান

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:০৯:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • / 30

ছবি সংগৃহীত

 

প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সাইবার হামলা কিংবা আকস্মিক বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মতো জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে নাগরিকদের ঘরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মজুত রাখার পরামর্শ দেওয়ার ক্ষেত্রে এবার নতুন করে যুক্ত হলো জাপান। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের দেখাদেখি পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিও নাগরিকদের ঘরে খাদ্য ও পানি সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে।

সম্প্রতি জাপানের সদ্যগঠিত ‘ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি’ (জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা) এক নির্দেশনায় প্রতিটি পরিবারকে তাদের আসবাবপত্র নিরাপদ স্থানে স্থাপন, পর্যাপ্ত পানি ও খাবার মজুত করা এবং নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রগুলো সম্পর্কে আগাম ধারণা রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসনে শীর্ষে ভারত, ফিরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা সীমিত

মর্যাদাপূর্ণ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য জাপান টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই সংস্থার পক্ষ থেকে নাগরিকদের অন্তত তিন দিন এবং সম্ভব হলে এক সপ্তাহ পর্যন্ত খাওয়ার পানি ও খাবার ঘরে সংরক্ষণ করার সুপারিশ করা হয়েছে। যেকোনো দুর্যোগের ঝুঁকি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

সংস্থাটির প্রথম প্রধান গোশি হোসোনো এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্পষ্ট করে জানান, যেকোনো বড় ধরনের বিপর্যয়ের সময় একার পক্ষে কেন্দ্রীয় বা স্থানীয় সরকারের পক্ষে সব দায়িত্ব পালন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই নাগরিকদের নিজেদের সুরক্ষার স্বার্থেই ব্যক্তিগতভাবে প্রস্তুতি নিয়ে রাখা উচিত। বিশেষ করে ‘নানকাই ট্রফ’-এ বড় ধরনের ভূমিকম্পের সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে জাপানকে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দুর্যোগ সহনশীল রাষ্ট্রে রূপান্তর করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এদিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানাই তাকাইচি এই নতুন সংস্থার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কাজের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর তাগিদ দেন। তিনি এই সংস্থাকে একটি ‘শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণকক্ষ’ হিসেবে অভিহিত করেন। পূর্বের কাঠামোর চেয়ে প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি অর্থাৎ মোট ৩৫২ জন দক্ষ কর্মী নিয়ে সংস্থাটি যেকোনো জরুরি উদ্ধারকাজ, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং পুনর্গঠন কার্যক্রম তদারকি করবে।

উল্লেখ্য, এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন নাগরিকদের অন্তত ৭২ ঘণ্টার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হাতের কাছে রাখার পরামর্শ দিয়েছিল। যুক্তরাজ্যের ‘বি রেডি’ প্রচারণাতেও তিন দিনের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলা হয়। এছাড়া জার্মানি ১০ দিন এবং নরওয়ে ও সুইডেন এক সপ্তাহের খাদ্য ও সামগ্রী মজুতের সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স ও আয়ারল্যান্ডও অনুরূপ নির্দেশিকা জারি করেছে।

সাধারণত এই ধরনের জরুরি মজুত তালিকার মধ্যে থাকে— নিরাপদ খাওয়ার পানি, সহজে নষ্ট হয় না এমন শুকনো খাবার, জরুরি ওষুধপত্র, টর্চলাইট, অতিরিক্ত ব্যাটারি, প্রাথমিক চিকিৎসার বাক্স (ফার্স্ট এইড কিট), নগদ অর্থ এবং পাওয়ার ব্যাংক। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সতর্কবার্তা কোনো আসন্ন বিশ্বযুদ্ধের ইঙ্গিত বহন করে না; বরং জাপানের ভূমিকম্পের ঝুঁকি কিংবা ইউরোপের চরম আবহাওয়া ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ দক্ষতার সাথে মোকাবিলা করার জন্যই এই ধরনের পূর্বপ্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের পথ ধরে জরুরি খাদ্য মজুতের নির্দেশ দিল জাপান

আপডেট সময় ০২:০৯:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

 

প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সাইবার হামলা কিংবা আকস্মিক বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মতো জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে নাগরিকদের ঘরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মজুত রাখার পরামর্শ দেওয়ার ক্ষেত্রে এবার নতুন করে যুক্ত হলো জাপান। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের দেখাদেখি পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিও নাগরিকদের ঘরে খাদ্য ও পানি সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে।

সম্প্রতি জাপানের সদ্যগঠিত ‘ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি’ (জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা) এক নির্দেশনায় প্রতিটি পরিবারকে তাদের আসবাবপত্র নিরাপদ স্থানে স্থাপন, পর্যাপ্ত পানি ও খাবার মজুত করা এবং নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রগুলো সম্পর্কে আগাম ধারণা রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

আরও পড়ুন  ইউক্রেনের জন্য অস্ত্র সহায়তা স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র, উদ্বেগ বাড়ছে প্রতিরক্ষায়

মর্যাদাপূর্ণ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য জাপান টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই সংস্থার পক্ষ থেকে নাগরিকদের অন্তত তিন দিন এবং সম্ভব হলে এক সপ্তাহ পর্যন্ত খাওয়ার পানি ও খাবার ঘরে সংরক্ষণ করার সুপারিশ করা হয়েছে। যেকোনো দুর্যোগের ঝুঁকি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

সংস্থাটির প্রথম প্রধান গোশি হোসোনো এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্পষ্ট করে জানান, যেকোনো বড় ধরনের বিপর্যয়ের সময় একার পক্ষে কেন্দ্রীয় বা স্থানীয় সরকারের পক্ষে সব দায়িত্ব পালন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই নাগরিকদের নিজেদের সুরক্ষার স্বার্থেই ব্যক্তিগতভাবে প্রস্তুতি নিয়ে রাখা উচিত। বিশেষ করে ‘নানকাই ট্রফ’-এ বড় ধরনের ভূমিকম্পের সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে জাপানকে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দুর্যোগ সহনশীল রাষ্ট্রে রূপান্তর করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এদিকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানাই তাকাইচি এই নতুন সংস্থার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কাজের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর তাগিদ দেন। তিনি এই সংস্থাকে একটি ‘শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণকক্ষ’ হিসেবে অভিহিত করেন। পূর্বের কাঠামোর চেয়ে প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি অর্থাৎ মোট ৩৫২ জন দক্ষ কর্মী নিয়ে সংস্থাটি যেকোনো জরুরি উদ্ধারকাজ, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং পুনর্গঠন কার্যক্রম তদারকি করবে।

উল্লেখ্য, এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন নাগরিকদের অন্তত ৭২ ঘণ্টার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হাতের কাছে রাখার পরামর্শ দিয়েছিল। যুক্তরাজ্যের ‘বি রেডি’ প্রচারণাতেও তিন দিনের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলা হয়। এছাড়া জার্মানি ১০ দিন এবং নরওয়ে ও সুইডেন এক সপ্তাহের খাদ্য ও সামগ্রী মজুতের সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স ও আয়ারল্যান্ডও অনুরূপ নির্দেশিকা জারি করেছে।

সাধারণত এই ধরনের জরুরি মজুত তালিকার মধ্যে থাকে— নিরাপদ খাওয়ার পানি, সহজে নষ্ট হয় না এমন শুকনো খাবার, জরুরি ওষুধপত্র, টর্চলাইট, অতিরিক্ত ব্যাটারি, প্রাথমিক চিকিৎসার বাক্স (ফার্স্ট এইড কিট), নগদ অর্থ এবং পাওয়ার ব্যাংক। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সতর্কবার্তা কোনো আসন্ন বিশ্বযুদ্ধের ইঙ্গিত বহন করে না; বরং জাপানের ভূমিকম্পের ঝুঁকি কিংবা ইউরোপের চরম আবহাওয়া ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ দক্ষতার সাথে মোকাবিলা করার জন্যই এই ধরনের পূর্বপ্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।