ঢাকা ১২:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

গাজীপুরে ফের মহাসড়ক অবরোধ করে শ্রমিক বিক্ষোভ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৪৭:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • / 24

ছবি: সংগৃহীত

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করা হলেও সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল থেকে কোনাবাড়ী, সফিপুর, মৌচাক ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা মহাসড়কের একাধিক স্থানে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করছেন। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানার প্রবেশপথেও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ ও শিল্প পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

শ্রমিক অসন্তোষের কারণে সোমবার সকাল ৮টা থেকে কোনাবাড়ী, সফিপুর, মৌচাক ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার বিভিন্ন কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে কতটি কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি শিল্প পুলিশ।

আরও পড়ুন  গাজীপুরে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে মা ও দুই সন্তানের মৃত্যু

বিক্ষোভরত শ্রমিকরা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম বেড়েছে। একটি গ্যাস সিলিন্ডার কিনতেই খরচ হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ টাকা। তাদের দাবি, শুধু মজুরি বোর্ড গঠন করলেই হবে না, বেতন কত নির্ধারণ করা হয়েছে, তা ঘোষণা করতে হবে। সর্বনিম্ন মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানান তারা।

শ্রমিকদের ভাষ্য, তারা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করেছেন। কারখানা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বহিরাগতরা জড়িত বলে দাবি করেন তারা। শ্রমিকদের মধ্যে ঢুকে বহিরাগতরা পরিস্থিতি অশান্ত করেছে বলেও অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের কারণে রোববার গাজীপুরের শতাধিক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। সোমবারও বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক বিক্ষোভ চলছে। তবে এদিন কতটি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, সে তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

এর আগে রোববার সকাল থেকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী, কাশিমপুর, মৌচাক, সফিপুর, চন্দ্রা ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিভিন্ন স্থানে মহাসড়ক অবরোধ করা হলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কয়েকটি স্থানে শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

কোনাবাড়ী এলাকায় একটি পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার কয়েকটি স্থানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন স্থানে যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজীপুরে ফের মহাসড়ক অবরোধ করে শ্রমিক বিক্ষোভ

আপডেট সময় ১০:৪৭:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করা হলেও সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল থেকে কোনাবাড়ী, সফিপুর, মৌচাক ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা মহাসড়কের একাধিক স্থানে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করছেন। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানার প্রবেশপথেও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ ও শিল্প পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

শ্রমিক অসন্তোষের কারণে সোমবার সকাল ৮টা থেকে কোনাবাড়ী, সফিপুর, মৌচাক ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার বিভিন্ন কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে কতটি কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি শিল্প পুলিশ।

আরও পড়ুন  মজুরি ৩০ হাজারের দাবিতে মিরপুরে শ্রমিকদের অবরোধ

বিক্ষোভরত শ্রমিকরা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম বেড়েছে। একটি গ্যাস সিলিন্ডার কিনতেই খরচ হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ টাকা। তাদের দাবি, শুধু মজুরি বোর্ড গঠন করলেই হবে না, বেতন কত নির্ধারণ করা হয়েছে, তা ঘোষণা করতে হবে। সর্বনিম্ন মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানান তারা।

শ্রমিকদের ভাষ্য, তারা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করেছেন। কারখানা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বহিরাগতরা জড়িত বলে দাবি করেন তারা। শ্রমিকদের মধ্যে ঢুকে বহিরাগতরা পরিস্থিতি অশান্ত করেছে বলেও অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের কারণে রোববার গাজীপুরের শতাধিক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। সোমবারও বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক বিক্ষোভ চলছে। তবে এদিন কতটি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, সে তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

এর আগে রোববার সকাল থেকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী, কাশিমপুর, মৌচাক, সফিপুর, চন্দ্রা ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিভিন্ন স্থানে মহাসড়ক অবরোধ করা হলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কয়েকটি স্থানে শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

কোনাবাড়ী এলাকায় একটি পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার কয়েকটি স্থানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন স্থানে যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।