টাঙ্গাইলে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, গভীর রাতে হাসপাতালে প্রতিমন্ত্রী
- আপডেট সময় ১০:৩৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
- / 30
টাঙ্গাইলে সাড়ে ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, হত্যাচেষ্টা ও গুরুতর জখমের অভিযোগের ঘটনায় গভীর রাতে হাসপাতালে ছুটে গেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। শিশুটির চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত ১২টার দিকে ঢাকা থেকে সরাসরি টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান প্রতিমন্ত্রী। সেখানে চিকিৎসাধীন শিশুটিকে দেখে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। এ সময় শিশুটির মা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী শিশুটির উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন। চিকিৎসার সব খরচ বহনের দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব না হলে প্রয়োজনে শিশুটিকে ঢাকায় নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ঘটনাটিকে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ঘটনাটি জানার পর সবাই মর্মাহত হয়েছেন। এ ধরনের জঘন্য ঘটনা যে ঘটিয়েছে, তার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সব পর্যায়ে ইতোমধ্যে কথা হয়েছে। এ বিষয়ে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়। এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাকে দ্রুত গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে কাজ করছে। আশা করা হচ্ছে, অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।
শিশুটির চিকিৎসা ব্যয় বহনের বিষয়ে তিনি বলেন, এলাকার সংসদ সদস্য হিসেবে শিশুটির চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ তিনি বহন করবেন। টাঙ্গাইলে চিকিৎসা সম্ভব না হলে পরদিনই তাকে ঢাকায় নিয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, যতদূর তিনি শুনেছেন, এ ঘটনার অভিযুক্ত ব্যক্তি মাদকাসক্ত। টাঙ্গাইলকে মাদকমুক্ত করতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নানা উদ্যোগ চলছে। শহরকে নিরাপদ রাখা এবং অপরাধ ও মাদকের বিস্তার কমাতে কাজ করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই বলেও জানান তিনি।
হাসপাতালে এ সময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এইচ এম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবু হানিফ এবং টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মিয়াসহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা।
এ ছাড়া জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুর রহমান সফিক, সদর থানা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী এবং জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে টাঙ্গাইল শহরের কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি এলাকার একটি ভবনের চতুর্থ তলার নির্জন স্থানে শিশুটির ওপর ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। পরিবারের অভিযোগ, শিশুটি চিৎকার করে বাধা দিলে বিপ্লব (২২) নামের অভিযুক্ত ব্যক্তি ইট দিয়ে তার মুখ ও নাকে আঘাত করেন। এতে শিশুটি গুরুতর আহত হয়। পরে এক রিকশাচালক তাকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় শনিবার রাতে ধর্ষণচেষ্টা, হত্যাচেষ্টা ও গুরুতর জখমের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।















