ঢাকা ১০:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

সর্বাত্মক যুদ্ধ ঠেকাতে নীরব কূটনীতি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:৩২:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • / 28

ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকলেও নতুন করে সর্বাত্মক যুদ্ধ এড়াতে নীরবে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন মধ্যস্থতাকারীরা। পাল্টাপাল্টি হুমকি ও সামরিক প্রস্তুতির মধ্যেও দুই দেশের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে ইরানের দাবিগুলো পূরণ না হলে সমঝোতা কঠিন হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা।

রোববার আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। দুই পক্ষই সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মধ্যেই কূটনৈতিক যোগাযোগ নতুন করে আলোচনার পথ খুলে দিয়েছে।

কাতারের মধ্যস্থতায় দুই দিন ধরে চলা আলোচনার পর ইরানি কর্তৃপক্ষ ইঙ্গিত দিয়েছে, তাদের দাবিগুলো কার্যকরভাবে পূরণ করা হলে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব। একই সঙ্গে যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠলে হামলার পরিধি বাড়ানো, এমনকি আগাম আক্রমণ চালানোর প্রস্তুতিও জোরদার করছে তেহরান।

আরও পড়ুন  ঐতিহাসিক বদর দিবস আজ

শনিবার আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘আমরা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। আমরা আমাদের অস্ত্রভান্ডার উন্নত করেছি, দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে উঠেছি এবং নতুন অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছি। আমাদের বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।’

আরাঘচির বক্তব্যের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার জানান, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ‘ভালোভাবেই’ এগোচ্ছে। তবে একই সঙ্গে ইরানি কর্তৃপক্ষকে ‘বিশ্বাসযোগ্য’ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে হামলা চালানো হতে পারে। ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো ক্লাবে আয়োজিত হ্যালোইন পার্টিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আরও বোমা হামলার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের এখনো হয়তো এক বা দুটি স্থাপনা নিয়ে কাজ বাকি আছে, তবে আমরা ১০ মিনিটের মধ্যেই তা সেরে ফেলতে পারি।’

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিও সম্ভাব্য হামলার জবাবে তাৎক্ষণিক পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সেই জবাব কোনো ভৌগোলিক সীমার মধ্যে আবদ্ধ থাকবে না। যেকোনো ধরনের হুমকির দ্রুত জবাব দেওয়ার নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।

বার্তা সংস্থা ইরনার বরাত দিয়ে এপি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের পক্ষ থেকে আসা ‘যেকোনো ধরনের ও পর্যায়ের’ হুমকির তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন খামেনি। এ ক্ষেত্রে কোনো ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা থাকবে না বলেও জানান তিনি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি খামেনিকে। সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এসব মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুগুলোর একটি হালনাগাদ তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিতও পাওয়া যাচ্ছে। শুক্রবার তেহরানে এবং শনিবার কাতারে মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত আলোচনার পর হরমুজ প্রণালি আংশিকভাবে পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের প্রস্তাব বাস্তবায়নের সময়সীমা কমেছে।

আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাঘচি জানান, এ বিষয়ে ইরান আগে সাত দিনের সময়সীমার প্রস্তাব দিয়েছিল। এখন তা কমিয়ে দুই দিন করা হয়েছে।

সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির জ্যেষ্ঠ ফেলো নেগার মোর্তাজাবি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কাতারের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাম্প্রতিক যোগাযোগের বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি।

আল জাজিরাকে মোর্তাজাবি বলেন, ইরান আলোচনায় বেশ কিছু ছাড় আদায়ের চেষ্টা করছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চায়, কোনো ছাড় দেওয়ার আগেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অগ্রগতি হোক। ফলে মূল বিরোধের জায়গা হচ্ছে কোন পক্ষ আগে পদক্ষেপ নেবে এবং দরকষাকষিতে কে কতটা সুবিধা পাবে। উভয় পক্ষই চায়, প্রতিপক্ষ আগে উদ্যোগ নিক।

কাতারের এলএনজিবাহী জাহাজে অজ্ঞাত বস্তুর আঘাত

এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে চলাচলের সময় কাতারের একটি তরল প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী (এলএনজি) ট্যাংকারে ‘অজ্ঞাত বস্তু’ আঘাত হেনেছে। যুদ্ধ শুরুর পর বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সর্বশেষ ঘটনা এটি।

রোববার এক বিবৃতিতে কাতার গ্যাস ট্রান্সপোর্ট কোম্পানি জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় তাদের মালিকানাধীন এলএনজিবাহী জাহাজ ‘আল মায়দা’তে এ আঘাতের ঘটনা ঘটে। এতে কেউ আহত হননি।

ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন এবং ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনসের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ১২০টির বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

সর্বাত্মক যুদ্ধ ঠেকাতে নীরব কূটনীতি

আপডেট সময় ০৮:৩২:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকলেও নতুন করে সর্বাত্মক যুদ্ধ এড়াতে নীরবে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন মধ্যস্থতাকারীরা। পাল্টাপাল্টি হুমকি ও সামরিক প্রস্তুতির মধ্যেও দুই দেশের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে ইরানের দাবিগুলো পূরণ না হলে সমঝোতা কঠিন হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা।

রোববার আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। দুই পক্ষই সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মধ্যেই কূটনৈতিক যোগাযোগ নতুন করে আলোচনার পথ খুলে দিয়েছে।

কাতারের মধ্যস্থতায় দুই দিন ধরে চলা আলোচনার পর ইরানি কর্তৃপক্ষ ইঙ্গিত দিয়েছে, তাদের দাবিগুলো কার্যকরভাবে পূরণ করা হলে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব। একই সঙ্গে যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠলে হামলার পরিধি বাড়ানো, এমনকি আগাম আক্রমণ চালানোর প্রস্তুতিও জোরদার করছে তেহরান।

আরও পড়ুন  যুদ্ধ বন্ধে ইরানকে নতুন প্রস্তাব কাতারের

শনিবার আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘আমরা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। আমরা আমাদের অস্ত্রভান্ডার উন্নত করেছি, দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে উঠেছি এবং নতুন অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছি। আমাদের বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।’

আরাঘচির বক্তব্যের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার জানান, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ‘ভালোভাবেই’ এগোচ্ছে। তবে একই সঙ্গে ইরানি কর্তৃপক্ষকে ‘বিশ্বাসযোগ্য’ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে হামলা চালানো হতে পারে। ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো ক্লাবে আয়োজিত হ্যালোইন পার্টিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আরও বোমা হামলার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের এখনো হয়তো এক বা দুটি স্থাপনা নিয়ে কাজ বাকি আছে, তবে আমরা ১০ মিনিটের মধ্যেই তা সেরে ফেলতে পারি।’

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিও সম্ভাব্য হামলার জবাবে তাৎক্ষণিক পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সেই জবাব কোনো ভৌগোলিক সীমার মধ্যে আবদ্ধ থাকবে না। যেকোনো ধরনের হুমকির দ্রুত জবাব দেওয়ার নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।

বার্তা সংস্থা ইরনার বরাত দিয়ে এপি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের পক্ষ থেকে আসা ‘যেকোনো ধরনের ও পর্যায়ের’ হুমকির তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন খামেনি। এ ক্ষেত্রে কোনো ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা থাকবে না বলেও জানান তিনি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি খামেনিকে। সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এসব মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুগুলোর একটি হালনাগাদ তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিতও পাওয়া যাচ্ছে। শুক্রবার তেহরানে এবং শনিবার কাতারে মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত আলোচনার পর হরমুজ প্রণালি আংশিকভাবে পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের প্রস্তাব বাস্তবায়নের সময়সীমা কমেছে।

আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাঘচি জানান, এ বিষয়ে ইরান আগে সাত দিনের সময়সীমার প্রস্তাব দিয়েছিল। এখন তা কমিয়ে দুই দিন করা হয়েছে।

সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির জ্যেষ্ঠ ফেলো নেগার মোর্তাজাবি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কাতারের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাম্প্রতিক যোগাযোগের বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি।

আল জাজিরাকে মোর্তাজাবি বলেন, ইরান আলোচনায় বেশ কিছু ছাড় আদায়ের চেষ্টা করছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চায়, কোনো ছাড় দেওয়ার আগেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অগ্রগতি হোক। ফলে মূল বিরোধের জায়গা হচ্ছে কোন পক্ষ আগে পদক্ষেপ নেবে এবং দরকষাকষিতে কে কতটা সুবিধা পাবে। উভয় পক্ষই চায়, প্রতিপক্ষ আগে উদ্যোগ নিক।

কাতারের এলএনজিবাহী জাহাজে অজ্ঞাত বস্তুর আঘাত

এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে চলাচলের সময় কাতারের একটি তরল প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী (এলএনজি) ট্যাংকারে ‘অজ্ঞাত বস্তু’ আঘাত হেনেছে। যুদ্ধ শুরুর পর বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সর্বশেষ ঘটনা এটি।

রোববার এক বিবৃতিতে কাতার গ্যাস ট্রান্সপোর্ট কোম্পানি জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় তাদের মালিকানাধীন এলএনজিবাহী জাহাজ ‘আল মায়দা’তে এ আঘাতের ঘটনা ঘটে। এতে কেউ আহত হননি।

ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন এবং ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনসের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ১২০টির বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে।