দিল্লির সমাবেশে জ্ঞানেশ কুমারকে মমতার হুঁশিয়ারি
- আপডেট সময় ০৭:১০:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
- / 22
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে তাঁকে কটাক্ষ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ সমাবেশে তিনি অভিযোগ করেন, ভোট চুরির মাধ্যমে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়েও কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করেন তিনি।
রোববার (১ নভেম্বর) আয়োজিত এ সমাবেশে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টিসহ বিরোধী জোটের বিভিন্ন দলের নেতারা অংশ নেন। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন, নির্বাচনী অনিয়ম এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে মমতা বলেন, তাঁরা নির্বাচনে হারেননি, বরং তাঁদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি ভোট লুট করেছে এবং দেশের গণতন্ত্র কেড়ে নিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের নামে লাখ লাখ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। মমতার ভাষ্য, রাজ্যে এক কোটিরও বেশি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে কটাক্ষ করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, শুধু ভোট নয়, ভোট গণনার প্রক্রিয়াও কার্যত অদৃশ্য করে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি একসঙ্গে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রমের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর দাবি, এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিজেপিকে রাজনৈতিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এতে মানুষের ভোটাধিকার ছাড়াও বাংলার মানুষের চাকরি, সম্মান ও সাংবিধানিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সমাবেশে অংশ নেওয়া বিরোধী নেতাদের ধন্যবাদ জানিয়ে মমতা বলেন, তেজস্বী যাদব, কপিল সিব্বল, অভিষেক মনু সিংভি, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুপ্রিয়া সুলেসহ বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা গণতন্ত্র রক্ষার দাবিতে এক মঞ্চে এসেছেন।
তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষার দায়িত্ব যুবসমাজকে নিতে হবে। প্রয়োজনে অভিভাবক হিসেবে তিনি তরুণদের পথ দেখাবেন। জেন-জি প্রজন্মের প্রতিবাদ ও আন্দোলনের প্রশংসা করে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এ ছাড়া কেন্দ্রীয় সংস্থা ও পুলিশের একাংশকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন মমতা। বিজেপির বিদায়ের সময় ঘনিয়ে এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বক্তব্যের একপর্যায়ে বিপ্লবী কবি রামপ্রসাদ বিসমিলের কবিতার পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানান তৃণমূল নেত্রী।
বিচার বিভাগের প্রতিও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান মমতা। গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটাধিকার রক্ষায় বিচারব্যবস্থাকে সক্রিয় হওয়ার অনুরোধ করেন তিনি।
তবে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ অস্বীকার করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের বক্তব্য, ভুয়া, মৃত এবং একাধিক স্থানে নিবন্ধিত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়াই এ প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য। ভুলবশত কারও নাম বাদ পড়লে পুনরায় নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
সূত্র: ইন্ডিয়া নিউজ, দ্য ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস
























