শ্রমিক আন্দোলনে সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধনের অভিযোগ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
- আপডেট সময় ০২:০০:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
- / 26
পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনে নিরীহ শ্রমিকদের ব্যবহার করে সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দীন আহমদ। আন্দোলনের মধ্যে মুখোশধারী ও সহিংসতাকারীরা ঢুকে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করা হবে।
রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আন্দোলনের নামে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়া, কারখানা ও পাটের গুদামে অগ্নিসংযোগ এবং ভাঙচুরের ঘটনা সহিংসতার বহিঃপ্রকাশ। আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে মুখোশধারীরা ঢুকে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাঁদের কাছে থাকা তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নিরীহ পোশাকশ্রমিকদের ব্যবহার করে সীমান্তের ওপার থেকে অনেকে ইন্ধন জোগাচ্ছে। এর উদ্দেশ্য দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি, রপ্তানি বাণিজ্য ও পোশাকশিল্পের উৎপাদন ব্যাহত করা। এসব কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। ইতোমধ্যে সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন জানিয়ে সালাউদ্দীন আহমদ বলেন, তাঁরা মনে করেন, চলমান সহিংস আন্দোলনের সঙ্গে প্রকৃত শ্রমিক বা শ্রমিক সংগঠনগুলোর সংশ্লিষ্টতা নেই। শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, রোববার মজুরি বোর্ড গঠন করে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। শ্রমিকেরা যাতে পরিবার নিয়ে স্বচ্ছন্দে চলতে পারেন এবং তাঁদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ে, সেসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের আলোচনার ভিত্তিতে মজুরি নির্ধারণ করা হবে। এ পরিস্থিতিতে সহিংস আন্দোলনের কোনো কারণ ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কারখানামালিকদের উৎপাদন চালু রাখার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মালিক ও শ্রমিকপক্ষ আলোচনার মাধ্যমে মজুরি নির্ধারণ করবে। আতঙ্কিত হয়ে হঠাৎ কারখানা বন্ধ করে রপ্তানি খাতে সংকট তৈরি না করার জন্য মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সালাউদ্দীন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্পের প্রতিষ্ঠায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান রয়েছে, যা সবাই স্বীকার করেন। সরকার এ শিল্পের আরও উন্নতি চায়, যাতে রপ্তানি খাত সমৃদ্ধ হয় এবং পোশাকশ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ে।
বাংলাদেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও রপ্তানি কেউ বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।




















