ঢাকা ০২:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

ইসরাইলের নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ, সরকার গঠনে জটিল সমীকরণে নেতানিয়াহু

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৫১:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  • / 32

ছবি : সংগৃহীত

ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন (সিইসি)। এতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোট বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, নেতানিয়াহুপন্থি জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুবিরোধী জোটের আসন ৪৮টি। আরব দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন। ফলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোনো পক্ষই অর্জন করতে পারেনি।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ভোরে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দেশটিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ, যা কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি। মোট ভোট দিয়েছেন ৫৭ লাখ ১৬ হাজার ৬৬৫ জন।

চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি পেয়েছে ২৭টি আসন। ইয়াশার পার্টি পেয়েছে ২১টি, বি’ইয়াচাদ ১২টি, জয়েন্ট লিস্ট ১১টি, দ্য ডেমোক্র্যাটস ৮টি এবং রা’আম ৮টি আসন। এ ছাড়া ইসরাইল বেইতেনু, ইউনাইটেড তোরাহ জুদাইজম ও ওতজমা ইয়েহুদিত পেয়েছে ৭টি করে আসন। শাস ও রিলিজিয়াস জায়োনিজম পেয়েছে ৬টি করে আসন।

আরও পড়ুন  গাজার স্কুলে ইসরাইলের বোমা হামলা, নিহত অন্তত ২০

নির্বাচনে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোটের বাধা অতিক্রম করতে পারেনি কয়েকটি দল। ইয়োয়াজ হেন্ডেলের রিজার্ভিস্টস-ইকোনমিক পার্টি পেয়েছে ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ ভোট। ওফের উইন্টারের পিপল অব ইসরাইল পার্টি পেয়েছে ১ দশমিক ৭ শতাংশ। আর দেশটির অতি-রক্ষণশীল ইহুদি সম্প্রদায়ের বিকল্প রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরা চারেদি পাবলিক পার্টি পেয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ২ শতাংশ ভোট।

চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা গেছে, আগের পার্লামেন্টের তুলনায় নেতানিয়াহুপন্থি জোটের আসন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিদায়ী নেসেটে ক্ষমতাসীন জোটের আসন ছিল ৬৮টি। এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫৩টিতে।

অন্যদিকে আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম পার্টি সম্মিলিতভাবে পেয়েছে ১৯টি আসন। ইসরাইলের নির্বাচনি ইতিহাসে আরব দলগুলোর এটিই সর্বোচ্চ আসনসংখ্যা। আগের পার্লামেন্টে দল দুটির আসন ছিল ১০টি। ফলে সরকার গঠনের সমীকরণে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে জায়োনিস্ট জোটের সদস্যরা রা’আম বা জয়েন্ট লিস্টের সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। এতে নেতানিয়াহুবিরোধী শিবিরের জন্য ওই আসনগুলো কাজে লাগানো কঠিন হতে পারে।

নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল আগামী বুধবার প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে কোনো ভুল বা অভিযোগ থাকলে তা পর্যালোচনা করবে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন। ফল জমা দেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে দলগুলোর সুপারিশ শুনবেন তিনি।

এদিকে নির্বাচন ঘিরে কারচুপির অভিযোগও সামনে এসেছে। কাতারের সম্ভাব্য প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টার বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশের পর ভোট জালিয়াতির অভিযোগ নাকচ করেছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন।

শুক্রবার ভোরে দেওয়া এক বিবৃতিতে কমিশন জানায়, ভোটে ব্যাপক অনিয়মের যেসব খবর প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। কমিশনের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডিন লিভনে বলেন, তদন্তের ফল প্রেসিডেন্টের কাছে জমা দেওয়া চূড়ান্ত ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলবে না। এ তদন্ত কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করেও পরিচালিত হচ্ছে না।

আগামী ১০ নভেম্বর ইসরাইলের নতুন পার্লামেন্ট নেসেটের শপথ গ্রহণের কথা রয়েছে। তবে নতুন সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা জটিল হতে পারে। এ প্রক্রিয়া দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোনো পক্ষের হাতেই নেই।

বুধবার প্রেসিডেন্ট হারজগ রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন। আরেকটি নির্বাচন এড়াতে সবাইকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তার সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা খোলা মন নিয়ে আলোচনায় বসবেন বলেও প্রত্যাশা করেন প্রেসিডেন্ট।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইসরাইল

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসরাইলের নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ, সরকার গঠনে জটিল সমীকরণে নেতানিয়াহু

আপডেট সময় ১২:৫১:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন (সিইসি)। এতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোট বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, নেতানিয়াহুপন্থি জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুবিরোধী জোটের আসন ৪৮টি। আরব দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন। ফলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোনো পক্ষই অর্জন করতে পারেনি।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ভোরে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দেশটিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ, যা কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি। মোট ভোট দিয়েছেন ৫৭ লাখ ১৬ হাজার ৬৬৫ জন।

চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি পেয়েছে ২৭টি আসন। ইয়াশার পার্টি পেয়েছে ২১টি, বি’ইয়াচাদ ১২টি, জয়েন্ট লিস্ট ১১টি, দ্য ডেমোক্র্যাটস ৮টি এবং রা’আম ৮টি আসন। এ ছাড়া ইসরাইল বেইতেনু, ইউনাইটেড তোরাহ জুদাইজম ও ওতজমা ইয়েহুদিত পেয়েছে ৭টি করে আসন। শাস ও রিলিজিয়াস জায়োনিজম পেয়েছে ৬টি করে আসন।

আরও পড়ুন  নেতানিয়াহু নীতির বিরুদ্ধে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ চাইলেন ইসরাইলের সাবেক কর্মকর্তারা

নির্বাচনে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোটের বাধা অতিক্রম করতে পারেনি কয়েকটি দল। ইয়োয়াজ হেন্ডেলের রিজার্ভিস্টস-ইকোনমিক পার্টি পেয়েছে ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ ভোট। ওফের উইন্টারের পিপল অব ইসরাইল পার্টি পেয়েছে ১ দশমিক ৭ শতাংশ। আর দেশটির অতি-রক্ষণশীল ইহুদি সম্প্রদায়ের বিকল্প রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরা চারেদি পাবলিক পার্টি পেয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ২ শতাংশ ভোট।

চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা গেছে, আগের পার্লামেন্টের তুলনায় নেতানিয়াহুপন্থি জোটের আসন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিদায়ী নেসেটে ক্ষমতাসীন জোটের আসন ছিল ৬৮টি। এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫৩টিতে।

অন্যদিকে আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম পার্টি সম্মিলিতভাবে পেয়েছে ১৯টি আসন। ইসরাইলের নির্বাচনি ইতিহাসে আরব দলগুলোর এটিই সর্বোচ্চ আসনসংখ্যা। আগের পার্লামেন্টে দল দুটির আসন ছিল ১০টি। ফলে সরকার গঠনের সমীকরণে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে জায়োনিস্ট জোটের সদস্যরা রা’আম বা জয়েন্ট লিস্টের সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। এতে নেতানিয়াহুবিরোধী শিবিরের জন্য ওই আসনগুলো কাজে লাগানো কঠিন হতে পারে।

নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল আগামী বুধবার প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে কোনো ভুল বা অভিযোগ থাকলে তা পর্যালোচনা করবে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন। ফল জমা দেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে দলগুলোর সুপারিশ শুনবেন তিনি।

এদিকে নির্বাচন ঘিরে কারচুপির অভিযোগও সামনে এসেছে। কাতারের সম্ভাব্য প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টার বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশের পর ভোট জালিয়াতির অভিযোগ নাকচ করেছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন।

শুক্রবার ভোরে দেওয়া এক বিবৃতিতে কমিশন জানায়, ভোটে ব্যাপক অনিয়মের যেসব খবর প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। কমিশনের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডিন লিভনে বলেন, তদন্তের ফল প্রেসিডেন্টের কাছে জমা দেওয়া চূড়ান্ত ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলবে না। এ তদন্ত কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করেও পরিচালিত হচ্ছে না।

আগামী ১০ নভেম্বর ইসরাইলের নতুন পার্লামেন্ট নেসেটের শপথ গ্রহণের কথা রয়েছে। তবে নতুন সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা জটিল হতে পারে। এ প্রক্রিয়া দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোনো পক্ষের হাতেই নেই।

বুধবার প্রেসিডেন্ট হারজগ রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন। আরেকটি নির্বাচন এড়াতে সবাইকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তার সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা খোলা মন নিয়ে আলোচনায় বসবেন বলেও প্রত্যাশা করেন প্রেসিডেন্ট।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইসরাইল