ঢাকা ০৫:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

আন্দোলনে জড়ালে সরকারি চাকরি নয়, নতুন নীতি ভারতে

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:১৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  • / 19

ছবি : সংগৃহীত

ভারতের উত্তরপ্রদেশে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের চরিত্র যাচাইয়ের নিয়ম কঠোর করেছে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকার। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সহিংসতার মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত আন্দোলনে যুক্ত ব্যক্তিদের সরকারি চাকরির জন্য অযোগ্য বিবেচনা করা হবে। তবে শুধু রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কাউকে নিয়োগের অযোগ্য ঘোষণা করা যাবে না বলে নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার উত্তরপ্রদেশ সরকারের নিয়োগ ও জনবল বিভাগের প্রধান সচিব এম দেবরাজ এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেন।

এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসরণ করে সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের চরিত্র ও অতীত কর্মকাণ্ড যাচাইয়ের নিয়ম নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, করপোরেশন, কাউন্সিল ও স্থানীয় সংস্থায় সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে এসব নিয়ম কার্যকর হবে।

আরও পড়ুন  ভারতে ইলিশ রফতানি বন্ধে সরকারকে আইনি নোটিশ

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থী এমন সংগঠনের সদস্য হলে, যার ঘোষিত উদ্দেশ্য সহিংসতার মাধ্যমে বিদ্যমান সরকারব্যবস্থা পরিবর্তন করা, তাঁকে সরকারি চাকরির জন্য অযোগ্য বিবেচনা করা হবে। এ ছাড়া ২১ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার পর চরিত্র যাচাইয়ের আগের তিন বছরের মধ্যে কেউ এ ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ডে অংশ নিলে, তিনি এখনো ওই কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন বলে ধরে নেওয়া হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট সময়ে তাঁর আচরণ ও মনোভাবের ইতিবাচক পরিবর্তনের পক্ষে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ থাকলে তা বিবেচনা করতে পারবেন নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ।

যোগী সরকারের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, শুধু রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কোনো প্রার্থীকে চাকরির অযোগ্য ঘোষণা করা যাবে না। কারও বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের বা পুলিশের তদন্ত চলমান থাকলেও শুধু সেই কারণে তাঁকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়োগের অযোগ্য বিবেচনা করা যাবে না।

তবে হত্যা, ডাকাতি, ধর্ষণ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, দুর্নীতি, নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সংঘবদ্ধভাবে পরীক্ষায় জালিয়াতির মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে অযোগ্য বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। অপরাধসংক্রান্ত তথ্য গোপন করে কেউ চাকরি পেলে তাঁর নিয়োগ বাতিলের পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

নিয়োগপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়া ঠেকাতে চরিত্র যাচাইয়ের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য পুলিশ ও স্থানীয় গোয়েন্দা ইউনিটকে ৩০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন পাওয়া না গেলে প্রয়োজনীয় অঙ্গীকারনামার ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ অস্থায়ীভাবে নিয়োগপত্র দিতে পারবে। তবে পরবর্তী সময়ে কোনো তথ্য মিথ্যা প্রমাণিত হলে নিয়োগ বাতিল এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে উত্তরপ্রদেশ সরকারের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে বিরোধী সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেস। সমাজবাদী পার্টির মুখপাত্র উদয়বীর বলেন, এ ধরনের নির্দেশনা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের কথা মনে করিয়ে দেয়। তাঁর মতে, স্বাধীন ভারতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করা সাংবিধানিক অধিকার এবং নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের দাবি জানানো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ।

কংগ্রেস নেতা রশিদ আলভিও নির্দেশনাটিকে অতিরিক্ত কঠোর বলে সমালোচনা করেছেন। এ ধরনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সরকারের, নাকি আদালতের—সে প্রশ্ন তোলেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে তরুণদের বিভিন্ন আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সরকার এ পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে নীতিমালার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলা হয়েছে, যারা সহিংসতার মাধ্যমে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

ভারতে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তরুণদের বিভিন্ন সংগঠনের আন্দোলন নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে উত্তরপ্রদেশ সরকারের এ নির্দেশনা জারি করা হলো। প্রতিবেদনটি এনডিটিভি ও ইন্ডিয়া টুডের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আন্দোলনে জড়ালে সরকারি চাকরি নয়, নতুন নীতি ভারতে

আপডেট সময় ০৩:১৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের উত্তরপ্রদেশে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের চরিত্র যাচাইয়ের নিয়ম কঠোর করেছে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকার। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সহিংসতার মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত আন্দোলনে যুক্ত ব্যক্তিদের সরকারি চাকরির জন্য অযোগ্য বিবেচনা করা হবে। তবে শুধু রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কাউকে নিয়োগের অযোগ্য ঘোষণা করা যাবে না বলে নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার উত্তরপ্রদেশ সরকারের নিয়োগ ও জনবল বিভাগের প্রধান সচিব এম দেবরাজ এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেন।

এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসরণ করে সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের চরিত্র ও অতীত কর্মকাণ্ড যাচাইয়ের নিয়ম নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, করপোরেশন, কাউন্সিল ও স্থানীয় সংস্থায় সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে এসব নিয়ম কার্যকর হবে।

আরও পড়ুন  ভারতে ইলিশ রফতানি বন্ধে সরকারকে আইনি নোটিশ

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থী এমন সংগঠনের সদস্য হলে, যার ঘোষিত উদ্দেশ্য সহিংসতার মাধ্যমে বিদ্যমান সরকারব্যবস্থা পরিবর্তন করা, তাঁকে সরকারি চাকরির জন্য অযোগ্য বিবেচনা করা হবে। এ ছাড়া ২১ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার পর চরিত্র যাচাইয়ের আগের তিন বছরের মধ্যে কেউ এ ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ডে অংশ নিলে, তিনি এখনো ওই কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন বলে ধরে নেওয়া হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট সময়ে তাঁর আচরণ ও মনোভাবের ইতিবাচক পরিবর্তনের পক্ষে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ থাকলে তা বিবেচনা করতে পারবেন নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ।

যোগী সরকারের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, শুধু রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কোনো প্রার্থীকে চাকরির অযোগ্য ঘোষণা করা যাবে না। কারও বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের বা পুলিশের তদন্ত চলমান থাকলেও শুধু সেই কারণে তাঁকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়োগের অযোগ্য বিবেচনা করা যাবে না।

তবে হত্যা, ডাকাতি, ধর্ষণ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, দুর্নীতি, নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সংঘবদ্ধভাবে পরীক্ষায় জালিয়াতির মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে অযোগ্য বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। অপরাধসংক্রান্ত তথ্য গোপন করে কেউ চাকরি পেলে তাঁর নিয়োগ বাতিলের পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

নিয়োগপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়া ঠেকাতে চরিত্র যাচাইয়ের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য পুলিশ ও স্থানীয় গোয়েন্দা ইউনিটকে ৩০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন পাওয়া না গেলে প্রয়োজনীয় অঙ্গীকারনামার ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ অস্থায়ীভাবে নিয়োগপত্র দিতে পারবে। তবে পরবর্তী সময়ে কোনো তথ্য মিথ্যা প্রমাণিত হলে নিয়োগ বাতিল এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে উত্তরপ্রদেশ সরকারের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে বিরোধী সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেস। সমাজবাদী পার্টির মুখপাত্র উদয়বীর বলেন, এ ধরনের নির্দেশনা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের কথা মনে করিয়ে দেয়। তাঁর মতে, স্বাধীন ভারতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করা সাংবিধানিক অধিকার এবং নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের দাবি জানানো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ।

কংগ্রেস নেতা রশিদ আলভিও নির্দেশনাটিকে অতিরিক্ত কঠোর বলে সমালোচনা করেছেন। এ ধরনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সরকারের, নাকি আদালতের—সে প্রশ্ন তোলেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে তরুণদের বিভিন্ন আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সরকার এ পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে নীতিমালার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলা হয়েছে, যারা সহিংসতার মাধ্যমে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

ভারতে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তরুণদের বিভিন্ন সংগঠনের আন্দোলন নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে উত্তরপ্রদেশ সরকারের এ নির্দেশনা জারি করা হলো। প্রতিবেদনটি এনডিটিভি ও ইন্ডিয়া টুডের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি।