ঢাকা ০১:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা জাপানের প্রধানমন্ত্রীর অভিন্ন সমৃদ্ধিতে বিগ-বি জোরদার করছে বাংলাদেশ-জাপান বাংলাদেশের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে জোর: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উগান্ডায় ৩৮ জনকে হত্যার অভিযোগে নরখাদক গ্রেপ্তার সুদানে ড্রোন হামলায় নিহত ২১, আহত ৪০ চীনে পাচারের ভয়ংকর ফাঁদ: রাজধানী থেকে ১২ পাহাড়ি নারী উদ্ধার রাশিয়ার অর্থায়নে পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণের প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে: রাষ্ট্রপতি জাপানি বিনিয়োগে ২ লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা অরুণাচলে ৬-৭ কিলোমিটার ভেতরে চীনা সেনা

বাংলাদেশের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে জোর: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:০৯:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / 18

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে জাপানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, জাপানের বেসরকারি খাত আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে প্রায় ৬৩৪ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। এসব বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাতে টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

হুমায়ুন কবীর বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে যেসব শিল্পে বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব, সেগুলোর প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারেক রহমান।

আরও পড়ুন  গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক সংস্কার: প্রধান উপদেষ্টার অঙ্গীকার

বাংলাদেশ ও জাপানের অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত কার্যকর করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ যাতে মসৃণ ও টেকসই হয়, সে জন্য জাপানের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাব, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং সাম্প্রতিক বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কথা বিবেচনায় নিয়ে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতির জন্য বাংলাদেশ অতিরিক্ত তিন বছর সময় চেয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে জাপানের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে মন্ত্রী পর্যায়ে যৌথ প্রক্রিয়া গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান হুমায়ুন কবীর। এ প্রক্রিয়ায় অগ্রাধিকারভিত্তিক খাত নির্ধারণ, নির্দিষ্ট সময়সীমা ঠিক করা এবং নিয়মিত অগ্রগতি পর্যালোচনার পরিকল্পনা রয়েছে। দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ, প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পনগরী গড়ে তোলা এবং বিভিন্ন স্থানে উড়ালসড়ক নির্মাণসহ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের আগ্রহ রয়েছে। এ ছাড়া উন্নয়ন সহযোগিতার অংশ হিসেবে জাপানের কাছ থেকে ৫০০ কোটি ইয়েন বা প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলারের সহায়তার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরকে বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি ও দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রার প্রেক্ষাপটে দেশটিতে বিনিয়োগের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আগ্রহ বাড়ছে। এই আগ্রহকে বাস্তব বিনিয়োগে রূপ দেওয়াই সফরের অন্যতম লক্ষ্য।

হুমায়ুন কবীর বলেন, সফরকালে জাপানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাপনা পরিদর্শনের মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ হয়েছে। বিশেষ করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) টার্মিনাল স্থাপন এবং আধুনিক পণ্য পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থাপনায় জাপানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে আগ্রহী বাংলাদেশ।

জাপানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাপানি ভাষা শিক্ষা এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে একটি প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আগামী বছর বহুপক্ষীয় কূটনৈতিক কার্যক্রমে রোহিঙ্গা সংকটকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশের। এ ক্ষেত্রে জাপানের ইতিবাচক ভূমিকা প্রত্যাশা করছে ঢাকা।

সামগ্রিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরকে ফলপ্রসূ উল্লেখ করে হুমায়ুন কবীর বলেন, দুই দেশের নেতাদের মধ্যে আন্তরিক পরিবেশে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন।

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে জোর: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

আপডেট সময় ১২:০৯:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে জাপানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, জাপানের বেসরকারি খাত আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে প্রায় ৬৩৪ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। এসব বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাতে টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

হুমায়ুন কবীর বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে যেসব শিল্পে বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব, সেগুলোর প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারেক রহমান।

আরও পড়ুন  চাঁদাবাজদের ঠাঁই বাংলাদেশে হবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

বাংলাদেশ ও জাপানের অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত কার্যকর করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ যাতে মসৃণ ও টেকসই হয়, সে জন্য জাপানের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাব, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং সাম্প্রতিক বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কথা বিবেচনায় নিয়ে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতির জন্য বাংলাদেশ অতিরিক্ত তিন বছর সময় চেয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে জাপানের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে মন্ত্রী পর্যায়ে যৌথ প্রক্রিয়া গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান হুমায়ুন কবীর। এ প্রক্রিয়ায় অগ্রাধিকারভিত্তিক খাত নির্ধারণ, নির্দিষ্ট সময়সীমা ঠিক করা এবং নিয়মিত অগ্রগতি পর্যালোচনার পরিকল্পনা রয়েছে। দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ, প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পনগরী গড়ে তোলা এবং বিভিন্ন স্থানে উড়ালসড়ক নির্মাণসহ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের আগ্রহ রয়েছে। এ ছাড়া উন্নয়ন সহযোগিতার অংশ হিসেবে জাপানের কাছ থেকে ৫০০ কোটি ইয়েন বা প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলারের সহায়তার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরকে বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি ও দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রার প্রেক্ষাপটে দেশটিতে বিনিয়োগের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আগ্রহ বাড়ছে। এই আগ্রহকে বাস্তব বিনিয়োগে রূপ দেওয়াই সফরের অন্যতম লক্ষ্য।

হুমায়ুন কবীর বলেন, সফরকালে জাপানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাপনা পরিদর্শনের মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ হয়েছে। বিশেষ করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) টার্মিনাল স্থাপন এবং আধুনিক পণ্য পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থাপনায় জাপানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে আগ্রহী বাংলাদেশ।

জাপানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাপানি ভাষা শিক্ষা এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে একটি প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আগামী বছর বহুপক্ষীয় কূটনৈতিক কার্যক্রমে রোহিঙ্গা সংকটকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশের। এ ক্ষেত্রে জাপানের ইতিবাচক ভূমিকা প্রত্যাশা করছে ঢাকা।

সামগ্রিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরকে ফলপ্রসূ উল্লেখ করে হুমায়ুন কবীর বলেন, দুই দেশের নেতাদের মধ্যে আন্তরিক পরিবেশে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন।