রাশিয়ার অর্থায়নে পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণের প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর
- আপডেট সময় ০৯:৩২:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
- / 25
রাশিয়ার অর্থায়নে পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দরে ২ থেকে ৫ লাখ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার গমের সাইলো নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) খাদ্য মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার খোজিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ প্রস্তাব দেন। রাষ্ট্রদূত প্রস্তাবটিকে স্বাগত জানিয়েছেন।
সাক্ষাতে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত সরকার-টু-সরকার (জি টু জি) ভিত্তিতে বাংলাদেশে গম রপ্তানির প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি রাশিয়ার অর্থায়নে কক্সবাজারের মহেশখালীতে একটি গমের সাইলো নির্মাণের বিষয়ও তুলে ধরেন তিনি।
জবাবে খাদ্যমন্ত্রী জানান, রাশিয়া থেকে সরকারি পর্যায়ে গম আমদানির প্রস্তাব পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। মহেশখালীতে সাইলো নির্মাণের বিষয়ে তিনি বলেন, কক্সবাজার এলাকায় জমির স্বল্পতার কারণে এত বড় অবকাঠামো নির্মাণের জন্য উপযুক্ত জায়গা পাওয়া কঠিন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দরের অব্যবহৃত জায়গা বিবেচনা করা যেতে পারে।
খাদ্যমন্ত্রীর মতে, পায়রা বন্দরে প্রয়োজনীয় বন্দর অবকাঠামো ও যোগাযোগব্যবস্থা থাকায় সেখানে বড় ধারণক্ষমতার গমের সাইলো নির্মাণের সুযোগ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে দুই লাখ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতা নিয়ে প্রকল্পটি চালু করে পর্যায়ক্রমে তা পাঁচ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করা যেতে পারে।
এ ধরনের সাইলো নির্মিত হলে রাশিয়া থেকে আমদানি করা গম বাংলাদেশে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। পরে দেশের বেসরকারি আমদানিকারকদের কাছে স্থানীয় বাজারে গম বিক্রির পাশাপাশি সরকারের প্রয়োজনেও মজুত থেকে গম কেনার সুযোগ তৈরি হবে। এতে দেশের গম সরবরাহ ও সংরক্ষণব্যবস্থা শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি দুই দেশই অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন খাদ্যমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, পায়রা বন্দরে সাইলো নির্মাণ করা হলে নারায়ণগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ গম পরিবহন ও সরবরাহকেন্দ্রগুলোতে সহজে এবং কার্যকরভাবে গম পৌঁছানো সম্ভব হবে।
প্রস্তাবটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে পায়রা সমুদ্রবন্দর সরেজমিনে পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান আফরোজা খানম। তাঁর মতে, সরেজমিনে পরিদর্শন করলে সাইলো নির্মাণের উপযুক্ত স্থান, বিদ্যমান অবকাঠামোগত সুবিধা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত প্রস্তাবটিকে স্বাগত জানিয়ে এ বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, রাশিয়া বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু। দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে উভয় দেশ আগ্রহী। পারস্পরিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের জনগণ উপকৃত হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎকালে রাশিয়ান দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি আনাস্তাসিয়া নেমোভা, খাদ্যসচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জসিম উদ্দিন খানসহ খাদ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





















