ঢাকা ০৯:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

জাপানি বিনিয়োগে ২ লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:২১:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / 29

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে আগামী পাঁচ বছরে জাপানের বেসরকারি খাত থেকে এক লাখ কোটি ইয়েন পর্যন্ত বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রত্যাশা নিয়ে নতুন অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের পথে এগোচ্ছে ঢাকা ও টোকিও। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরে দুই দেশের শীর্ষ বৈঠক ও যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে জাপানি ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের অংশীদারত্ব কয়েক দশকের বন্ধুত্ব, আস্থা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। এখন এ সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে অংশীদার হতে জাপানি বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ কর্মসংস্থান এবং পারস্পরিক লাভজনক ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে তাঁর সরকার জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশে থার্ড টার্মিনাল পরিচালনায়, জাপানি কনসোর্টিয়ামের নতুন প্রস্তাব

তিনি আরও বলেন, দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করলে উভয়ের জন্য আরও সহনশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব।

দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে জাপানের বেসরকারি খাত থেকে এক লাখ কোটি ইয়েন পর্যন্ত বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রত্যাশার কথা তুলে ধরা হয়েছে। তবে এই পরিমাণ বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান এখনো নিশ্চিত নয়; এগুলো সম্ভাব্য বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের প্রক্ষেপণ।

উৎপাদনশিল্প, অবকাঠামো, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও সেবা খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। জাপানের পুঁজি, প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনাগত অভিজ্ঞতার সঙ্গে বাংলাদেশের শ্রমশক্তি ও বাজারের সম্ভাবনার সমন্বয় হলে নতুন শিল্প স্থাপন, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং দক্ষ কর্মী তৈরির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশ ও জাপানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সইকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্পর্ককে আরও কাঠামোবদ্ধ করা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এ চুক্তি করা হয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে চুক্তিটি দ্রুত কার্যকর করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দুই দেশ।

এ ছাড়া আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (আরসিইপি) চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার আগ্রহ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের এ-সংক্রান্ত অনুরোধ নিয়ে ভবিষ্যতে আরও আলোচনার কথা জানিয়েছে জাপান। অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার ও ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ উন্নয়নেও দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক বিনিময় হয়েছে। কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান বলেন, জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, রেলপথ, অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশের অভিন্ন অঙ্গীকার রয়েছে। সফরকালে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক বিনিময়ের কথাও জানান তিনি।

বাংলাদেশের অবকাঠামো ও শিল্পায়নে জাপানের সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হতে পারে মাতারবাড়ী। যৌথ বিবৃতিতে ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ বা বিগ-ব উদ্যোগকে যৌথ সমৃদ্ধির লক্ষ্যে এগিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে মাতারবাড়ী-মহেশখালী অঞ্চলকে জ্বালানি, শিল্প ও লজিস্টিকস হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু বন্দর নির্মাণ নয়; বরং বন্দরকেন্দ্রিক শিল্প স্থাপন, পণ্য পরিবহন, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য সমন্বিত অবকাঠামো গড়ে তোলা।

এ ছাড়া ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর প্রস্তুতি, রাজধানীতে মেট্রোরেল প্রকল্পগুলোর নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া এবং ভবিষ্যতে মাতারবাড়ী বন্দরের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

তবে বিনিয়োগের সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ দিতে হলে প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন, ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন এবং দুই দেশের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। এসব উদ্যোগ সফল হলে বাংলাদেশে নতুন কর্মসংস্থান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শিল্প ও রপ্তানি খাতের সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

জাপানি বিনিয়োগে ২ লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

আপডেট সময় ০৭:২১:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশে আগামী পাঁচ বছরে জাপানের বেসরকারি খাত থেকে এক লাখ কোটি ইয়েন পর্যন্ত বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রত্যাশা নিয়ে নতুন অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের পথে এগোচ্ছে ঢাকা ও টোকিও। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরে দুই দেশের শীর্ষ বৈঠক ও যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে জাপানি ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের অংশীদারত্ব কয়েক দশকের বন্ধুত্ব, আস্থা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। এখন এ সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে অংশীদার হতে জাপানি বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ কর্মসংস্থান এবং পারস্পরিক লাভজনক ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে তাঁর সরকার জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আরও পড়ুন  জাপানি বিনিয়োগে নতুন দিগন্ত, বাংলাদেশ থেকে যাবে ১ লাখ দক্ষ কর্মী: প্রেস সচিব

তিনি আরও বলেন, দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করলে উভয়ের জন্য আরও সহনশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব।

দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে জাপানের বেসরকারি খাত থেকে এক লাখ কোটি ইয়েন পর্যন্ত বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রত্যাশার কথা তুলে ধরা হয়েছে। তবে এই পরিমাণ বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান এখনো নিশ্চিত নয়; এগুলো সম্ভাব্য বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের প্রক্ষেপণ।

উৎপাদনশিল্প, অবকাঠামো, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও সেবা খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। জাপানের পুঁজি, প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনাগত অভিজ্ঞতার সঙ্গে বাংলাদেশের শ্রমশক্তি ও বাজারের সম্ভাবনার সমন্বয় হলে নতুন শিল্প স্থাপন, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং দক্ষ কর্মী তৈরির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশ ও জাপানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সইকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্পর্ককে আরও কাঠামোবদ্ধ করা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এ চুক্তি করা হয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে চুক্তিটি দ্রুত কার্যকর করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দুই দেশ।

এ ছাড়া আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (আরসিইপি) চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার আগ্রহ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের এ-সংক্রান্ত অনুরোধ নিয়ে ভবিষ্যতে আরও আলোচনার কথা জানিয়েছে জাপান। অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার ও ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ উন্নয়নেও দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক বিনিময় হয়েছে। কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান বলেন, জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, রেলপথ, অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশের অভিন্ন অঙ্গীকার রয়েছে। সফরকালে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক বিনিময়ের কথাও জানান তিনি।

বাংলাদেশের অবকাঠামো ও শিল্পায়নে জাপানের সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হতে পারে মাতারবাড়ী। যৌথ বিবৃতিতে ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ বা বিগ-ব উদ্যোগকে যৌথ সমৃদ্ধির লক্ষ্যে এগিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে মাতারবাড়ী-মহেশখালী অঞ্চলকে জ্বালানি, শিল্প ও লজিস্টিকস হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু বন্দর নির্মাণ নয়; বরং বন্দরকেন্দ্রিক শিল্প স্থাপন, পণ্য পরিবহন, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য সমন্বিত অবকাঠামো গড়ে তোলা।

এ ছাড়া ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর প্রস্তুতি, রাজধানীতে মেট্রোরেল প্রকল্পগুলোর নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া এবং ভবিষ্যতে মাতারবাড়ী বন্দরের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

তবে বিনিয়োগের সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ দিতে হলে প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন, ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন এবং দুই দেশের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। এসব উদ্যোগ সফল হলে বাংলাদেশে নতুন কর্মসংস্থান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শিল্প ও রপ্তানি খাতের সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।