ঢাকা ১২:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

এফটিএ নিয়ে মালয়েশিয়ার সঙ্গে বৈঠক মঙ্গলবার

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:৫১:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / 29

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে প্রথম দফার আলোচনা শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর)। ঢাকায় তিন দিনব্যাপী এ বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, রপ্তানি বৃদ্ধি, বাজারে প্রবেশাধিকার সহজ করা এবং পারস্পরিক বাণিজ্য সুবিধা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। ২০২৭ সালের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য সামনে রেখে এগোচ্ছে দুই দেশ।

মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, আলোচনায় অংশ নিতে দেশটির বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের (এমআইটিআই) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ড. রশিদি সাইদের নেতৃত্বে ৩০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে পৌঁছেছে।

বাংলাদেশের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দেবেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীন। একই অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব মুস্তাফিজুর রহমান উপপ্রধান আলোচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

আরও পড়ুন  আজ সংবিধান সংশোধন কমিটির প্রথম বৈঠক

মঙ্গলবার ঢাকার হোটেল সোনারগাঁওয়ে বৈঠকের উদ্বোধন করবেন বাণিজ্যসচিব। এরই মধ্যে দুই দেশের পক্ষ থেকে প্রস্তুত করা খসড়া প্রস্তাব বিনিময় করা হয়েছে। প্রথম দফার আলোচনায় এসব প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে চুক্তির সম্ভাব্য কাঠামো নিয়ে মতবিনিময় করার কথা রয়েছে। আলোচনা চলবে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) পর্যন্ত।

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে এফটিএ নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি দুই দেশের সরকারপ্রধানের পর্যায়েও গুরুত্ব পেয়েছে। গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সময় চুক্তি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দুই পক্ষ সম্মত হয়। ২০২৭ সালের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় দুই দেশের বাণিজ্যিক চাহিদা, পণ্য রপ্তানি ও আমদানিতে শুল্কসহ অন্যান্য বাধা, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং পারস্পরিক বাণিজ্য সুবিধার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি কোন দেশ অপর দেশকে কী ধরনের সুবিধা দিতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হবে।

বিশেষ করে মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও হালাল পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর সম্ভাবনা আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। একই সঙ্গে নতুন পণ্যের বাজার তৈরি এবং মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যিক সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টিও বিবেচনায় আসতে পারে। এ ছাড়া দেশটিতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থানসংক্রান্ত বিষয় আলোচনায় স্থান পেতে পারে।

এফটিএ নিয়ে আলোচনায় দুই দেশের বাণিজ্য ভারসাম্য, পণ্যভিত্তিক রপ্তানি-আমদানির পরিমাণ এবং নিজ নিজ বাজারে প্রবেশের শর্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এসব বিষয়ে সমন্বয় করে উভয় দেশের জন্য গ্রহণযোগ্য শর্ত নির্ধারণের ওপর চুক্তির অগ্রগতি নির্ভর করবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশ মালয়েশিয়ায় প্রায় ৩০৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। একই সময়ে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে আমদানির পরিমাণ প্রায় ২২ কোটি ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে রপ্তানি ও আমদানির পরিসংখ্যানে বড় ব্যবধান থাকায় হিসাবের সময়কাল, পণ্যের শ্রেণিবিন্যাস এবং তথ্যের উৎস যাচাই করা প্রয়োজন। ফলে দুই দেশের প্রকৃত বাণিজ্যচিত্র নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যান পর্যালোচনা গুরুত্বপূর্ণ হবে। চূড়ান্ত আলোচনায় শুল্ক কাঠামো ও বাজারে প্রবেশের শর্তও গুরুত্ব পাবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ এবং রপ্তানির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে চুক্তি থেকে কতটা সুফল পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করবে আলোচনায় নির্ধারিত শর্ত, পণ্যের তালিকা, শুল্কসুবিধা এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার ওপর।

নিউজটি শেয়ার করুন

এফটিএ নিয়ে মালয়েশিয়ার সঙ্গে বৈঠক মঙ্গলবার

আপডেট সময় ০৯:৫১:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে প্রথম দফার আলোচনা শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর)। ঢাকায় তিন দিনব্যাপী এ বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, রপ্তানি বৃদ্ধি, বাজারে প্রবেশাধিকার সহজ করা এবং পারস্পরিক বাণিজ্য সুবিধা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। ২০২৭ সালের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য সামনে রেখে এগোচ্ছে দুই দেশ।

মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, আলোচনায় অংশ নিতে দেশটির বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের (এমআইটিআই) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ড. রশিদি সাইদের নেতৃত্বে ৩০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে পৌঁছেছে।

বাংলাদেশের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দেবেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীন। একই অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব মুস্তাফিজুর রহমান উপপ্রধান আলোচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

আরও পড়ুন  সিইসির সঙ্গে বিএনপির বৈঠক

মঙ্গলবার ঢাকার হোটেল সোনারগাঁওয়ে বৈঠকের উদ্বোধন করবেন বাণিজ্যসচিব। এরই মধ্যে দুই দেশের পক্ষ থেকে প্রস্তুত করা খসড়া প্রস্তাব বিনিময় করা হয়েছে। প্রথম দফার আলোচনায় এসব প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে চুক্তির সম্ভাব্য কাঠামো নিয়ে মতবিনিময় করার কথা রয়েছে। আলোচনা চলবে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) পর্যন্ত।

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে এফটিএ নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি দুই দেশের সরকারপ্রধানের পর্যায়েও গুরুত্ব পেয়েছে। গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সময় চুক্তি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দুই পক্ষ সম্মত হয়। ২০২৭ সালের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় দুই দেশের বাণিজ্যিক চাহিদা, পণ্য রপ্তানি ও আমদানিতে শুল্কসহ অন্যান্য বাধা, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং পারস্পরিক বাণিজ্য সুবিধার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি কোন দেশ অপর দেশকে কী ধরনের সুবিধা দিতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হবে।

বিশেষ করে মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও হালাল পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর সম্ভাবনা আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। একই সঙ্গে নতুন পণ্যের বাজার তৈরি এবং মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যিক সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টিও বিবেচনায় আসতে পারে। এ ছাড়া দেশটিতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থানসংক্রান্ত বিষয় আলোচনায় স্থান পেতে পারে।

এফটিএ নিয়ে আলোচনায় দুই দেশের বাণিজ্য ভারসাম্য, পণ্যভিত্তিক রপ্তানি-আমদানির পরিমাণ এবং নিজ নিজ বাজারে প্রবেশের শর্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এসব বিষয়ে সমন্বয় করে উভয় দেশের জন্য গ্রহণযোগ্য শর্ত নির্ধারণের ওপর চুক্তির অগ্রগতি নির্ভর করবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশ মালয়েশিয়ায় প্রায় ৩০৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। একই সময়ে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে আমদানির পরিমাণ প্রায় ২২ কোটি ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে রপ্তানি ও আমদানির পরিসংখ্যানে বড় ব্যবধান থাকায় হিসাবের সময়কাল, পণ্যের শ্রেণিবিন্যাস এবং তথ্যের উৎস যাচাই করা প্রয়োজন। ফলে দুই দেশের প্রকৃত বাণিজ্যচিত্র নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যান পর্যালোচনা গুরুত্বপূর্ণ হবে। চূড়ান্ত আলোচনায় শুল্ক কাঠামো ও বাজারে প্রবেশের শর্তও গুরুত্ব পাবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ এবং রপ্তানির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে চুক্তি থেকে কতটা সুফল পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করবে আলোচনায় নির্ধারিত শর্ত, পণ্যের তালিকা, শুল্কসুবিধা এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার ওপর।