ঢাকা ০২:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

সানায় সৌদির হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:১৩:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / 25

ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হামলা চালিয়ে হুতি বিদ্রোহীদের ব্যবহৃত দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। সোমবার (২৬ অক্টোবর) ভোরে এ হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে জোটটি। এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৫৩টি সামরিক অভিযানে হুতি গোষ্ঠীর প্রায় ২১৮ জন যোদ্ধা ও মাঠপর্যায়ের কমান্ডারকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করার দাবি করেছে ইয়েমেনের সরকারি সেনাবাহিনী।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানান, ধ্বংস করা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থাগুলোর একটি ব্যবহার করে সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি রাজধানী রিয়াদে হামলা চালিয়েছিল হুতিরা।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আল-মালিকি বলেন, হুতিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে জোটের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন  গাজায় পুলিশ চেকপয়েন্টে ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ নিহত ৬

অন্যদিকে, ইয়েমেনের সরকারি সেনাবাহিনী রোববার জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত ৭৫৩টি সামরিক অভিযানে হুতি গোষ্ঠীর প্রায় ২১৮ জন যোদ্ধা ও মাঠপর্যায়ের কমান্ডারকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৭৮টি সামরিক যান ও অস্ত্র ধ্বংস অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা।

সেনাবাহিনীর বিবৃতি অনুযায়ী, ‘অপারেশন ডন অব ইয়েমেন’-এর অংশ হিসেবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। হুতিদের অগ্রবর্তী কমান্ড সেন্টার, সামরিক ঘাঁটি ও দুর্গ, গোলাবর্ষণের অবস্থান, সেনা সমাবেশস্থল এবং অতিরিক্ত সেনা ও রসদ পাঠানোর বহর ছিল এসব অভিযানের লক্ষ্য। পাশাপাশি সরবরাহকারী যানবাহনেও হামলা চালানো হয় বলে জানায় সরকারি বাহিনী।

সেনাবাহিনীর দাবি, এসব হামলার ফলে সম্মুখসারিতে হুতিদের জন্য অতিরিক্ত সেনা ও রসদ পাঠানোর কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি বাহিনীর অভিযান ও স্থল হামলাও এতে সহায়তা পেয়েছে।

তবে ‘নিষ্ক্রিয়’ হওয়া ২১৮ জনের মধ্যে কতজন নিহত এবং কতজন আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি ইয়েমেনের সরকারি সেনাবাহিনী। এ বিষয়ে হুতি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

২০১৪ সালে হুতি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও আশপাশের কয়েকটি প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে দেশটিতে সংঘাত চলছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিতে সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।

বর্তমানে ইয়েমেনের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এসব এলাকার মধ্যে রাজধানী সানাও রয়েছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও তাদের মিত্র বাহিনী দেশটির দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের উল্লেখযোগ্য অংশ এবং এডেন শহরের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধের সম্মুখসারিতে পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী অঞ্চলে লড়াই বেড়েছে। কিছু এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে বিরোধ এখনো অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

নিউজটি শেয়ার করুন

সানায় সৌদির হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি

আপডেট সময় ১২:১৩:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হামলা চালিয়ে হুতি বিদ্রোহীদের ব্যবহৃত দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। সোমবার (২৬ অক্টোবর) ভোরে এ হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে জোটটি। এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৫৩টি সামরিক অভিযানে হুতি গোষ্ঠীর প্রায় ২১৮ জন যোদ্ধা ও মাঠপর্যায়ের কমান্ডারকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করার দাবি করেছে ইয়েমেনের সরকারি সেনাবাহিনী।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানান, ধ্বংস করা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থাগুলোর একটি ব্যবহার করে সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি রাজধানী রিয়াদে হামলা চালিয়েছিল হুতিরা।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আল-মালিকি বলেন, হুতিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে জোটের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন  আফগানিস্তানে ড্রোন মজুতকেন্দ্র লক্ষ্য করে পাকিস্তানের বিমান হামলা

অন্যদিকে, ইয়েমেনের সরকারি সেনাবাহিনী রোববার জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত ৭৫৩টি সামরিক অভিযানে হুতি গোষ্ঠীর প্রায় ২১৮ জন যোদ্ধা ও মাঠপর্যায়ের কমান্ডারকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৭৮টি সামরিক যান ও অস্ত্র ধ্বংস অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা।

সেনাবাহিনীর বিবৃতি অনুযায়ী, ‘অপারেশন ডন অব ইয়েমেন’-এর অংশ হিসেবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। হুতিদের অগ্রবর্তী কমান্ড সেন্টার, সামরিক ঘাঁটি ও দুর্গ, গোলাবর্ষণের অবস্থান, সেনা সমাবেশস্থল এবং অতিরিক্ত সেনা ও রসদ পাঠানোর বহর ছিল এসব অভিযানের লক্ষ্য। পাশাপাশি সরবরাহকারী যানবাহনেও হামলা চালানো হয় বলে জানায় সরকারি বাহিনী।

সেনাবাহিনীর দাবি, এসব হামলার ফলে সম্মুখসারিতে হুতিদের জন্য অতিরিক্ত সেনা ও রসদ পাঠানোর কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি বাহিনীর অভিযান ও স্থল হামলাও এতে সহায়তা পেয়েছে।

তবে ‘নিষ্ক্রিয়’ হওয়া ২১৮ জনের মধ্যে কতজন নিহত এবং কতজন আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি ইয়েমেনের সরকারি সেনাবাহিনী। এ বিষয়ে হুতি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

২০১৪ সালে হুতি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও আশপাশের কয়েকটি প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে দেশটিতে সংঘাত চলছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিতে সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।

বর্তমানে ইয়েমেনের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এসব এলাকার মধ্যে রাজধানী সানাও রয়েছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও তাদের মিত্র বাহিনী দেশটির দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের উল্লেখযোগ্য অংশ এবং এডেন শহরের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধের সম্মুখসারিতে পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী অঞ্চলে লড়াই বেড়েছে। কিছু এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে বিরোধ এখনো অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি