ঢাকা ১২:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

নির্বাসন শেষে দেশে ফিরলেন নোবেলজয়ী মাচাদো

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:৫২:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / 24

ছবি: সংগৃহীত

১০ মাসেরও বেশি সময় নির্বাসনে থাকার পর নিজ দেশ ভেনেজুয়েলায় ফিরেছেন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও শান্তিতে নোবেলজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। রোববার (২৬ অক্টোবর) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের দেশে ফেরার কথা জানান তিনি। এমন এক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মাচাদো দেশে ফিরলেন, যখন তাঁর অনুপস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা এবং ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার উদ্যোগে দেশটির রাজনীতিতে পরিবর্তন এসেছে।

রোববার সকালে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাচাদো লেখেন, ‘আমি ফিরে এসেছি। আপনাদের সঙ্গে আছি।’ এর কিছুক্ষণ পর বিরোধী দলের অন্য সদস্যরাও তাঁর দেশে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে তাঁর প্রত্যাবর্তন নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাননি তাঁরা।

মাচাদোর দেশে ফেরাকে স্বাগত জানিয়েছেন বর্তমানে নির্বাসনে থাকা ভেনেজুয়েলার সাবেক বিরোধী প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী এডমান্ডো গঞ্জালেজ উরুতিয়া। তিনি বলেন, ‘ভেনেজুয়েলাবাসীর জন্য আজ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। আমাদের সার্বভৌম কণ্ঠস্বর আবার ফিরে এসেছে এই প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব ও নির্দেশনার জন্য।’

আরও পড়ুন  দায়িত্ব শেষে আন্তর্জাতিক উদ্যোগে যুক্ত হবেন ড. ইউনূস, জানালেন উপ-প্রেস সচিব

গঞ্জালেজ উরুতিয়া আরও জানান, তিনিও খুব শিগগির ভেনেজুয়েলায় ফিরবেন।

রোববার লারা রাজ্যের সান্তা রোসা চার্চে অনুসারীদের সঙ্গে মাচাদোর সাক্ষাতের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে বিরোধী দল। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, মাচাদোর দেশে ফেরার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু তাঁর জানা নেই। তবে তিনি মাচাদোর নিরাপত্তা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

সিএনএনের প্রতিনিধি জুলিয়া বেনব্রুক মাচাদোর অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এই বিষয়ে কিছু জানি না, তবে তিনি অত্যন্ত ভদ্র একজন নারী। তিনি আমাকে তাঁর নোবেল পুরস্কারটি উপহার দিয়েছেন, তাই আমি অন্য কিছু বলি কী করে? আমি আশা করি তিনি নিরাপদে আছেন।’

গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার সংগ্রামের স্বীকৃতি হিসেবে নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণ করতে গত ডিসেম্বরে নরওয়ে গিয়েছিলেন মাচাদো। এরপর থেকে তিনি আর নিজ দেশে ফিরতে পারেননি। ১০ মাসেরও বেশি সময় নির্বাসনে থাকার পর এবার তাঁর প্রত্যাবর্তন হলো।

মাচাদোর দেশ ছাড়ার এক মাস পর যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করে। এরপর ওয়াশিংটন দেশটিতে গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও রাজনৈতিক সমঝোতা এগিয়ে নিতে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে কাজ শুরু করে।

তবে এই সমঝোতা প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা অংশ নিলেও মাচাদো ও গঞ্জালেজ উরুতিয়াকে আলোচনার বাইরে রাখা হয়। বিষয়টি দেশটির বিরোধী রাজনীতির প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

সরকারের সঙ্গে বিরোধী জোটের আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া দিনোরা ফিগুয়েরা জানান, মাদুরোর পতন এবং চলমান সমঝোতা আলোচনার সুফল হিসেবেই মাচাদো দেশে ফিরতে পেরেছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও এই বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে সব পক্ষের স্বাধীনতা ও অধিকারের প্রতি ধারাবাহিকভাবে সম্মান দেখানো হবে বলে যুক্তরাষ্ট্র আশা করে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাদের চলমান আলোচনা সমর্থনের আহ্বান জানান তিনি।

রুবিওর ভাষ্য, গত ৩০ বছরের মধ্যে ভেনেজুয়েলার সামনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার এটিই সবচেয়ে বড় সুযোগ।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, মাচাদো দেশে ফেরার পর বারকুইসিমেটো শহরে শত শত সমর্থক তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরেন। এ সময় তাঁদের অনেকে ভেনেজুয়েলার জাতীয় পতাকা নাড়িয়ে ‘মুক্তি, মুক্তি’ স্লোগান দেন।

একপর্যায়ে গাড়ির ছাদে উঠে সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নাড়েন মাচাদো। এ সময় উপস্থিত অনেকেই তাঁর সঙ্গে জাতীয় সংগীতে কণ্ঠ মেলান।

সূত্র: রয়টার্স, সিএনএন

নিউজটি শেয়ার করুন

নির্বাসন শেষে দেশে ফিরলেন নোবেলজয়ী মাচাদো

আপডেট সময় ০৯:৫২:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

১০ মাসেরও বেশি সময় নির্বাসনে থাকার পর নিজ দেশ ভেনেজুয়েলায় ফিরেছেন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও শান্তিতে নোবেলজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। রোববার (২৬ অক্টোবর) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের দেশে ফেরার কথা জানান তিনি। এমন এক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মাচাদো দেশে ফিরলেন, যখন তাঁর অনুপস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা এবং ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার উদ্যোগে দেশটির রাজনীতিতে পরিবর্তন এসেছে।

রোববার সকালে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাচাদো লেখেন, ‘আমি ফিরে এসেছি। আপনাদের সঙ্গে আছি।’ এর কিছুক্ষণ পর বিরোধী দলের অন্য সদস্যরাও তাঁর দেশে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে তাঁর প্রত্যাবর্তন নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাননি তাঁরা।

মাচাদোর দেশে ফেরাকে স্বাগত জানিয়েছেন বর্তমানে নির্বাসনে থাকা ভেনেজুয়েলার সাবেক বিরোধী প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী এডমান্ডো গঞ্জালেজ উরুতিয়া। তিনি বলেন, ‘ভেনেজুয়েলাবাসীর জন্য আজ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। আমাদের সার্বভৌম কণ্ঠস্বর আবার ফিরে এসেছে এই প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব ও নির্দেশনার জন্য।’

আরও পড়ুন  নীরবতা ঘিরে রহস্য—কোথায় অবস্থান করছেন মুহাম্মদ ইউনূস?

গঞ্জালেজ উরুতিয়া আরও জানান, তিনিও খুব শিগগির ভেনেজুয়েলায় ফিরবেন।

রোববার লারা রাজ্যের সান্তা রোসা চার্চে অনুসারীদের সঙ্গে মাচাদোর সাক্ষাতের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে বিরোধী দল। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, মাচাদোর দেশে ফেরার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু তাঁর জানা নেই। তবে তিনি মাচাদোর নিরাপত্তা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

সিএনএনের প্রতিনিধি জুলিয়া বেনব্রুক মাচাদোর অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এই বিষয়ে কিছু জানি না, তবে তিনি অত্যন্ত ভদ্র একজন নারী। তিনি আমাকে তাঁর নোবেল পুরস্কারটি উপহার দিয়েছেন, তাই আমি অন্য কিছু বলি কী করে? আমি আশা করি তিনি নিরাপদে আছেন।’

গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার সংগ্রামের স্বীকৃতি হিসেবে নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণ করতে গত ডিসেম্বরে নরওয়ে গিয়েছিলেন মাচাদো। এরপর থেকে তিনি আর নিজ দেশে ফিরতে পারেননি। ১০ মাসেরও বেশি সময় নির্বাসনে থাকার পর এবার তাঁর প্রত্যাবর্তন হলো।

মাচাদোর দেশ ছাড়ার এক মাস পর যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করে। এরপর ওয়াশিংটন দেশটিতে গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও রাজনৈতিক সমঝোতা এগিয়ে নিতে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে কাজ শুরু করে।

তবে এই সমঝোতা প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা অংশ নিলেও মাচাদো ও গঞ্জালেজ উরুতিয়াকে আলোচনার বাইরে রাখা হয়। বিষয়টি দেশটির বিরোধী রাজনীতির প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

সরকারের সঙ্গে বিরোধী জোটের আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া দিনোরা ফিগুয়েরা জানান, মাদুরোর পতন এবং চলমান সমঝোতা আলোচনার সুফল হিসেবেই মাচাদো দেশে ফিরতে পেরেছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও এই বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে সব পক্ষের স্বাধীনতা ও অধিকারের প্রতি ধারাবাহিকভাবে সম্মান দেখানো হবে বলে যুক্তরাষ্ট্র আশা করে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাদের চলমান আলোচনা সমর্থনের আহ্বান জানান তিনি।

রুবিওর ভাষ্য, গত ৩০ বছরের মধ্যে ভেনেজুয়েলার সামনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার এটিই সবচেয়ে বড় সুযোগ।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, মাচাদো দেশে ফেরার পর বারকুইসিমেটো শহরে শত শত সমর্থক তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরেন। এ সময় তাঁদের অনেকে ভেনেজুয়েলার জাতীয় পতাকা নাড়িয়ে ‘মুক্তি, মুক্তি’ স্লোগান দেন।

একপর্যায়ে গাড়ির ছাদে উঠে সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নাড়েন মাচাদো। এ সময় উপস্থিত অনেকেই তাঁর সঙ্গে জাতীয় সংগীতে কণ্ঠ মেলান।

সূত্র: রয়টার্স, সিএনএন