ব্রাজিলে আবারও জয়ী লুলা
- আপডেট সময় ০৮:৪৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
- / 20
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বোলসোনারোকে পরাজিত করে চতুর্থ মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুই ইনাসিও লুলা দা সিলভা। রোববার অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপের ভোটে লুলা ৫১ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বোলসোনারো পেয়েছেন ৪৮ শতাংশের কিছু বেশি ভোট। দেশটির নির্বাচন কর্তৃপক্ষের ঘোষণায় লুলার জয় নিশ্চিত হয়েছে।
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর লুলার সমর্থক ও প্রচার দলের সদস্যরা উল্লাসে মেতে ওঠেন। তাঁর নির্বাচনি প্রচার সমন্বয়ক এদিনিও সিলভা সহকর্মীদের সঙ্গে বিজয় উদযাপনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘এই নির্বাচন ব্রাজিলের গণতন্ত্রের জন্য এক ঐতিহাসিক জয়।’
তবে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ লুলার জয় ঘোষণা করলেও পরাজিত প্রার্থী ফ্লাভিও বোলসোনারো কিংবা তাঁর নির্বাচনি শিবিরের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। পরাজয় স্বীকার করেও কোনো বক্তব্য দেননি তিনি।
ভোটগ্রহণের সময় দুই ঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে সুপ্রিম ফেডারেল কোর্টের সমালোচনা করেছিলেন বোলসোনারোর প্রচার সমন্বয়ক রজেরিও মারিনহো। এরপর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে আর সক্রিয় দেখা যায়নি।
এর আগে আদালতের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে মারিনহো লিখেছিলেন, সুপ্রিম ফেডারেল কোর্টের বিচারকদের এ ধরনের সরাসরি হস্তক্ষেপ ‘অবিশ্বাস্য ও লজ্জাজনক’। তিনি আরও আশা প্রকাশ করেছিলেন, গণতন্ত্রের স্বার্থে শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং কোনো বিচার বিভাগীয় চক্রান্ত সফল হবে না। একই সঙ্গে দেশটিতে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আশঙ্কার কথাও বলেছিলেন তিনি।
উল্লেখ্য, ফ্লাভিও বোলসোনারোর বাবা এবং ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জায়ার বোলসোনারো ২০২২ সালের নির্বাচনে লুলার কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। তবে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কখনো পরাজয় স্বীকার করেননি।
এবারের নির্বাচনের প্রথম ধাপে লুলা পিছিয়ে পড়ায় তাঁর পুনর্নির্বাচিত হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। ওই ধাপে ডানপন্থি রাজনীতির সমর্থন বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকেই মনে করেছিলেন, লুলার পক্ষে জয় পাওয়া কঠিন হতে পারে। তবে দ্বিতীয় ধাপের ভোটে ব্যবধান গড়ে দিয়ে বোলসোনারোকে পরাজিত করেন বামপন্থি নেতা লুলা।
ব্রাসিলিয়ার স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ৯টা ১৩ মিনিটে ব্রাজিলের সুপিরিয়র ইলেক্টরাল কোর্ট লুলার জয় ঘোষণা করে। সে সময় ৮০ শতাংশের বেশি ভোট গণনা শেষ হয়েছিল। গণনা করা ভোটের হিসাবে লুলা পেয়েছিলেন ৫১ শতাংশ এবং বোলসোনারো পেয়েছিলেন ৪৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
ব্রাজিলের আধুনিক নির্বাচনি ইতিহাসে প্রথম ধাপের ভোটে পিছিয়ে থাকার পর দ্বিতীয় ধাপে জয়ী হওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম ঘটল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্বাচনের দিন কয়েকটি এলাকায় গণপরিবহণ বন্ধ রাখার খবরের পর ভোটারদের ভোটদানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এদিকে দেশের কিছু অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির কারণে লুলা ও বোলসোনারো—উভয় পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট ভোটগ্রহণের সময় দুই ঘণ্টা বাড়িয়ে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত নির্ধারণ করেন।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম দেশ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বে বহাল থাকছেন লুলা। নির্বাচনের ফল দেশটির রাজনীতিতে ডানপন্থি ও বামপন্থি শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্রও সামনে এনেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফার্নান্দো ব্রাঙ্কোলি আল জাজিরাকে বলেন, প্রথম ধাপের ভোটে পিছিয়ে পড়ার পর লুলার এভাবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ফিরে আসা ব্রাজিলের রাজনীতিতে নজিরবিহীন ঘটনা।
তাঁর ভাষ্য, নির্বাচনের ফলের তাৎপর্য ব্যাপক। লুলার নিজস্ব রাজনৈতিক শিবিরের অনেকেও ধারণা করেছিলেন, ফ্লাভিও বোলসোনারো হয়তো জয়ের পথে এগিয়ে রয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত লুলা সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করেছেন।
বিজয় নিশ্চিত হলেও সামনে বেশ কিছু রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে লুলাকে। বিশেষ করে রক্ষণশীল আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে সমঝোতা করে তাঁকে নিজের নীতি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে এগোতে হবে। বিরোধী পক্ষের অবস্থানের কারণে সরকারের সব পরিকল্পনা একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা কঠিন হতে পারে।
ফার্নান্দো ব্রাঙ্কোলির মতে, লুলার সরকার সব পরিকল্পনা একযোগে বাস্তবায়ন করতে পারবে না। বিভিন্ন বিষয়ে অগ্রগতি অর্জনের জন্য তাঁকে বিরোধী পক্ষের সঙ্গে আপস ও দরকষাকষির মাধ্যমে এগোতে হবে।
সূত্র: আল জাজিরা






















