ঢাকা ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:৫৯:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / 26

ছবি সংগৃহীত

 

বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়াচ্ছে নিম্নচাপ, যা সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টি ২৮ অক্টোবর সকালে অন্ধ্রপ্রদেশের বাপটলা ও বিশাখাপত্তমের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে। এ আশঙ্কায় ভারতের পূর্ব ও দক্ষিণ উপকূলীয় রাজ্যগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে ওড়িশা সরকার।

আরও পড়ুন  রোববার জামায়াত আমির ও এনসিপি আহ্বায়কের বাসায় যাচ্ছেন তারেক রহমান

ঝড়ের আশঙ্কায় রাজ্যটির পাঁচটি জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গঞ্জাম, গজপতি, রায়গড়া, কোরাপুট ও মালকানগিরি জেলায় ২৮ ও ২৯ অক্টোবর স্কুল, কলেজ এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ থাকবে। অন্য জেলাগুলোতে আবহাওয়ার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকেরা।

ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি প্রশাসনকে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতার প্রস্তুতি জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় ওড়িশা দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর প্রায় ৬০টি দল, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর ১৭টি দল এবং দমকলের ২২৫টি দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাও করেছে প্রশাসন।

আবহাওয়া দপ্তর ২৮ অক্টোবর গঞ্জাম, গজপতি, রায়গড়া, কোরাপুট ও মালকানগিরি জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় লাল সতর্কতা জারি করেছে। এসব জেলার কোনো কোনো এলাকায় ২০ সেন্টিমিটারের বেশি বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে বজ্রপাত এবং ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

এদিকে তামিলনাড়ু ও পুদুচেরির কয়েকটি এলাকায় টানা বৃষ্টিতে পানি জমে জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে। পুদুচেরির কোস্ট রোড, কৃষ্ণনগর ও লাসপেট এলাকায় জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ বেড়েছে। চেন্নাই, নাগাপট্টিনম, কুড্ডালোর, কারাইকাল, পাম্বান ও তুতিকোরিনসহ একাধিক বন্দরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে এর নাম হবে ‘অর্ণব’। নামটি দিয়েছে বাংলাদেশ। তবে ঘূর্ণিঝড়টির সম্ভাব্য গতিপথ, শক্তি এবং কোথায় স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে, তা পরবর্তী আবহাওয়ার পূর্বাভাসের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হবে। এ পরিস্থিতিতে উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা

আপডেট সময় ০১:৫৯:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

 

বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়াচ্ছে নিম্নচাপ, যা সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টি ২৮ অক্টোবর সকালে অন্ধ্রপ্রদেশের বাপটলা ও বিশাখাপত্তমের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে। এ আশঙ্কায় ভারতের পূর্ব ও দক্ষিণ উপকূলীয় রাজ্যগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে ওড়িশা সরকার।

আরও পড়ুন  ‘আপনি দয়া করে সাবধান থাকবেন’, তারেক রহমানকে মির্জা আব্বাস

ঝড়ের আশঙ্কায় রাজ্যটির পাঁচটি জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গঞ্জাম, গজপতি, রায়গড়া, কোরাপুট ও মালকানগিরি জেলায় ২৮ ও ২৯ অক্টোবর স্কুল, কলেজ এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ থাকবে। অন্য জেলাগুলোতে আবহাওয়ার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকেরা।

ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি প্রশাসনকে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতার প্রস্তুতি জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় ওড়িশা দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর প্রায় ৬০টি দল, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর ১৭টি দল এবং দমকলের ২২৫টি দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাও করেছে প্রশাসন।

আবহাওয়া দপ্তর ২৮ অক্টোবর গঞ্জাম, গজপতি, রায়গড়া, কোরাপুট ও মালকানগিরি জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় লাল সতর্কতা জারি করেছে। এসব জেলার কোনো কোনো এলাকায় ২০ সেন্টিমিটারের বেশি বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে বজ্রপাত এবং ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

এদিকে তামিলনাড়ু ও পুদুচেরির কয়েকটি এলাকায় টানা বৃষ্টিতে পানি জমে জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে। পুদুচেরির কোস্ট রোড, কৃষ্ণনগর ও লাসপেট এলাকায় জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ বেড়েছে। চেন্নাই, নাগাপট্টিনম, কুড্ডালোর, কারাইকাল, পাম্বান ও তুতিকোরিনসহ একাধিক বন্দরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে এর নাম হবে ‘অর্ণব’। নামটি দিয়েছে বাংলাদেশ। তবে ঘূর্ণিঝড়টির সম্ভাব্য গতিপথ, শক্তি এবং কোথায় স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে, তা পরবর্তী আবহাওয়ার পূর্বাভাসের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হবে। এ পরিস্থিতিতে উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।