ঢাকা ০৬:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

কারাগারে চুপচাপ শ্রদ্ধা, খেতেও অনীহা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:০৭:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / 34

ছবি: সংগৃহীত

 

ভারতের লক্ষ্ণৌয়ের ক্যাফে ব্যবসায়ী শিবা শর্মার মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার মডেল শ্রদ্ধা দুবে এখন গোসাইগঞ্জ জেলা কারাগারে রয়েছেন। কারা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি ঠিকমতো খাচ্ছেন না। অন্য বন্দিদের সঙ্গেও খুব একটা কথা বলছেন না। বর্তমানে বোন রশ্মিসহ ৪৫ নারী বন্দির সঙ্গে একই কক্ষে দিন কাটছে তাঁর।

গত ৯ অক্টোবর লক্ষ্ণৌয়ের একটি আবাসনের চারতলা থেকে পড়ে মারা যান ক্যাফে মালিক শিবা শর্মা। ওই আবাসনেই শ্রদ্ধা দুবের সঙ্গে তাঁর লিভ-ইন সম্পর্ক ছিল। শিবার মৃত্যুর ঘটনায় শ্রদ্ধার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে শ্রদ্ধার দাবি, শিবা আত্মহত্যা করেছেন।

আরও পড়ুন  কাশ্মীর সীমান্তে রাতভর গোলাগুলি, পাকিস্তানি হামলায় ভারতীয় চেকপোস্ট ধ্বংস

এ ঘটনায় গত ২০ অক্টোবর মহারাষ্ট্রের পুলিশ নাগপুর থেকে শ্রদ্ধা দুবে, তাঁর বোন রশ্মি এবং তাঁদের গাড়িচালক আদিলকে গ্রেপ্তার করে। পরে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) তাঁদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তিনজনকে ১০ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

শিবার মৃত্যুর পর শ্রদ্ধা ও তাঁর সঙ্গীদের পালিয়ে যেতে সহায়তাকারীদের খুঁজছে পুলিশ। এ ঘটনায় শ্রদ্ধার প্রেমিক আমির শেখের নাম সামনে এসেছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আমির ও তাঁর সহযোগীরা শ্রদ্ধা, রশ্মি ও আদিলকে কানপুর, নাগপুর এমনকি নেপালেও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দেন। আমির শেখকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অন্য সহযোগীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

নেপালে অবস্থানকালে পুলিশের নজরে আসার পর গ্রেপ্তার এড়াতে শ্রদ্ধা ও তাঁর সঙ্গীরা আবার ভারতে ফিরে আসেন। পরে তাঁরা নাগপুরে আশ্রয় নেন। সেখান থেকেই তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

কারা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, কারাগারে নেওয়ার পর প্রথমে শ্রদ্ধা, রশ্মি ও আদিলকে পৃথকভাবে নিভৃতবাসে রাখা হয়েছিল। পরে তাঁদের অন্য কক্ষে স্থানান্তর করা হয়। শ্রদ্ধা ও তাঁর বোন রশ্মিকে রাখা হয়েছে ৪৫ নারী বন্দির সঙ্গে।

গ্রেপ্তারের পর থেকে দুই বোনের সঙ্গে দেখা করতে পরিবারের কেউ কারাগারে আসেননি বলে জানিয়েছে কারা সূত্র। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কারাগারের জেলার ঋত্বিক প্রিয়দর্শী।

কারা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শ্রদ্ধা ও রশ্মি বেশিরভাগ সময় চুপচাপ বসে থাকছেন। মাঝেমধ্যে নিজেদের মধ্যে কথা বললেও অন্য বন্দিদের সঙ্গে তাঁদের কথাবার্তা খুবই সীমিত।

কারাগারে প্রথম রাতেও স্বাভাবিকভাবে সময় কাটাতে পারেননি শ্রদ্ধা। রাতে তাঁকে রুটি, ডাল, আলু-সয়াবিন ও মেথি শাকের তরকারি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি খাবার খেতে চাননি। অনেক রাত পর্যন্ত জেগে ছিলেন এবং ঠিকমতো ঘুমাতেও পারেননি। ভোর ৬টার দিকে অন্য বন্দিদের সঙ্গে তাঁকেও ঘুম থেকে উঠতে হয়। কারাগারে এভাবেই দিন কাটছে শ্রদ্ধা দুবের।

নিউজটি শেয়ার করুন

কারাগারে চুপচাপ শ্রদ্ধা, খেতেও অনীহা

আপডেট সময় ০৫:০৭:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

 

ভারতের লক্ষ্ণৌয়ের ক্যাফে ব্যবসায়ী শিবা শর্মার মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার মডেল শ্রদ্ধা দুবে এখন গোসাইগঞ্জ জেলা কারাগারে রয়েছেন। কারা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি ঠিকমতো খাচ্ছেন না। অন্য বন্দিদের সঙ্গেও খুব একটা কথা বলছেন না। বর্তমানে বোন রশ্মিসহ ৪৫ নারী বন্দির সঙ্গে একই কক্ষে দিন কাটছে তাঁর।

গত ৯ অক্টোবর লক্ষ্ণৌয়ের একটি আবাসনের চারতলা থেকে পড়ে মারা যান ক্যাফে মালিক শিবা শর্মা। ওই আবাসনেই শ্রদ্ধা দুবের সঙ্গে তাঁর লিভ-ইন সম্পর্ক ছিল। শিবার মৃত্যুর ঘটনায় শ্রদ্ধার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে শ্রদ্ধার দাবি, শিবা আত্মহত্যা করেছেন।

আরও পড়ুন  ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা নিরসনে মধ্যস্থতার প্রস্তাব ইরানের

এ ঘটনায় গত ২০ অক্টোবর মহারাষ্ট্রের পুলিশ নাগপুর থেকে শ্রদ্ধা দুবে, তাঁর বোন রশ্মি এবং তাঁদের গাড়িচালক আদিলকে গ্রেপ্তার করে। পরে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) তাঁদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তিনজনকে ১০ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

শিবার মৃত্যুর পর শ্রদ্ধা ও তাঁর সঙ্গীদের পালিয়ে যেতে সহায়তাকারীদের খুঁজছে পুলিশ। এ ঘটনায় শ্রদ্ধার প্রেমিক আমির শেখের নাম সামনে এসেছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আমির ও তাঁর সহযোগীরা শ্রদ্ধা, রশ্মি ও আদিলকে কানপুর, নাগপুর এমনকি নেপালেও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দেন। আমির শেখকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অন্য সহযোগীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

নেপালে অবস্থানকালে পুলিশের নজরে আসার পর গ্রেপ্তার এড়াতে শ্রদ্ধা ও তাঁর সঙ্গীরা আবার ভারতে ফিরে আসেন। পরে তাঁরা নাগপুরে আশ্রয় নেন। সেখান থেকেই তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

কারা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, কারাগারে নেওয়ার পর প্রথমে শ্রদ্ধা, রশ্মি ও আদিলকে পৃথকভাবে নিভৃতবাসে রাখা হয়েছিল। পরে তাঁদের অন্য কক্ষে স্থানান্তর করা হয়। শ্রদ্ধা ও তাঁর বোন রশ্মিকে রাখা হয়েছে ৪৫ নারী বন্দির সঙ্গে।

গ্রেপ্তারের পর থেকে দুই বোনের সঙ্গে দেখা করতে পরিবারের কেউ কারাগারে আসেননি বলে জানিয়েছে কারা সূত্র। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কারাগারের জেলার ঋত্বিক প্রিয়দর্শী।

কারা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শ্রদ্ধা ও রশ্মি বেশিরভাগ সময় চুপচাপ বসে থাকছেন। মাঝেমধ্যে নিজেদের মধ্যে কথা বললেও অন্য বন্দিদের সঙ্গে তাঁদের কথাবার্তা খুবই সীমিত।

কারাগারে প্রথম রাতেও স্বাভাবিকভাবে সময় কাটাতে পারেননি শ্রদ্ধা। রাতে তাঁকে রুটি, ডাল, আলু-সয়াবিন ও মেথি শাকের তরকারি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি খাবার খেতে চাননি। অনেক রাত পর্যন্ত জেগে ছিলেন এবং ঠিকমতো ঘুমাতেও পারেননি। ভোর ৬টার দিকে অন্য বন্দিদের সঙ্গে তাঁকেও ঘুম থেকে উঠতে হয়। কারাগারে এভাবেই দিন কাটছে শ্রদ্ধা দুবের।