ঢাকা ০১:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

৫০০ কোটি রুপি নিয়ে বিজেপি-শিবসেনার দ্বন্দ্ব

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৪২:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / 24

ছবি: সংগৃহীত

 

ভারতের মহারাষ্ট্রে ৫০০ কোটি রুপি লেনদেনের অভিযোগ ঘিরে ক্ষমতাসীন জোটের শরিক বিজেপি ও শিবসেনার মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মারাঠা সংরক্ষণ আন্দোলনের নেতা মনোজ জারাঙ্গে পাতিলের প্রকাশ করা একটি অডিও ক্লিপে দাবি করা হয়েছে, শিবসেনার সংসদ সদস্য শ্রীকান্ত শিন্ডের মাধ্যমে তার কাছে ওই অর্থ পাঠানো হয়েছিল। তবে অডিও ক্লিপটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। শ্রীকান্ত শিন্ডে ও তার বাবা মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। জারাঙ্গে পাতিলও বলেছেন, তিনি এমন কোনো অর্থ চাননি বা গ্রহণ করেননি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির অর্থ শ্রীকান্ত শিন্ডের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। নতুন অডিও ক্লিপ প্রকাশের পর বিষয়টি আবারও রাজনৈতিক আলোচনায় এসেছে।

আরও পড়ুন  কাশ্মীর সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনা, আহত ৪: ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা তুঙ্গে

একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনার নেতারা ঘটনাটিকে তাকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে বিজেপির নেতাদেরও দাবি, অর্থ লেনদেনের অভিযোগের সঙ্গে দলকে জড়িয়ে ফেলার পেছনে ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।

শিবসেনার নেতা ও মহারাষ্ট্রের সাবেক মন্ত্রী রামদাস কদম অভিযোগ করেছেন, বিজেপির একটি অংশ একনাথ শিন্ডেকে রাজনৈতিকভাবে শেষ করে দিতে চায়। শুক্রবার তিনি বিজেপির বিধান পরিষদের সদস্য প্রবীণ দারেকর ও প্রসাদ লাডের নাম উল্লেখ করেন। এ সময় লাড ও জারাঙ্গে পাতিলের একসঙ্গে খাবার খাওয়ার একটি ছবিও দেখান তিনি।

কদমের অভিযোগের জবাবে দারেকর ও লাড বলেন, বিজেপিকে এভাবে অভিযোগের মুখে ফেলা হলে দল তা মেনে নেবে না। লাড কদমকে শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা সঞ্জয় রাউতের মতো আচরণ না করার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের বিরুদ্ধে জারাঙ্গে পাতিলকে নেপথ্য থেকে কারা সমর্থন দিচ্ছে, তা শিগগিরই প্রকাশ পাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গত সপ্তাহের শুরুতে বীডে এক সমাবেশে জারাঙ্গে পাতিল অভিযোগ করেন, বিজেপির অভ্যন্তরীণ আলোচনায় বলা হচ্ছে, শ্রীকান্ত শিন্ডের মাধ্যমে তাকে ৫০০ কোটি রুপি দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একটি অডিও ক্লিপ বাজান। তবে রেকর্ডিংয়ে কথা বলতে শোনা যাওয়া তিন থেকে চারজনের পরিচয় প্রকাশ করেননি তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে একনাথ শিন্ডে বলেন, যথাযথ যাচাই না করে জারাঙ্গে পাতিলের এমন দাবি করা উচিত হয়নি। এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ থাকলে তা সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার কাছে জমা দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা এ ঘটনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে চিঠি দিয়েছে। এর মধ্যে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ অভিযোগটি তদন্তের ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার তিনি অডিও ক্লিপটির ফরেনসিক পরীক্ষার নির্দেশ দেন। এর আগে একনাথ শিন্ডের পক্ষের একটি প্রতিনিধিদল তার সঙ্গে দেখা করে।

ফড়নবিশ বলেন, আড়াই বছর পর কেন এসব কথোপকথন সামনে এসেছে, সেটিই সবার প্রশ্ন।

শনিবার অভিযোগটি নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন শ্রীকান্ত শিন্ডে। তিনি বলেন, মনোজ জারাঙ্গে পাতিলের মনে যে প্রশ্ন এসেছে, সেটি তার মনেও এসেছে। এখন তিনি নিজেও ওই অর্থ খুঁজছেন। ৫০০ কোটি রুপি নগদ দেখতে কেমন হবে এবং তা বহনের জন্য কতটি গাড়ির প্রয়োজন হবে, তা নিয়েও তারা আলোচনা করছিলেন বলে কৌতুক করেন তিনি।

পরে বিজেপি নেতা প্রসাদ লাডের বক্তব্যে দুই দলের বিরোধ মিটে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। শিবসেনার মন্ত্রী উদয় সামন্ত একনাথ শিন্ডে ও ফড়নবিশের সঙ্গে আলোচনা শেষে তার সঙ্গে কথা বলেছিলেন বলে জানান লাড। তিনি বলেন, বিষয়টি এখন শেষ। এ বিরোধ তৈরির জন্য শিবসেনা (ইউবিটি) সাংসদ সঞ্জয় রাউতকে দায়ী করেন তিনি। একই সঙ্গে একনাথ শিন্ডেকে বড় ভাইয়ের মতো সম্মান করেন বলেও জানান লাড।

অন্যদিকে, জারাঙ্গে পাতিল অডিও ক্লিপটিকে আসল বলে দাবি করেছেন। ক্লিপটি তিনি কীভাবে পেয়েছেন, সে বিষয়ে রামদাস কদমকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

প্রকাশিত রেকর্ডিংয়ে এক নারীকে বলতে শোনা যায়, শ্রীকান্ত শিন্ডের মাধ্যমে জারাঙ্গে পাতিলের কাছে ৫০০ কোটি রুপি পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে মারাঠওয়াড়া অঞ্চলে জারাঙ্গে পাতিলের প্রভাব কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, তা নিয়ে কয়েকজনকে আলোচনা করতে শোনা যায় বলে দাবি করা হয়েছে। তবে রেকর্ডিংটির সত্যতা এবং এতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

৫০০ কোটি রুপি নিয়ে বিজেপি-শিবসেনার দ্বন্দ্ব

আপডেট সময় ১১:৪২:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

 

ভারতের মহারাষ্ট্রে ৫০০ কোটি রুপি লেনদেনের অভিযোগ ঘিরে ক্ষমতাসীন জোটের শরিক বিজেপি ও শিবসেনার মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মারাঠা সংরক্ষণ আন্দোলনের নেতা মনোজ জারাঙ্গে পাতিলের প্রকাশ করা একটি অডিও ক্লিপে দাবি করা হয়েছে, শিবসেনার সংসদ সদস্য শ্রীকান্ত শিন্ডের মাধ্যমে তার কাছে ওই অর্থ পাঠানো হয়েছিল। তবে অডিও ক্লিপটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। শ্রীকান্ত শিন্ডে ও তার বাবা মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। জারাঙ্গে পাতিলও বলেছেন, তিনি এমন কোনো অর্থ চাননি বা গ্রহণ করেননি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির অর্থ শ্রীকান্ত শিন্ডের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। নতুন অডিও ক্লিপ প্রকাশের পর বিষয়টি আবারও রাজনৈতিক আলোচনায় এসেছে।

আরও পড়ুন  ভারত-ইরান-কাবুল বাণিজ্য রুট নিয়ে নতুন যুগের আলোচনা

একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনার নেতারা ঘটনাটিকে তাকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে বিজেপির নেতাদেরও দাবি, অর্থ লেনদেনের অভিযোগের সঙ্গে দলকে জড়িয়ে ফেলার পেছনে ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।

শিবসেনার নেতা ও মহারাষ্ট্রের সাবেক মন্ত্রী রামদাস কদম অভিযোগ করেছেন, বিজেপির একটি অংশ একনাথ শিন্ডেকে রাজনৈতিকভাবে শেষ করে দিতে চায়। শুক্রবার তিনি বিজেপির বিধান পরিষদের সদস্য প্রবীণ দারেকর ও প্রসাদ লাডের নাম উল্লেখ করেন। এ সময় লাড ও জারাঙ্গে পাতিলের একসঙ্গে খাবার খাওয়ার একটি ছবিও দেখান তিনি।

কদমের অভিযোগের জবাবে দারেকর ও লাড বলেন, বিজেপিকে এভাবে অভিযোগের মুখে ফেলা হলে দল তা মেনে নেবে না। লাড কদমকে শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা সঞ্জয় রাউতের মতো আচরণ না করার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের বিরুদ্ধে জারাঙ্গে পাতিলকে নেপথ্য থেকে কারা সমর্থন দিচ্ছে, তা শিগগিরই প্রকাশ পাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গত সপ্তাহের শুরুতে বীডে এক সমাবেশে জারাঙ্গে পাতিল অভিযোগ করেন, বিজেপির অভ্যন্তরীণ আলোচনায় বলা হচ্ছে, শ্রীকান্ত শিন্ডের মাধ্যমে তাকে ৫০০ কোটি রুপি দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একটি অডিও ক্লিপ বাজান। তবে রেকর্ডিংয়ে কথা বলতে শোনা যাওয়া তিন থেকে চারজনের পরিচয় প্রকাশ করেননি তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে একনাথ শিন্ডে বলেন, যথাযথ যাচাই না করে জারাঙ্গে পাতিলের এমন দাবি করা উচিত হয়নি। এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ থাকলে তা সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার কাছে জমা দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা এ ঘটনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে চিঠি দিয়েছে। এর মধ্যে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ অভিযোগটি তদন্তের ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার তিনি অডিও ক্লিপটির ফরেনসিক পরীক্ষার নির্দেশ দেন। এর আগে একনাথ শিন্ডের পক্ষের একটি প্রতিনিধিদল তার সঙ্গে দেখা করে।

ফড়নবিশ বলেন, আড়াই বছর পর কেন এসব কথোপকথন সামনে এসেছে, সেটিই সবার প্রশ্ন।

শনিবার অভিযোগটি নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন শ্রীকান্ত শিন্ডে। তিনি বলেন, মনোজ জারাঙ্গে পাতিলের মনে যে প্রশ্ন এসেছে, সেটি তার মনেও এসেছে। এখন তিনি নিজেও ওই অর্থ খুঁজছেন। ৫০০ কোটি রুপি নগদ দেখতে কেমন হবে এবং তা বহনের জন্য কতটি গাড়ির প্রয়োজন হবে, তা নিয়েও তারা আলোচনা করছিলেন বলে কৌতুক করেন তিনি।

পরে বিজেপি নেতা প্রসাদ লাডের বক্তব্যে দুই দলের বিরোধ মিটে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। শিবসেনার মন্ত্রী উদয় সামন্ত একনাথ শিন্ডে ও ফড়নবিশের সঙ্গে আলোচনা শেষে তার সঙ্গে কথা বলেছিলেন বলে জানান লাড। তিনি বলেন, বিষয়টি এখন শেষ। এ বিরোধ তৈরির জন্য শিবসেনা (ইউবিটি) সাংসদ সঞ্জয় রাউতকে দায়ী করেন তিনি। একই সঙ্গে একনাথ শিন্ডেকে বড় ভাইয়ের মতো সম্মান করেন বলেও জানান লাড।

অন্যদিকে, জারাঙ্গে পাতিল অডিও ক্লিপটিকে আসল বলে দাবি করেছেন। ক্লিপটি তিনি কীভাবে পেয়েছেন, সে বিষয়ে রামদাস কদমকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

প্রকাশিত রেকর্ডিংয়ে এক নারীকে বলতে শোনা যায়, শ্রীকান্ত শিন্ডের মাধ্যমে জারাঙ্গে পাতিলের কাছে ৫০০ কোটি রুপি পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে মারাঠওয়াড়া অঞ্চলে জারাঙ্গে পাতিলের প্রভাব কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, তা নিয়ে কয়েকজনকে আলোচনা করতে শোনা যায় বলে দাবি করা হয়েছে। তবে রেকর্ডিংটির সত্যতা এবং এতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।