ঢাকা ০৫:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

সাগরে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা, দেশে প্রভাব কেমন হবে?

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৪৯:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / 31

ছবি সংগৃহীত

 

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট নিম্নচাপটি শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওরিশা রাজ্যের মধ্যবর্তী উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন আবহাওয়াবিদ, জলবায়ু গবেষক ও বিজ্ঞান লেখক মোস্তফা কামাল পলাশ। তার মতে, ঘূর্ণিঝড়টির সরাসরি বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানার আশঙ্কা তুলনামূলক কম হলেও এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব তথ্য জানান।

আরও পড়ুন  ফিলিপাইনে টাইফুন কালমেগির আঘাতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৬

মোস্তফা কামাল পলাশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপটি শক্তিশালী হয়ে সুস্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। জাপানের হিমাওয়ারি-৯ কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহের ছবি বিশ্লেষণ করে তিনি জানান, শনিবার বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টা ২০ মিনিটে নিম্নচাপটির কেন্দ্র ছিল প্রায় ১৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৯০ দশমিক ১২ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।

তার ভাষ্য, নিম্নচাপটির বর্তমান অবস্থানে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। ফলে শনিবার এটি প্রায় একই এলাকায় অবস্থান করে আরও শক্তিশালী হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টার মধ্যে নিম্নচাপটি কিছুটা পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। একই দিন এটি আরও শক্তিশালী হয়ে অতি গভীর নিম্নচাপে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এরপর সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে এর নাম হবে ‘অর্নব’।

মোস্তফা কামাল পলাশের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টি মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মধ্যরাতের পর থেকে বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরের মধ্যে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওরিশা রাজ্যের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে।

সমুদ্রে অবস্থানকালে ঘূর্ণিঝড়টির বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ থেকে ১১৭ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে উপকূলে আঘাত হানার সময় এর শক্তি কমে ঘণ্টায় ৬৩ থেকে ৮৮ কিলোমিটার বাতাসের গতিবেগসম্পন্ন ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশে বৃষ্টিপাতের বিষয়ে মোস্তফা কামাল পলাশ জানান, ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার, বান্দরবান, দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি জেলা ছাড়া দেশের অন্য ৬০ জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা খুবই কম। ২৭ অক্টোবর খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু এলাকায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে। ২৮ ও ২৯ অক্টোবর দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তুলনামূলক বেশি বৃষ্টি হতে পারে খুলনা, রাজশাহী, রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাগুলোতে।

এ পরিস্থিতিতে জমিতে পাকা ধান থাকলে ২৬ অক্টোবরের মধ্যে কেটে মাড়াই করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

সমুদ্রগামী জেলে ও নৌযান চলাচলের বিষয়ে সতর্ক করে মোস্তফা কামাল পলাশ বলেন, শনিবার থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর ক্রমেই উত্তাল হয়ে উঠতে পারে। তাই গভীর সমুদ্রে অবস্থানরত জেলেদের ২৫ অক্টোবরের মধ্যে উপকূলে ফিরে আসার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ২৬ অক্টোবর থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন।

কক্সবাজারের লবণচাষিদের জন্যও সতর্কবার্তা দিয়েছেন এই আবহাওয়াবিদ। জমিতে সংগ্রহের উপযোগী লবণ থাকলে ২৬ অক্টোবরের মধ্যে তা তুলে ফেলা অথবা এক জায়গায় জড়ো করে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি, যাতে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায়।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

সাগরে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা, দেশে প্রভাব কেমন হবে?

আপডেট সময় ০৩:৪৯:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

 

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট নিম্নচাপটি শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওরিশা রাজ্যের মধ্যবর্তী উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন আবহাওয়াবিদ, জলবায়ু গবেষক ও বিজ্ঞান লেখক মোস্তফা কামাল পলাশ। তার মতে, ঘূর্ণিঝড়টির সরাসরি বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানার আশঙ্কা তুলনামূলক কম হলেও এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব তথ্য জানান।

আরও পড়ুন  অস্ট্রেলিয়ায় ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আলফ্রেড, সীমাহীন ক্ষয়ক্ষতি সম্মুখীন উপকূলীয় অঞ্চল

মোস্তফা কামাল পলাশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপটি শক্তিশালী হয়ে সুস্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। জাপানের হিমাওয়ারি-৯ কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহের ছবি বিশ্লেষণ করে তিনি জানান, শনিবার বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টা ২০ মিনিটে নিম্নচাপটির কেন্দ্র ছিল প্রায় ১৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৯০ দশমিক ১২ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।

তার ভাষ্য, নিম্নচাপটির বর্তমান অবস্থানে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। ফলে শনিবার এটি প্রায় একই এলাকায় অবস্থান করে আরও শক্তিশালী হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টার মধ্যে নিম্নচাপটি কিছুটা পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। একই দিন এটি আরও শক্তিশালী হয়ে অতি গভীর নিম্নচাপে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এরপর সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে এর নাম হবে ‘অর্নব’।

মোস্তফা কামাল পলাশের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টি মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মধ্যরাতের পর থেকে বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরের মধ্যে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওরিশা রাজ্যের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে।

সমুদ্রে অবস্থানকালে ঘূর্ণিঝড়টির বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ থেকে ১১৭ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে উপকূলে আঘাত হানার সময় এর শক্তি কমে ঘণ্টায় ৬৩ থেকে ৮৮ কিলোমিটার বাতাসের গতিবেগসম্পন্ন ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশে বৃষ্টিপাতের বিষয়ে মোস্তফা কামাল পলাশ জানান, ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার, বান্দরবান, দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি জেলা ছাড়া দেশের অন্য ৬০ জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা খুবই কম। ২৭ অক্টোবর খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু এলাকায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে। ২৮ ও ২৯ অক্টোবর দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তুলনামূলক বেশি বৃষ্টি হতে পারে খুলনা, রাজশাহী, রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাগুলোতে।

এ পরিস্থিতিতে জমিতে পাকা ধান থাকলে ২৬ অক্টোবরের মধ্যে কেটে মাড়াই করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

সমুদ্রগামী জেলে ও নৌযান চলাচলের বিষয়ে সতর্ক করে মোস্তফা কামাল পলাশ বলেন, শনিবার থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর ক্রমেই উত্তাল হয়ে উঠতে পারে। তাই গভীর সমুদ্রে অবস্থানরত জেলেদের ২৫ অক্টোবরের মধ্যে উপকূলে ফিরে আসার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ২৬ অক্টোবর থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন।

কক্সবাজারের লবণচাষিদের জন্যও সতর্কবার্তা দিয়েছেন এই আবহাওয়াবিদ। জমিতে সংগ্রহের উপযোগী লবণ থাকলে ২৬ অক্টোবরের মধ্যে তা তুলে ফেলা অথবা এক জায়গায় জড়ো করে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি, যাতে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায়।