ঢাকা ০২:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ-নেপালের আন্দোলনের তুলনা; যা বললেন অভিজিৎ দিপকে

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৪৪:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
  • / 21

ছবি: সংগৃহীত

ভারতে তরুণদের আন্দোলনকে বাংলাদেশ ও নেপালে সরকার পরিবর্তনের আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করার বিরোধিতা করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দিপকে। কারাবন্দি দলীয় নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার আচরণকে মহাত্মা গান্ধীর সত্যাগ্রহের সঙ্গে তুলনা করে তিনি দাবি করেছেন, তাঁদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ এবং এতে সহিংসতার কোনো প্রকাশ নেই।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় এসব কথা বলেন দিপকে। তিনি কারাবন্দি সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, তাঁদের শান্ত ও সংযত আচরণকে সহিংস প্রতিবাদ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং তাঁদের অবস্থান গান্ধীর সত্যাগ্রহ আন্দোলনের আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ কারণে ভারতের বিক্ষোভকারীদের অহিংস মনোভাবের দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

দিপকে বলেন, যারা বারবার ফ্রান্সের পরিস্থিতির উদাহরণ টেনে ভারতের আন্দোলনকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছেন, তাঁদের নিজেদের অবস্থান নিয়ে লজ্জিত হওয়া উচিত। অন্য দেশের দিকে তাকানোর পরিবর্তে ভারতের পরিস্থিতি দেখা দরকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা হাসিমুখে কারাগারে গেছেন। অন্য জায়গায় যেসব ঘটনা ঘটছে, তাঁদের কর্মকাণ্ড তেমন নয়। বেআইনিভাবে আটক করা হচ্ছে বলে জানার পরও তাঁরা শান্তি ও সম্প্রীতির পথ বেছে নিয়েছেন এবং মনে রাগ বা ঘৃণা না রেখে হাসিমুখে কারাগারে প্রবেশ করেছেন।

আরও পড়ুন  জামায়াতসহ ৮ দলের হুঁশিয়ারি,দাবি না মানলে আন্দোলন তীব্র হবে

ভারতের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভের সঙ্গে বিদেশের সহিংস আন্দোলন কিংবা সরকার পরিবর্তনের ঘটনাকে এক করে দেখার বিরোধিতা করেন দিপকে। এ সময় তিনি কারাবন্দি দুই কর্মীর আচরণের পার্থক্য তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, অনেকে নেপাল ও বাংলাদেশের প্রসঙ্গ তুলছেন। কিন্তু তাঁদের সহযোদ্ধাদের দিকে তাকানো উচিত। তাঁর দাবি, সৌরভ ও আশুতোষ কারও উসকানিতে সাড়া না দিয়ে হাসিমুখে কারাগারে গেছেন। তাঁরা গান্ধীর আদর্শ ধারণ করছেন—কারাগারে যাওয়ার সময় যেমন হেসেছেন, তেমনি আদালতকক্ষেও তাঁদের হাসিমুখ দেখা গেছে। তাঁদের মধ্যে ঘৃণা তৈরি করা যাবে না উল্লেখ করে দিপকে বলেন, ঘৃণা বরং তাঁদের সমালোচকদের মধ্যেই রয়েছে। এই ঘৃণা দেশকে কোথায় নিয়ে দাঁড় করিয়েছে, তা সবাই দেখতে পাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দিপকের মতে, আন্দোলনকারীদের কারাবরণ কোনো বিশৃঙ্খল অভ্যুত্থানের চেষ্টা নয়; বরং এটি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কিত একধরনের নৈতিক জাগরণ। তিনি বলেন, সরাসরি তুলনা না করেও বলা যায়, তাঁদের কর্মকাণ্ডে মহাত্মা গান্ধীর সত্যাগ্রহের প্রতিফলন রয়েছে। গান্ধীকে কারাগারে পাঠানোর সময় তিনি নীরবে চলে গিয়েছিলেন, কারণ সেটি ছিল তাঁর সত্যাগ্রহ। আশুতোষ ও সৌরভও একই পথ অনুসরণ করছেন বলে দাবি করেন দিপকে। কারাগারের ভেতরে কষ্ট সহ্য করে তাঁরা দেশের বিবেক জাগিয়ে তুলছেন উল্লেখ করে তিনি তাঁদের মুক্তির অপেক্ষায় থাকার কথাও জানান।

ভারতের নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সিজেপি ও বিরোধী দলগুলো আন্দোলন করছে। এই বিক্ষোভকে ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সহিংস নাগরিক অস্থিরতার সঙ্গে তুলনা করার প্রচেষ্টার বিরোধিতা করেছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। দলটির বক্তব্য, এই আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অভিযোগের পর কংগ্রেস এ বিষয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানায়। বিজেপির দাবি, ‘ভারতবিরোধী একটি চক্র’ বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের সাম্প্রতিক অস্থিরতার মতো পরিস্থিতি তৈরি করে ভারতে ‘সরকার পরিবর্তনের’ পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র করছে।

সূত্র: এএনআই ও দ্য নিউজ মিল

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ-নেপালের আন্দোলনের তুলনা; যা বললেন অভিজিৎ দিপকে

আপডেট সময় ১২:৪৪:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

ভারতে তরুণদের আন্দোলনকে বাংলাদেশ ও নেপালে সরকার পরিবর্তনের আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করার বিরোধিতা করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দিপকে। কারাবন্দি দলীয় নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার আচরণকে মহাত্মা গান্ধীর সত্যাগ্রহের সঙ্গে তুলনা করে তিনি দাবি করেছেন, তাঁদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ এবং এতে সহিংসতার কোনো প্রকাশ নেই।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় এসব কথা বলেন দিপকে। তিনি কারাবন্দি সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, তাঁদের শান্ত ও সংযত আচরণকে সহিংস প্রতিবাদ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং তাঁদের অবস্থান গান্ধীর সত্যাগ্রহ আন্দোলনের আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ কারণে ভারতের বিক্ষোভকারীদের অহিংস মনোভাবের দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

দিপকে বলেন, যারা বারবার ফ্রান্সের পরিস্থিতির উদাহরণ টেনে ভারতের আন্দোলনকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছেন, তাঁদের নিজেদের অবস্থান নিয়ে লজ্জিত হওয়া উচিত। অন্য দেশের দিকে তাকানোর পরিবর্তে ভারতের পরিস্থিতি দেখা দরকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা হাসিমুখে কারাগারে গেছেন। অন্য জায়গায় যেসব ঘটনা ঘটছে, তাঁদের কর্মকাণ্ড তেমন নয়। বেআইনিভাবে আটক করা হচ্ছে বলে জানার পরও তাঁরা শান্তি ও সম্প্রীতির পথ বেছে নিয়েছেন এবং মনে রাগ বা ঘৃণা না রেখে হাসিমুখে কারাগারে প্রবেশ করেছেন।

আরও পড়ুন  আনন্দবাজারের অফিসের সামনে আন্দোলন, ফটকে গেরুয়া রং

ভারতের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভের সঙ্গে বিদেশের সহিংস আন্দোলন কিংবা সরকার পরিবর্তনের ঘটনাকে এক করে দেখার বিরোধিতা করেন দিপকে। এ সময় তিনি কারাবন্দি দুই কর্মীর আচরণের পার্থক্য তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, অনেকে নেপাল ও বাংলাদেশের প্রসঙ্গ তুলছেন। কিন্তু তাঁদের সহযোদ্ধাদের দিকে তাকানো উচিত। তাঁর দাবি, সৌরভ ও আশুতোষ কারও উসকানিতে সাড়া না দিয়ে হাসিমুখে কারাগারে গেছেন। তাঁরা গান্ধীর আদর্শ ধারণ করছেন—কারাগারে যাওয়ার সময় যেমন হেসেছেন, তেমনি আদালতকক্ষেও তাঁদের হাসিমুখ দেখা গেছে। তাঁদের মধ্যে ঘৃণা তৈরি করা যাবে না উল্লেখ করে দিপকে বলেন, ঘৃণা বরং তাঁদের সমালোচকদের মধ্যেই রয়েছে। এই ঘৃণা দেশকে কোথায় নিয়ে দাঁড় করিয়েছে, তা সবাই দেখতে পাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দিপকের মতে, আন্দোলনকারীদের কারাবরণ কোনো বিশৃঙ্খল অভ্যুত্থানের চেষ্টা নয়; বরং এটি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কিত একধরনের নৈতিক জাগরণ। তিনি বলেন, সরাসরি তুলনা না করেও বলা যায়, তাঁদের কর্মকাণ্ডে মহাত্মা গান্ধীর সত্যাগ্রহের প্রতিফলন রয়েছে। গান্ধীকে কারাগারে পাঠানোর সময় তিনি নীরবে চলে গিয়েছিলেন, কারণ সেটি ছিল তাঁর সত্যাগ্রহ। আশুতোষ ও সৌরভও একই পথ অনুসরণ করছেন বলে দাবি করেন দিপকে। কারাগারের ভেতরে কষ্ট সহ্য করে তাঁরা দেশের বিবেক জাগিয়ে তুলছেন উল্লেখ করে তিনি তাঁদের মুক্তির অপেক্ষায় থাকার কথাও জানান।

ভারতের নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সিজেপি ও বিরোধী দলগুলো আন্দোলন করছে। এই বিক্ষোভকে ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সহিংস নাগরিক অস্থিরতার সঙ্গে তুলনা করার প্রচেষ্টার বিরোধিতা করেছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। দলটির বক্তব্য, এই আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অভিযোগের পর কংগ্রেস এ বিষয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানায়। বিজেপির দাবি, ‘ভারতবিরোধী একটি চক্র’ বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের সাম্প্রতিক অস্থিরতার মতো পরিস্থিতি তৈরি করে ভারতে ‘সরকার পরিবর্তনের’ পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র করছে।

সূত্র: এএনআই ও দ্য নিউজ মিল