ঢাকা ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :

ঘরের কাজেই বাড়তি ৩-৪ ঘণ্টা ব্যয় জাপানের প্রধানমন্ত্রীর

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:৩৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / 20

ছবি: সংগৃহীত

ব্যস্ত রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ঘরের কাজও নিজ হাতে সামলাতে হয় জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে। এ কারণে পুরুষ পূর্বসূরিদের তুলনায় প্রতিদিন তাঁর অতিরিক্ত তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় ব্যয় হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।

গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) পার্লামেন্টে নিজের দৈনন্দিন রুটিনের কথা তুলে ধরেন জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি। তিনি বলেন, সকালে গোসল করা, নাশতা তৈরি এবং থালাবাসন ধোয়ার মতো কাজগুলোও তাঁকে করতে হয়। এর বাইরে সাজগোজের জন্যও সময় দিতে হয়। এসব মিলিয়ে পুরুষ প্রধানমন্ত্রীদের তুলনায় তাঁর বেশি সময় চলে যায় বলে মনে করেন তিনি।

নিজেকে কাজের প্রতি অতিমাত্রায় নিবেদিত বলে উল্লেখ করা তাকাইচি আগেও জানিয়েছেন, রাতে সাধারণত মাত্র দুই থেকে চার ঘণ্টা ঘুমান তিনি। কখনো কখনো কর্মীদের সঙ্গে রাত ৩টায় বৈঠকের সময়ও নির্ধারণ করেন।

আরও পড়ুন  বিগ–বি প্রকল্পে জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান বাংলাদেশের

জাপানের সমাজে নারী ও পুরুষের প্রচলিত ভূমিকার বিভাজন এখনো বেশ দৃঢ়। দেশটির রাজনীতিতেও নারীদের প্রতিনিধিত্ব তুলনামূলকভাবে কম। গত ফেব্রুয়ারির সর্বশেষ নিম্নকক্ষ নির্বাচনে ৪৬৫টি আসনের মধ্যে নারী আইনপ্রণেতা নির্বাচিত হয়েছেন মাত্র ৬৮ জন।

ক্ষমতাসীন জোটের এক সদস্য পার্লামেন্ট অধিবেশনে দীর্ঘ সময় উপস্থিত থাকার প্রচলিত রীতি নিয়ে তাকাইচিকে প্রশ্ন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর সময় ব্যবস্থাপনা এবং সংসদীয় কার্যক্রমের চাপ নিয়ে আলোচনা সামনে আসে।

জাপানে প্রধানমন্ত্রীদের দিনের পাঁচ থেকে সাত ঘণ্টা পর্যন্ত পার্লামেন্টে কাটানো অস্বাভাবিক নয়। এ সময় তাঁদের বিরোধী আইনপ্রণেতাদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে হয় অথবা অধিবেশনে উপস্থিত থাকতে হয়।

জাপান ইনোভেশন পার্টির আইনপ্রণেতা ফুমিতাকে ফুজিতা এ প্রসঙ্গে একটি গবেষণার তথ্য তুলে ধরেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ৭২ দিন পার্লামেন্ট অধিবেশনে অংশ নিয়েছিলেন। একই সময়ে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অধিবেশনে ছিলেন ৫০ দিন এবং জার্মানির প্রধানমন্ত্রী ১৩ দিন।
আইন প্রণয়নে সংসদীয় আলোচনার গুরুত্ব স্বীকার করলেও ফুজিতা মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীকে দীর্ঘ সময় পার্লামেন্টে আটকে রাখার বিষয়টি আন্তর্জাতিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এর আগে গত জুলাইয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তাকাইচি জানিয়েছিলেন, অফিস থেকে বাড়িতে নিয়ে আসা কাগজপত্র এবং পার্লামেন্টের প্রশ্নোত্তরসংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করতে গিয়ে অনেক সময় ভোর হয়ে যায়।

বুধবারও তিনি বলেন, গভীর রাতে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া কাগজপত্রের স্তূপ পড়ে শেষ করতে তিনি উপভোগ করেন। তবে দেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং জাপানকে কোন পথে এগিয়ে নিতে চান, তা নিয়ে নিরিবিলি পরিবেশে গভীরভাবে চিন্তা করার মতো সময় বের করা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে উঠছে।

সূত্র: জাপান টাইমস

নিউজটি শেয়ার করুন

ঘরের কাজেই বাড়তি ৩-৪ ঘণ্টা ব্যয় জাপানের প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় ০১:৩৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

ব্যস্ত রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ঘরের কাজও নিজ হাতে সামলাতে হয় জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে। এ কারণে পুরুষ পূর্বসূরিদের তুলনায় প্রতিদিন তাঁর অতিরিক্ত তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় ব্যয় হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।

গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) পার্লামেন্টে নিজের দৈনন্দিন রুটিনের কথা তুলে ধরেন জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি। তিনি বলেন, সকালে গোসল করা, নাশতা তৈরি এবং থালাবাসন ধোয়ার মতো কাজগুলোও তাঁকে করতে হয়। এর বাইরে সাজগোজের জন্যও সময় দিতে হয়। এসব মিলিয়ে পুরুষ প্রধানমন্ত্রীদের তুলনায় তাঁর বেশি সময় চলে যায় বলে মনে করেন তিনি।

নিজেকে কাজের প্রতি অতিমাত্রায় নিবেদিত বলে উল্লেখ করা তাকাইচি আগেও জানিয়েছেন, রাতে সাধারণত মাত্র দুই থেকে চার ঘণ্টা ঘুমান তিনি। কখনো কখনো কর্মীদের সঙ্গে রাত ৩টায় বৈঠকের সময়ও নির্ধারণ করেন।

আরও পড়ুন  বিগ–বি প্রকল্পে জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান বাংলাদেশের

জাপানের সমাজে নারী ও পুরুষের প্রচলিত ভূমিকার বিভাজন এখনো বেশ দৃঢ়। দেশটির রাজনীতিতেও নারীদের প্রতিনিধিত্ব তুলনামূলকভাবে কম। গত ফেব্রুয়ারির সর্বশেষ নিম্নকক্ষ নির্বাচনে ৪৬৫টি আসনের মধ্যে নারী আইনপ্রণেতা নির্বাচিত হয়েছেন মাত্র ৬৮ জন।

ক্ষমতাসীন জোটের এক সদস্য পার্লামেন্ট অধিবেশনে দীর্ঘ সময় উপস্থিত থাকার প্রচলিত রীতি নিয়ে তাকাইচিকে প্রশ্ন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর সময় ব্যবস্থাপনা এবং সংসদীয় কার্যক্রমের চাপ নিয়ে আলোচনা সামনে আসে।

জাপানে প্রধানমন্ত্রীদের দিনের পাঁচ থেকে সাত ঘণ্টা পর্যন্ত পার্লামেন্টে কাটানো অস্বাভাবিক নয়। এ সময় তাঁদের বিরোধী আইনপ্রণেতাদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে হয় অথবা অধিবেশনে উপস্থিত থাকতে হয়।

জাপান ইনোভেশন পার্টির আইনপ্রণেতা ফুমিতাকে ফুজিতা এ প্রসঙ্গে একটি গবেষণার তথ্য তুলে ধরেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ৭২ দিন পার্লামেন্ট অধিবেশনে অংশ নিয়েছিলেন। একই সময়ে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অধিবেশনে ছিলেন ৫০ দিন এবং জার্মানির প্রধানমন্ত্রী ১৩ দিন।
আইন প্রণয়নে সংসদীয় আলোচনার গুরুত্ব স্বীকার করলেও ফুজিতা মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীকে দীর্ঘ সময় পার্লামেন্টে আটকে রাখার বিষয়টি আন্তর্জাতিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এর আগে গত জুলাইয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তাকাইচি জানিয়েছিলেন, অফিস থেকে বাড়িতে নিয়ে আসা কাগজপত্র এবং পার্লামেন্টের প্রশ্নোত্তরসংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করতে গিয়ে অনেক সময় ভোর হয়ে যায়।

বুধবারও তিনি বলেন, গভীর রাতে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া কাগজপত্রের স্তূপ পড়ে শেষ করতে তিনি উপভোগ করেন। তবে দেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং জাপানকে কোন পথে এগিয়ে নিতে চান, তা নিয়ে নিরিবিলি পরিবেশে গভীরভাবে চিন্তা করার মতো সময় বের করা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে উঠছে।

সূত্র: জাপান টাইমস