ঢাকা ১২:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

এবার আর্জেন্টিনায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, আটক ২৫

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:১৮:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / 35

ছবি: সংগৃহীত

 

আর্জেন্টিনায় প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলেইয়ের কঠোর ব্যয় সংকোচন নীতির প্রতিবাদে বিক্ষোভে নেমেছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। শিক্ষা খাতে বাজেট ছাঁটাই, বেতন ও বৃত্তির সংকট এবং গবেষণার সুযোগ কমে যাওয়ার প্রতিবাদে রাজধানী বুয়েনস এইরেসে আন্দোলন চলাকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিরাপত্তাকর্মীসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ২৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

বিক্ষোভের অংশ হিসেবে বুয়েনস এইরেস বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞান অনুষদের একটি ভবন এক দিনের জন্য দখলে নেন আন্দোলনকারীরা। সেখানে সরকারের নীতির প্রতিবাদে ব্যানার টানিয়ে স্লোগান দেন তারা। তাদের স্লোগান ছিল, ‘এভাবে আর চলতে পারে না’।

আরও পড়ুন  ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম, না হলে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের লংমার্চ কর্মসূচি

শিক্ষার্থীদের আশঙ্কা, সরকারি বাজেট কমানোর ফলে বিনা মূল্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ গুরুতর হুমকির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে, পর্যাপ্ত বেতন না পাওয়ায় অনেক শিক্ষক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

২০২৩ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রেসিডেন্ট মাইলেই সরকারি খাতে হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাই, একাধিক মন্ত্রণালয় বিলুপ্ত এবং বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি কমানোর মতো কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। এসব পদক্ষেপের ফলে মাসিক মূল্যস্ফীতি কমে প্রায় ২ শতাংশে নেমে এলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক ও ওয়াশিংটন সফরকালে প্রেসিডেন্ট মাইলেই দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কথা তুলে ধরেন। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের ওপর অস্বাভাবিক ব্যয়ের চাপ বাড়িয়েই অর্থনৈতিক অগ্রগতির এই চিত্র দেখানো হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অর্থায়ন অব্যাহত রাখতে দেশটির কংগ্রেসে একটি বিল পাস হলেও প্রেসিডেন্টের ভেটো এবং সরকারের অর্থ ছাড় না করার কারণে এর বাস্তবায়ন আটকে আছে। এ পরিস্থিতিতে একটি ফেডারেল আদালত সরকারকে প্রতিদিন এক লাখ পেসো পর্যন্ত জরিমানা করেছেন। আন্দোলনকারীরা অবিলম্বে শিক্ষা খাতে নিয়মিত বাজেট বরাদ্দ এবং সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।

বুয়েনস এইরেস বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মারিয়া তেরেসা দে হেসুস জানান, মাসে প্রায় ৭০০ ডলার আয় করেও তাঁর পক্ষে সংসারের ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

আলজাজিরাকে তিনি বলেন, ‘শেষ চেষ্টা হিসেবে আমি এই বিক্ষোভে এসেছি। আমি একজন অধ্যাপক। শিক্ষকতা ও গবেষণা করতে ভালোবাসি। আমার এখানে থাকার কথা নয়।’

এদিকে, সরকারের পরিকল্পনার ওপর আস্থা হারাচ্ছেন অনেকেই। তাঁদের অভিযোগ, মাইলেই সরকার একটি সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করছে। আর সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ব্যয়ভার বহন করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

সূত্র: আলজাজিরা

নিউজটি শেয়ার করুন

এবার আর্জেন্টিনায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, আটক ২৫

আপডেট সময় ১০:১৮:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

 

আর্জেন্টিনায় প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলেইয়ের কঠোর ব্যয় সংকোচন নীতির প্রতিবাদে বিক্ষোভে নেমেছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। শিক্ষা খাতে বাজেট ছাঁটাই, বেতন ও বৃত্তির সংকট এবং গবেষণার সুযোগ কমে যাওয়ার প্রতিবাদে রাজধানী বুয়েনস এইরেসে আন্দোলন চলাকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিরাপত্তাকর্মীসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ২৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

বিক্ষোভের অংশ হিসেবে বুয়েনস এইরেস বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞান অনুষদের একটি ভবন এক দিনের জন্য দখলে নেন আন্দোলনকারীরা। সেখানে সরকারের নীতির প্রতিবাদে ব্যানার টানিয়ে স্লোগান দেন তারা। তাদের স্লোগান ছিল, ‘এভাবে আর চলতে পারে না’।

আরও পড়ুন  ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ৫৬ লাখ শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা পাঠানো শুরু

শিক্ষার্থীদের আশঙ্কা, সরকারি বাজেট কমানোর ফলে বিনা মূল্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ গুরুতর হুমকির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে, পর্যাপ্ত বেতন না পাওয়ায় অনেক শিক্ষক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

২০২৩ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রেসিডেন্ট মাইলেই সরকারি খাতে হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাই, একাধিক মন্ত্রণালয় বিলুপ্ত এবং বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি কমানোর মতো কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। এসব পদক্ষেপের ফলে মাসিক মূল্যস্ফীতি কমে প্রায় ২ শতাংশে নেমে এলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক ও ওয়াশিংটন সফরকালে প্রেসিডেন্ট মাইলেই দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কথা তুলে ধরেন। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের ওপর অস্বাভাবিক ব্যয়ের চাপ বাড়িয়েই অর্থনৈতিক অগ্রগতির এই চিত্র দেখানো হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অর্থায়ন অব্যাহত রাখতে দেশটির কংগ্রেসে একটি বিল পাস হলেও প্রেসিডেন্টের ভেটো এবং সরকারের অর্থ ছাড় না করার কারণে এর বাস্তবায়ন আটকে আছে। এ পরিস্থিতিতে একটি ফেডারেল আদালত সরকারকে প্রতিদিন এক লাখ পেসো পর্যন্ত জরিমানা করেছেন। আন্দোলনকারীরা অবিলম্বে শিক্ষা খাতে নিয়মিত বাজেট বরাদ্দ এবং সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।

বুয়েনস এইরেস বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মারিয়া তেরেসা দে হেসুস জানান, মাসে প্রায় ৭০০ ডলার আয় করেও তাঁর পক্ষে সংসারের ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

আলজাজিরাকে তিনি বলেন, ‘শেষ চেষ্টা হিসেবে আমি এই বিক্ষোভে এসেছি। আমি একজন অধ্যাপক। শিক্ষকতা ও গবেষণা করতে ভালোবাসি। আমার এখানে থাকার কথা নয়।’

এদিকে, সরকারের পরিকল্পনার ওপর আস্থা হারাচ্ছেন অনেকেই। তাঁদের অভিযোগ, মাইলেই সরকার একটি সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করছে। আর সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ব্যয়ভার বহন করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

সূত্র: আলজাজিরা