এবার ছাত্র আন্দোলনে উত্তাল আলবেনিয়া
- আপডেট সময় ০৩:২৯:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
- / 27
শিক্ষাব্যবস্থায় অবহেলা, ব্যাপক দুর্নীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের বিলাসবহুল রিসোর্ট প্রকল্পের জন্য দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জমি হস্তান্তরের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে আলবেনিয়া। রাজধানী তিরানায় শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সহিংস রূপ নেয়। তবে বিক্ষোভকারীদের পদত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী এডি রামা।
বৃহস্পতিবার তিরানার বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা সরকারি ভবনের জানালার কাচ ভাঙচুর করেন, আবর্জনার পাত্রে আগুন দেন এবং ট্রাফিক সিগন্যাল ভাঙচুর করেন। বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড তৈরি করে যান চলাচলেও বাধা দেওয়া হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দাঙ্গা পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। সংঘর্ষের কারণে পার্লামেন্টের অধিবেশন স্থগিত করা হয়। এ ছাড়া পর্যটকদের উপস্থিতিতেই রাজধানীর কেন্দ্রীয় স্কান্দারবেগ স্কয়ারে বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ।
রাজধানী তিরানার বাইরেও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। শকোদ্রা, দুরেছ, এলবাসান, কুকেস ও ভালোরা শহরে বিক্ষোভ করছেন আন্দোলনকারীরা।
বিক্ষোভের অন্যতম প্রধান কারণ দক্ষিণ আলবেনিয়ার মনোরম উপকূলীয় এলাকায় জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বিলাসবহুল রিসোর্ট নির্মাণ প্রকল্প। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই প্রকল্পের জন্য তাদের জমি অন্যায়ভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ছাড়া জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি অবহেলা এবং চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগও আন্দোলনকে তীব্র করেছে।
কিয়ারা নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, দুর্নীতিই যেন দেশটির প্রধানমন্ত্রীর পরিচয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর অভিযোগ, পরিচিতজনের সহায়তা ছাড়া নিজ যোগ্যতায় চাকরি পাওয়া কঠিন।
বিক্ষোভকারীদের পদত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান করে প্রধানমন্ত্রী এডি রামা বলেন, জনগণের কথা শোনা এবং দেশকে এগিয়ে নেওয়াই তাঁর দায়িত্ব।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, এখন পদত্যাগ করলে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের ঐতিহাসিক সুযোগ থেকে আলবেনিয়ার জনগণ বঞ্চিত হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বলকান অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে আলবেনিয়া ২০২৮ সালের মধ্যেই ইইউর সদস্যপদ পাওয়ার সম্ভাবনাময় অবস্থানে রয়েছে। এ কারণে ইউরোপীয় জোটে যোগদানের বিষয়টি দেশটির রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আলবেনিয়ায় চলমান সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মিশন। এক বিবৃতিতে বিক্ষোভে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সহিংসতা পরিহার করে গঠনমূলক সংলাপে বসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দুর্নীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং উপকূলীয় জমি হস্তান্তর নিয়ে জনঅসন্তোষের কারণে সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগে অস্বীকৃতি এবং পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সূত্র: রয়টার্স
























