ঢাকা ০৮:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

তরুণদের প্রশ্ন করার স্বাধীনতা দিতে হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৩৫:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / 22

ছবি সংগৃহীত

 

দেশের মোট জনগোষ্ঠীর প্রতি পাঁচজনের একজন কিশোর-কিশোরী। এই বিপুল তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ ও সক্ষম নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কৈশোরকালীন প্রজনন স্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও ডিজিটাল সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ নীতিগত গুরুত্ব দিতে হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। একই সঙ্গে আলোচনা ও প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নীতি সংস্কারকে দ্রুত মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান কাজে রূপান্তরের তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ ১১তম জাতীয় যুব সম্মেলন অন হেলথ অ্যান্ড ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার’-এর অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহযোগিতায় সম্মেলনটির আয়োজন করে সেরাক-বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন  মেধাবীদের হাত ধরেই বিশ্বসভায় নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ: শিক্ষামন্ত্রী

কৈশোরকালীন বিভিন্ন সংকট ও সামাজিক বাস্তবতা তুলে ধরে ড. এম এ মুহিত বলেন, কৈশোরে প্রজনন স্বাস্থ্য ও শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে কৌতূহল থাকা স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় বিষয়। কিন্তু সামাজিক ট্যাবু ও লোকলজ্জার কারণে কিশোর-কিশোরীরা প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য কোথায় যাবে বা কার কাছে জানতে চাইবে, তা বুঝতে পারে না। একইভাবে মানসিক আঘাত ও পরিবারের মধ্যে মানসিক নির্যাতন তাদের মনে গভীর ক্ষত তৈরি করে। এসব বিষয় চেপে রাখলে সমস্যা আরও জটিল হয়ে ওঠে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রশ্ন করার কারণে সন্তানদের ‘বেয়াদব’ বা ‘ইচড়েপাকা’ আখ্যা দিয়ে থামিয়ে দেওয়ার সামাজিক প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তরুণদের চোখে চোখ রেখে কথা বলা ও প্রশ্ন করার স্বাধীনতা দিতে হবে। কিশোর-কিশোরীদের মানসিক ও সামাজিক সুরক্ষায় পরিবারই সবচেয়ে বড় আশ্রয়। এ কারণে সরকারি-বেসরকারি প্রতিটি উদ্যোগ ও কার্যক্রম পরিবারকেন্দ্রিক হওয়া প্রয়োজন।

কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে সারা দেশে প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে একযোগে বড় পরিসরে জাতীয় ক্যাম্পেইন শুরু হবে।

স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য-উপাত্তভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দেশের সব এলাকার পরিস্থিতি এক রকম নয়। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নির্দিষ্ট তথ্য বিশ্লেষণ করে বাল্যবিয়ে ও পারিবারিক সহিংসতার হটস্পট চিহ্নিত করা হবে। এসব এলাকায় লক্ষ্যভিত্তিক বিশেষ কর্মসূচি ও দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা হবে।

কিশোর-কিশোরীদের প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে ড. এম এ মুহিত বলেন, উপযুক্ত পরামর্শ ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের উৎস না পেয়ে তরুণেরা তথ্য খুঁজতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা চ্যাটজিপিটির সহায়তা নিচ্ছে। প্রাথমিক ধারণা পেতে প্রযুক্তির এই ব্যবহার ইতিবাচক হলেও একাধিক নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য যাচাই করা জরুরি।

তরুণদের জন্য মনোসামাজিক কাউন্সেলিং ও বিশ্বস্ত তথ্যসেবা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সহজলভ্য ও গ্রহণযোগ্য স্বাস্থ্য নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব বেঞ্জামিন রিয়াজী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য ও ইনফরমেটিকস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. ফারিহা হাসীন। অধিবেশন সঞ্চালনা করেন সেরাক-বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস এম সৈকত। এ ছাড়া বক্তব্য দেন যুব প্রতিনিধি আতিকা রহমান চৌধুরী ও কিশোর প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

তরুণদের প্রশ্ন করার স্বাধীনতা দিতে হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৬:৩৫:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

 

দেশের মোট জনগোষ্ঠীর প্রতি পাঁচজনের একজন কিশোর-কিশোরী। এই বিপুল তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ ও সক্ষম নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কৈশোরকালীন প্রজনন স্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও ডিজিটাল সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ নীতিগত গুরুত্ব দিতে হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। একই সঙ্গে আলোচনা ও প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নীতি সংস্কারকে দ্রুত মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান কাজে রূপান্তরের তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ ১১তম জাতীয় যুব সম্মেলন অন হেলথ অ্যান্ড ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার’-এর অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহযোগিতায় সম্মেলনটির আয়োজন করে সেরাক-বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন  চার বছর ধরে অব্যবহৃত ভবন, সাভারে ক্ষোভ স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর

কৈশোরকালীন বিভিন্ন সংকট ও সামাজিক বাস্তবতা তুলে ধরে ড. এম এ মুহিত বলেন, কৈশোরে প্রজনন স্বাস্থ্য ও শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে কৌতূহল থাকা স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় বিষয়। কিন্তু সামাজিক ট্যাবু ও লোকলজ্জার কারণে কিশোর-কিশোরীরা প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য কোথায় যাবে বা কার কাছে জানতে চাইবে, তা বুঝতে পারে না। একইভাবে মানসিক আঘাত ও পরিবারের মধ্যে মানসিক নির্যাতন তাদের মনে গভীর ক্ষত তৈরি করে। এসব বিষয় চেপে রাখলে সমস্যা আরও জটিল হয়ে ওঠে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রশ্ন করার কারণে সন্তানদের ‘বেয়াদব’ বা ‘ইচড়েপাকা’ আখ্যা দিয়ে থামিয়ে দেওয়ার সামাজিক প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তরুণদের চোখে চোখ রেখে কথা বলা ও প্রশ্ন করার স্বাধীনতা দিতে হবে। কিশোর-কিশোরীদের মানসিক ও সামাজিক সুরক্ষায় পরিবারই সবচেয়ে বড় আশ্রয়। এ কারণে সরকারি-বেসরকারি প্রতিটি উদ্যোগ ও কার্যক্রম পরিবারকেন্দ্রিক হওয়া প্রয়োজন।

কৈশোরবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে সারা দেশে প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে একযোগে বড় পরিসরে জাতীয় ক্যাম্পেইন শুরু হবে।

স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য-উপাত্তভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দেশের সব এলাকার পরিস্থিতি এক রকম নয়। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নির্দিষ্ট তথ্য বিশ্লেষণ করে বাল্যবিয়ে ও পারিবারিক সহিংসতার হটস্পট চিহ্নিত করা হবে। এসব এলাকায় লক্ষ্যভিত্তিক বিশেষ কর্মসূচি ও দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা হবে।

কিশোর-কিশোরীদের প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে ড. এম এ মুহিত বলেন, উপযুক্ত পরামর্শ ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের উৎস না পেয়ে তরুণেরা তথ্য খুঁজতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা চ্যাটজিপিটির সহায়তা নিচ্ছে। প্রাথমিক ধারণা পেতে প্রযুক্তির এই ব্যবহার ইতিবাচক হলেও একাধিক নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য যাচাই করা জরুরি।

তরুণদের জন্য মনোসামাজিক কাউন্সেলিং ও বিশ্বস্ত তথ্যসেবা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সহজলভ্য ও গ্রহণযোগ্য স্বাস্থ্য নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব বেঞ্জামিন রিয়াজী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য ও ইনফরমেটিকস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. ফারিহা হাসীন। অধিবেশন সঞ্চালনা করেন সেরাক-বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস এম সৈকত। এ ছাড়া বক্তব্য দেন যুব প্রতিনিধি আতিকা রহমান চৌধুরী ও কিশোর প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ।