ঢাকা ০১:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

ছেলের প্রেমিকাকে পদত্যাগের নির্দেশ ট্রাম্পের

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৫০:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / 24

ছবি সংগৃহীত

 

গ্রিসে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিম্বার্লি গিলফয়েলকে পদত্যাগ করতে বলেছে হোয়াইট হাউস। রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক অসদাচরণের অভিযোগ ওঠার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগগুলো অস্বীকার করে নিজের নাম, সুনাম ও সততা রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন গিলফয়েল।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। নতুন প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়া তাঁর প্রথম সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, হোয়াইট হাউস গিলফয়েলকে পদত্যাগ করতে বলেছে। একই সঙ্গে তিনি গিলফয়েলকে প্রশাসনের জন্য মূল্যবান সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানান।

আরও পড়ুন  চুক্তি নিয়ে ইরানের বক্তব্য নাকচ ট্রাম্পের

পরে মঙ্গলবার হোয়াইট হাউস গিলফয়েলের আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র পেয়েছে বলে জানিয়েছেন একজন কর্মকর্তা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, গিলফয়েলকে সরিয়ে দেওয়ার পেছনে তাঁর বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো ভূমিকা রেখেছে। তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে গিলফয়েলের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেননি বলেও জানান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে গিলফয়েল স্বীকার করেন, রাষ্ট্রদূত হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালনের সময় শেষ হয়ে আসতে পারে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, নিজের নাম, সুনাম ও সততা রক্ষায় জোরালোভাবে লড়বেন।

গিলফয়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে, রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ চূড়ান্ত হওয়ার আগে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ করে দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ চাওয়া। এ ছাড়া রাষ্ট্রদূত হিসেবে দামি উপহার গ্রহণ এবং গ্রিসের একটি নির্মাণপ্রতিষ্ঠানের লবিস্টকে সরকারি বৈঠকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

তবে অর্থ চাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গিলফয়েলের আইনজীবীরা। তাঁর ভ্রমণ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো বিভ্রান্তিকর বলেও দাবি করেছেন তাঁরা। পাশাপাশি, গিলফয়েল কেন্দ্রীয় সরকারের উপহার গ্রহণ ও তথ্য প্রকাশসংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলেছেন বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

সাবেক ট্রাম্প-সমর্থক ও দাতা এরিক ডিটার্সের অভিযোগ, সিনেটে গিলফয়েলের নিয়োগ নিশ্চিত হওয়ার কয়েক দিন আগে তিনি তাঁকে বার্তা পাঠিয়ে আমেরিকান এক্সপ্রেসের এক লাখ ডলারের বিল পরিশোধের জন্য অর্থ চেয়েছিলেন। ডিটার্সের দাবি, বিনিময়ে ট্রাম্প প্রশাসনে তাঁর বিশ্বস্ত সহযোগী হয়ে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন গিলফয়েল। তবে তিনি অর্থ দেননি।

ডিটার্স সিএনএনকে বলেন, এ ঘটনায় অর্থের বিনিময়ে সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট ছিল। তবে গিলফয়েলের আইনজীবীরা অভিযোগটিকে মিথ্যা বলে অভিহিত করেছেন। তাঁদের দাবি, ডিটার্সের কাছে গিলফয়েলের বক্তৃতা ও পরামর্শক হিসেবে কাজ করার পারিশ্রমিক বকেয়া ছিল। সেই অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছিলেন তিনি।

এক্সে দেওয়া পোস্টেও গিলফয়েল অভিযোগগুলোকে মিথ্যা বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, কয়েক দশকের জনসেবার জীবনকে মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত হতে দেবেন না।

ট্রাম্পের বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের সঙ্গে চার বছর বাগ্‌দান হয়েছিল গিলফয়েলের। পরে তাঁদের সম্পর্কের অবসান ঘটে। এরপর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে গ্রিসে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নেন তিনি। মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেন, গিলফয়েল তাঁর পরিবারের সদস্য ছিলেন না; তিনি অনেক আগেই তাঁর ছেলের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ছেলের প্রেমিকাকে পদত্যাগের নির্দেশ ট্রাম্পের

আপডেট সময় ১০:৫০:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

 

গ্রিসে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিম্বার্লি গিলফয়েলকে পদত্যাগ করতে বলেছে হোয়াইট হাউস। রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক অসদাচরণের অভিযোগ ওঠার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগগুলো অস্বীকার করে নিজের নাম, সুনাম ও সততা রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন গিলফয়েল।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। নতুন প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়া তাঁর প্রথম সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, হোয়াইট হাউস গিলফয়েলকে পদত্যাগ করতে বলেছে। একই সঙ্গে তিনি গিলফয়েলকে প্রশাসনের জন্য মূল্যবান সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানান।

আরও পড়ুন  আপনার এখানে থাকা উচিত নয়; সিএনএন সাংবাদিককে দেখে ট্রাম্প

পরে মঙ্গলবার হোয়াইট হাউস গিলফয়েলের আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র পেয়েছে বলে জানিয়েছেন একজন কর্মকর্তা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, গিলফয়েলকে সরিয়ে দেওয়ার পেছনে তাঁর বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো ভূমিকা রেখেছে। তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে গিলফয়েলের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেননি বলেও জানান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে গিলফয়েল স্বীকার করেন, রাষ্ট্রদূত হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালনের সময় শেষ হয়ে আসতে পারে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, নিজের নাম, সুনাম ও সততা রক্ষায় জোরালোভাবে লড়বেন।

গিলফয়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে, রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ চূড়ান্ত হওয়ার আগে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ করে দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ চাওয়া। এ ছাড়া রাষ্ট্রদূত হিসেবে দামি উপহার গ্রহণ এবং গ্রিসের একটি নির্মাণপ্রতিষ্ঠানের লবিস্টকে সরকারি বৈঠকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

তবে অর্থ চাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গিলফয়েলের আইনজীবীরা। তাঁর ভ্রমণ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো বিভ্রান্তিকর বলেও দাবি করেছেন তাঁরা। পাশাপাশি, গিলফয়েল কেন্দ্রীয় সরকারের উপহার গ্রহণ ও তথ্য প্রকাশসংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলেছেন বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

সাবেক ট্রাম্প-সমর্থক ও দাতা এরিক ডিটার্সের অভিযোগ, সিনেটে গিলফয়েলের নিয়োগ নিশ্চিত হওয়ার কয়েক দিন আগে তিনি তাঁকে বার্তা পাঠিয়ে আমেরিকান এক্সপ্রেসের এক লাখ ডলারের বিল পরিশোধের জন্য অর্থ চেয়েছিলেন। ডিটার্সের দাবি, বিনিময়ে ট্রাম্প প্রশাসনে তাঁর বিশ্বস্ত সহযোগী হয়ে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন গিলফয়েল। তবে তিনি অর্থ দেননি।

ডিটার্স সিএনএনকে বলেন, এ ঘটনায় অর্থের বিনিময়ে সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট ছিল। তবে গিলফয়েলের আইনজীবীরা অভিযোগটিকে মিথ্যা বলে অভিহিত করেছেন। তাঁদের দাবি, ডিটার্সের কাছে গিলফয়েলের বক্তৃতা ও পরামর্শক হিসেবে কাজ করার পারিশ্রমিক বকেয়া ছিল। সেই অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছিলেন তিনি।

এক্সে দেওয়া পোস্টেও গিলফয়েল অভিযোগগুলোকে মিথ্যা বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, কয়েক দশকের জনসেবার জীবনকে মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত হতে দেবেন না।

ট্রাম্পের বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের সঙ্গে চার বছর বাগ্‌দান হয়েছিল গিলফয়েলের। পরে তাঁদের সম্পর্কের অবসান ঘটে। এরপর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে গ্রিসে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নেন তিনি। মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেন, গিলফয়েল তাঁর পরিবারের সদস্য ছিলেন না; তিনি অনেক আগেই তাঁর ছেলের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন।