ঢাকা ০৪:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

ভারতকে ‘গণতন্ত্রের জননী’ বললেন মোদি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৫৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / 21

ছবি : সংগৃহীত

 

ভারতকে ‘গণতন্ত্রের জননী’ আখ্যা দিয়ে দেশটির গণতান্ত্রিক চর্চা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক সহাবস্থানের কথা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের বিক্ষোভ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের মধ্যে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ব্লুমবার্গ ইকোনমিক ফোরামে বক্তব্য দেন তিনি।

মোদি বলেন, ভারতে ১০০টির বেশি ভাষা, প্রায় ৮০ হাজার নিবন্ধিত সংবাদপত্র ও প্রকাশনা এবং এক হাজারের বেশি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে দেশটিতে ৫০ কোটিরও বেশি ইউটিউব ব্যবহারকারী এবং ৫০ কোটিরও বেশি ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী রয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আরও পড়ুন  কোহলি-গিলের শতকে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাল ভারত

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশটির মানুষ বিভিন্ন বিষয়ে খোলামেলাভাবে বিতর্ক করেন এবং নানা দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা করেন। এ ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সরকারের ক্ষমতা নাগরিকদের ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল করে তোলার জন্য নয়; বরং তাঁদের শক্তিশালী ও ক্ষমতায়িত করার জন্য ব্যবহার করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মোদি আরও বলেন, জ্ঞান, সম্পদ ও ক্ষমতা যারই থাকুক না কেন, সেগুলো কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষমতার প্রকৃত মূল্য নির্ভর করে এর উদ্দেশ্যের ওপর। ভারতের হাজার বছরের ঐতিহ্য থেকে পাওয়া এই দর্শন দেশটির শাসনব্যবস্থা ও কর্মসংস্কৃতিতে প্রয়োগ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী ভিত্তি ও ধারাবাহিক সংস্কারের ওপর প্রতিষ্ঠিত উল্লেখ করে মোদি বলেন, যৌথ সমৃদ্ধির মাধ্যমে দেশটি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নিজের প্রভাব বাড়াতে চায়। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বাণিজ্য বিঘ্ন এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ও সম্পদ নিয়ে প্রতিযোগিতার মধ্যে ভারতকে নির্ভরযোগ্য অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবেও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ভারত অন্যের ক্ষতি করে উন্নতি করে না; বরং বিশ্বের সঙ্গে এবং বিশ্বের জন্য উন্নতি করে।

অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতার প্রমাণ হিসেবে এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি, ৭০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং কর, দেউলিয়াত্ব ও শ্রম আইনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অনিশ্চয়তায় ভরা বিশ্বে ভারত নির্ভরযোগ্যতা ও স্থিতিশীলতার অনুপ্রেরণা জোগায় এবং দেশটি সংস্কারের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।

একই সঙ্গে জ্বালানি, সরবরাহ-শৃঙ্খল, গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদ ও প্রযুক্তি ক্রমেই ভূরাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হয়ে উঠছে বলে সতর্ক করেন মোদি।

তবে মোদির এই বক্তব্যের আগে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে পুলিশের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আলোচনায় আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারী, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাংবাদিকদের ওপর পুলিশ এবং উগ্রবাদী গোষ্ঠীর বর্বরতার অভিযোগে কয়েকটি মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় জাতিসংঘও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

ভারতকে ‘গণতন্ত্রের জননী’ বললেন মোদি

আপডেট সময় ০২:৫৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

 

ভারতকে ‘গণতন্ত্রের জননী’ আখ্যা দিয়ে দেশটির গণতান্ত্রিক চর্চা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক সহাবস্থানের কথা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের বিক্ষোভ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের মধ্যে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ব্লুমবার্গ ইকোনমিক ফোরামে বক্তব্য দেন তিনি।

মোদি বলেন, ভারতে ১০০টির বেশি ভাষা, প্রায় ৮০ হাজার নিবন্ধিত সংবাদপত্র ও প্রকাশনা এবং এক হাজারের বেশি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে দেশটিতে ৫০ কোটিরও বেশি ইউটিউব ব্যবহারকারী এবং ৫০ কোটিরও বেশি ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী রয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আরও পড়ুন  ভারতে রথযাত্রায় মর্মান্তিক পদদলনের ঘটনায় নিহত ৩, আহত ১০

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশটির মানুষ বিভিন্ন বিষয়ে খোলামেলাভাবে বিতর্ক করেন এবং নানা দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা করেন। এ ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সরকারের ক্ষমতা নাগরিকদের ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল করে তোলার জন্য নয়; বরং তাঁদের শক্তিশালী ও ক্ষমতায়িত করার জন্য ব্যবহার করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মোদি আরও বলেন, জ্ঞান, সম্পদ ও ক্ষমতা যারই থাকুক না কেন, সেগুলো কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষমতার প্রকৃত মূল্য নির্ভর করে এর উদ্দেশ্যের ওপর। ভারতের হাজার বছরের ঐতিহ্য থেকে পাওয়া এই দর্শন দেশটির শাসনব্যবস্থা ও কর্মসংস্কৃতিতে প্রয়োগ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী ভিত্তি ও ধারাবাহিক সংস্কারের ওপর প্রতিষ্ঠিত উল্লেখ করে মোদি বলেন, যৌথ সমৃদ্ধির মাধ্যমে দেশটি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নিজের প্রভাব বাড়াতে চায়। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বাণিজ্য বিঘ্ন এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ও সম্পদ নিয়ে প্রতিযোগিতার মধ্যে ভারতকে নির্ভরযোগ্য অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবেও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ভারত অন্যের ক্ষতি করে উন্নতি করে না; বরং বিশ্বের সঙ্গে এবং বিশ্বের জন্য উন্নতি করে।

অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতার প্রমাণ হিসেবে এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি, ৭০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং কর, দেউলিয়াত্ব ও শ্রম আইনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অনিশ্চয়তায় ভরা বিশ্বে ভারত নির্ভরযোগ্যতা ও স্থিতিশীলতার অনুপ্রেরণা জোগায় এবং দেশটি সংস্কারের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।

একই সঙ্গে জ্বালানি, সরবরাহ-শৃঙ্খল, গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদ ও প্রযুক্তি ক্রমেই ভূরাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হয়ে উঠছে বলে সতর্ক করেন মোদি।

তবে মোদির এই বক্তব্যের আগে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে পুলিশের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আলোচনায় আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারী, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাংবাদিকদের ওপর পুলিশ এবং উগ্রবাদী গোষ্ঠীর বর্বরতার অভিযোগে কয়েকটি মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় জাতিসংঘও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।