ঢাকা ০৬:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বিএনপির কাছে বেশি নিরাপদ: খন্দকার মারুফ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:৩৭:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
  • / 26

ছবি: সংগৃহীত

দেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ সব ধর্মের মানুষ বিএনপির কাছে সবচেয়ে বেশি নিরাপদ বলে মন্তব্য করেছেন দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. খন্দকার মারুফ হোসেন। তিনি বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে সব ধর্মের মানুষ নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রোববার (১১ অক্টোবর) দাউদকান্দি পৌর সদরের ‘মারুফ ভিলা’ প্রাঙ্গণে দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতাদের শুভেচ্ছা জানাতে এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ড. খন্দকার মারুফ হোসেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’। সব ধর্মের মানুষের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রাখতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন  নাটকীয় পরিস্থিতির আড়ালে বিএনপিকে নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা আব্বাস

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের কুমিল্লা উত্তর জেলার আহ্বায়ক দুলাল দেবনাথের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ আবুল হাশেম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দাউদকান্দি পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক মধু চন্দ্র সরকার।

সভায় দাউদকান্দি উপজেলা, পৌরসভা ও মেঘনা উপজেলার ৬১টি দুর্গাপূজা মণ্ডপ কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট নেতারা অংশ নেন। তাঁদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান ড. খন্দকার মারুফ। পাশাপাশি ৬১টি দুর্গাপূজা মণ্ডপে আর্থিক অনুদান দেন তিনি।

বক্তব্যে ড. খন্দকার মারুফ দাবি করেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাতে হয়েছে। এ বছর তাঁরা নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। নিষিদ্ধ সংগঠনের সহিংসতা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার কঠোর নজরদারি ও আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

খন্দকার মারুফ বলেন, বিএনপির অভিধান কিংবা সংবিধানে ‘সংখ্যালঘু’ শব্দের কোনো স্থান নেই। তাঁর ভাষায়, জাতিসত্তার পরিচয় বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ; সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। সনাতন ধর্মাবলম্বী, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষসহ সবাই সমান অধিকার ভোগ করবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের শাসনামলে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ অন্য ধর্মের মানুষ দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন ড. খন্দকার মারুফ। তাঁর দাবি, সংখ্যালঘু পরিচয়ের তকমা দিয়ে এসব সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর নিপীড়ন চালানো হয়েছে এবং তাঁরা নিরাপদে পূজা উদযাপন করতে পারেননি।

দুর্গাপূজাকে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ উৎসব অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ ও সত্যের বিজয়ের প্রতীক। তাঁর মতে, দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আচার নয়, এটি মিলন ও সম্প্রীতির উৎসবও।

দেবী দুর্গাকে মহাশক্তির প্রতীক উল্লেখ করে তিনি বলেন, মহিষাসুর বধের মধ্য দিয়ে অশুভ শক্তির পতনের যে বার্তা পাওয়া যায়, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে সমাজ থেকে অন্যায়, ভেদাভেদ ও অকল্যাণ দূর করার প্রত্যাশা করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, মহালয়া থেকে দশমী পর্যন্ত ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করেন। এ সময় পূজামণ্ডপগুলো সম্প্রীতি ও মিলনের কেন্দ্রে পরিণত হয়। সবাইকে নিয়ে সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের সময় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সতর্ক প্রহরীর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান ড. খন্দকার মারুফ।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এম এ লতিফ ভূঁইয়া, দাউদকান্দি পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার, মেঘনা বিএনপির আহ্বায়ক মো. রমিজউদ্দিন লন্ডনী, বিএনপি নেতা জসিমউদ্দিন আহমেদ, ভিপি জাহাঙ্গীর আলম, পিটার চৌধুরী, আবদুস সাত্তার, কাউসার আলম সরকার, আরিফ মাহামুদ, ভিপি শাহাবুদ্দিন ভূঁইয়া ও শরীফ চৌধুরী। এ ছাড়া পূজা উদযাপন ফ্রন্টের মেঘনা উপজেলার রতন সাহা এবং দাউদকান্দির যুবরাজ দত্ত, অশোক সাহা ও রাধেশ্যাম মিত্রসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বিএনপির কাছে বেশি নিরাপদ: খন্দকার মারুফ

আপডেট সময় ০৪:৩৭:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

দেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ সব ধর্মের মানুষ বিএনপির কাছে সবচেয়ে বেশি নিরাপদ বলে মন্তব্য করেছেন দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. খন্দকার মারুফ হোসেন। তিনি বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে সব ধর্মের মানুষ নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রোববার (১১ অক্টোবর) দাউদকান্দি পৌর সদরের ‘মারুফ ভিলা’ প্রাঙ্গণে দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতাদের শুভেচ্ছা জানাতে এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ড. খন্দকার মারুফ হোসেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’। সব ধর্মের মানুষের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রাখতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন  খুলনায় ভোটকেন্দ্রে মাদ্রাসা প্রধানের ধাক্কায় বিএনপি নেতা নিহত

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের কুমিল্লা উত্তর জেলার আহ্বায়ক দুলাল দেবনাথের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ আবুল হাশেম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দাউদকান্দি পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক মধু চন্দ্র সরকার।

সভায় দাউদকান্দি উপজেলা, পৌরসভা ও মেঘনা উপজেলার ৬১টি দুর্গাপূজা মণ্ডপ কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট নেতারা অংশ নেন। তাঁদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান ড. খন্দকার মারুফ। পাশাপাশি ৬১টি দুর্গাপূজা মণ্ডপে আর্থিক অনুদান দেন তিনি।

বক্তব্যে ড. খন্দকার মারুফ দাবি করেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাতে হয়েছে। এ বছর তাঁরা নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। নিষিদ্ধ সংগঠনের সহিংসতা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার কঠোর নজরদারি ও আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

খন্দকার মারুফ বলেন, বিএনপির অভিধান কিংবা সংবিধানে ‘সংখ্যালঘু’ শব্দের কোনো স্থান নেই। তাঁর ভাষায়, জাতিসত্তার পরিচয় বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ; সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। সনাতন ধর্মাবলম্বী, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষসহ সবাই সমান অধিকার ভোগ করবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের শাসনামলে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ অন্য ধর্মের মানুষ দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন ড. খন্দকার মারুফ। তাঁর দাবি, সংখ্যালঘু পরিচয়ের তকমা দিয়ে এসব সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর নিপীড়ন চালানো হয়েছে এবং তাঁরা নিরাপদে পূজা উদযাপন করতে পারেননি।

দুর্গাপূজাকে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ উৎসব অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ ও সত্যের বিজয়ের প্রতীক। তাঁর মতে, দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আচার নয়, এটি মিলন ও সম্প্রীতির উৎসবও।

দেবী দুর্গাকে মহাশক্তির প্রতীক উল্লেখ করে তিনি বলেন, মহিষাসুর বধের মধ্য দিয়ে অশুভ শক্তির পতনের যে বার্তা পাওয়া যায়, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে সমাজ থেকে অন্যায়, ভেদাভেদ ও অকল্যাণ দূর করার প্রত্যাশা করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, মহালয়া থেকে দশমী পর্যন্ত ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করেন। এ সময় পূজামণ্ডপগুলো সম্প্রীতি ও মিলনের কেন্দ্রে পরিণত হয়। সবাইকে নিয়ে সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের সময় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সতর্ক প্রহরীর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান ড. খন্দকার মারুফ।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এম এ লতিফ ভূঁইয়া, দাউদকান্দি পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার, মেঘনা বিএনপির আহ্বায়ক মো. রমিজউদ্দিন লন্ডনী, বিএনপি নেতা জসিমউদ্দিন আহমেদ, ভিপি জাহাঙ্গীর আলম, পিটার চৌধুরী, আবদুস সাত্তার, কাউসার আলম সরকার, আরিফ মাহামুদ, ভিপি শাহাবুদ্দিন ভূঁইয়া ও শরীফ চৌধুরী। এ ছাড়া পূজা উদযাপন ফ্রন্টের মেঘনা উপজেলার রতন সাহা এবং দাউদকান্দির যুবরাজ দত্ত, অশোক সাহা ও রাধেশ্যাম মিত্রসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।