ঢাকা ০৪:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে ধরপাকড়, বিশেষ শুনানি সুপ্রিম কোর্টে

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৪৫:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
  • / 18

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন ঘিরে পুলিশি ধরপাকড় ও গণপরিবহনে বিধিনিষেধের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। শনিবার ব্যাপক ধরপাকড়ের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। রোববার (১১ অক্টোবর) আবারও যন্তর মন্তরে সমবেত হওয়ার ডাক দিয়েছে সিজেপি। এ পরিস্থিতিতে পুলিশি পদক্ষেপের বৈধতা ও গণপরিবহন নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ নিয়ে বিশেষ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে শীর্ষ আদালতে।

সিজেপি জানিয়েছে, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। প্রয়োজনে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে দলটি।

বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানীর অন্তত ৩০টি স্থানে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি পুলিশ। রোববার সকাল ৬টা থেকে পরিস্থিতি বিবেচনায় বিভিন্ন সড়কে যানবাহন ঘুরিয়ে দেওয়া হতে পারে। কনট প্লেস, মণ্ডি হাউস, যন্তর মন্তর রোড, প্যাটেল চক, রেল ভবন ও আরএমএল হাসপাতালসংলগ্ন এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন  দিল্লিতে এক মঞ্চে মমতা-সোনিয়া, আন্দোলনে ইন্ডিয়া জোট

রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল কিংবা বিমানবন্দরে যাতায়াতের ক্ষেত্রে হাতে অতিরিক্ত সময় নিয়ে বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।

এদিকে শনিবারের বিক্ষোভে বিরোধী নেতানেত্রী, আইনজীবী ও সাংবাদিকদের আটক করা এবং মেট্রো ও ট্রেন পরিষেবা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন আবেদনকারীরা। এসব বিষয়ে রোববার বিশেষ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে সুপ্রিম কোর্টে।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার থাকার কথা রয়েছে। আদালতে দুটি পৃথক আবেদন শুনানির জন্য উঠবে।

একটি আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ৯ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে দিল্লির সঙ্গে সংযোগকারী মেট্রো ও ট্রেন পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল। অন্য আবেদনটিতে বিরোধী নেতাদের আটক করার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

এ ছাড়া আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী আদালত অবমাননার আবেদন করেছেন। এতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন, দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার এবং দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশনের চেয়ারপার্সন ডি তারাকে বিবাদী করা হয়েছে।

আবেদনকারীর দাবি, বিক্ষোভের কারণে সাধারণ মানুষের যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া যায় না। ৯ অক্টোবরের নির্দেশে আদালতও জানিয়েছিলেন, প্রতিবাদের কারণে মেট্রো ও ট্রেন পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা যাবে না।

অন্যদিকে, গণআটকের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে পৃথক একটি পিটিশন করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য ও প্রবীণ আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী। আবেদনকারীদের বক্তব্য, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার খর্ব করার জন্য আগাম আটককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যায় না।

রোববারের শুনানিতে পুলিশি ধরপাকড়, গণপরিবহন নিয়ন্ত্রণ এবং বিক্ষোভকারীদের আটকের বৈধতা নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগগুলো বিবেচনা করার কথা রয়েছে ভারতের শীর্ষ আদালতের।

নিউজটি শেয়ার করুন

দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে ধরপাকড়, বিশেষ শুনানি সুপ্রিম কোর্টে

আপডেট সময় ০২:৪৫:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন ঘিরে পুলিশি ধরপাকড় ও গণপরিবহনে বিধিনিষেধের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। শনিবার ব্যাপক ধরপাকড়ের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। রোববার (১১ অক্টোবর) আবারও যন্তর মন্তরে সমবেত হওয়ার ডাক দিয়েছে সিজেপি। এ পরিস্থিতিতে পুলিশি পদক্ষেপের বৈধতা ও গণপরিবহন নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ নিয়ে বিশেষ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে শীর্ষ আদালতে।

সিজেপি জানিয়েছে, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। প্রয়োজনে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে দলটি।

বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানীর অন্তত ৩০টি স্থানে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি পুলিশ। রোববার সকাল ৬টা থেকে পরিস্থিতি বিবেচনায় বিভিন্ন সড়কে যানবাহন ঘুরিয়ে দেওয়া হতে পারে। কনট প্লেস, মণ্ডি হাউস, যন্তর মন্তর রোড, প্যাটেল চক, রেল ভবন ও আরএমএল হাসপাতালসংলগ্ন এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন  ধর্ষকদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবিতে শেকৃবি শিক্ষার্থীদের উত্তাল বিক্ষোভ

রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল কিংবা বিমানবন্দরে যাতায়াতের ক্ষেত্রে হাতে অতিরিক্ত সময় নিয়ে বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।

এদিকে শনিবারের বিক্ষোভে বিরোধী নেতানেত্রী, আইনজীবী ও সাংবাদিকদের আটক করা এবং মেট্রো ও ট্রেন পরিষেবা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন আবেদনকারীরা। এসব বিষয়ে রোববার বিশেষ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে সুপ্রিম কোর্টে।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার থাকার কথা রয়েছে। আদালতে দুটি পৃথক আবেদন শুনানির জন্য উঠবে।

একটি আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ৯ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে দিল্লির সঙ্গে সংযোগকারী মেট্রো ও ট্রেন পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল। অন্য আবেদনটিতে বিরোধী নেতাদের আটক করার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

এ ছাড়া আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী আদালত অবমাননার আবেদন করেছেন। এতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন, দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার এবং দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশনের চেয়ারপার্সন ডি তারাকে বিবাদী করা হয়েছে।

আবেদনকারীর দাবি, বিক্ষোভের কারণে সাধারণ মানুষের যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া যায় না। ৯ অক্টোবরের নির্দেশে আদালতও জানিয়েছিলেন, প্রতিবাদের কারণে মেট্রো ও ট্রেন পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা যাবে না।

অন্যদিকে, গণআটকের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে পৃথক একটি পিটিশন করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য ও প্রবীণ আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী। আবেদনকারীদের বক্তব্য, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার খর্ব করার জন্য আগাম আটককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যায় না।

রোববারের শুনানিতে পুলিশি ধরপাকড়, গণপরিবহন নিয়ন্ত্রণ এবং বিক্ষোভকারীদের আটকের বৈধতা নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগগুলো বিবেচনা করার কথা রয়েছে ভারতের শীর্ষ আদালতের।