ইয়েমেনে ১,৫৪০ হুতি যোদ্ধা হতাহতের দাবি
- আপডেট সময় ০৯:১৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
- / 14
ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের অবস্থান লক্ষ্য করে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৭৪টি সামরিক অভিযান চালানোর দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। এসব অভিযানে হুতি গোষ্ঠীর ১ হাজার ৫৪০ সদস্য নিহত বা আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সরকারি বাহিনী। তাদের দাবি, অভিযানে ২১৬টি সামরিক যান ও অন্যান্য সরঞ্জাম ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে ইয়েমেনের সামরিক মুখপাত্র মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নাজিলি এসব তথ্য জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিমান, ড্রোন, কামান, ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট লঞ্চার ব্যবহার করে অভিযানগুলো পরিচালনা করা হয়। হুতিদের সামরিক অবস্থান, চলাচল, রসদ সরবরাহ এবং সামরিক সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
আল-নাজিলি জানান, দক্ষিণ হারাধ ও উপকূলীয় এলাকা থেকে শুরু করে কিতাফ, আল-জাওফ, মারিব, আল-বায়দা, লাহিজ, সানা ও সা’দা পর্যন্ত বিভিন্ন রণাঙ্গনে অভিযান চালানো হয়েছে। এসবের মধ্যে তাইজে সবচেয়ে বেশি অভিযান পরিচালিত হয়।
সেনাবাহিনীর দাবি, হুতিদের সমাবেশস্থল, সামরিক রসদ, কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও সক্ষমতা ছিল হামলার লক্ষ্যবস্তু। নিহত ও আহত ১ হাজার ৫৪০ হুতি সদস্যের অধিকাংশই তাইজের বিভিন্ন ফ্রন্টের বলে জানিয়েছে সরকারি বাহিনী।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, এসব অভিযানের ফলে তাইজে হুতিদের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
চলমান সংঘাতের মধ্যে নতুন করে লড়াই তীব্র হওয়ার সময় এই অভিযানের ঘোষণা দিল ইয়েমেনের সেনাবাহিনী। এর আগে শুক্রবার সরকারি বাহিনী জানিয়েছিল, তাইজে হুতিদের সামরিক চলাচল ও রসদবহরের ওপর যুদ্ধবিমান থেকে ২০টি হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া সানা ও সা’দায় গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার কথাও জানানো হয়।
এর আগে বুধবার ইয়েমেনের সেনাবাহিনী তিনটি ফ্রন্টে হুতি যোদ্ধা ও সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্য করে ৪৬৮টি অভিযান চালানোর দাবি করেছিল। সেসময়ও শত শত হুতি সদস্য হতাহত হওয়ার কথা জানায় তারা।
২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর ইয়েমেনে তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তবে চলতি বছরের জুলাই থেকে দেশটিতে আবার সামরিক উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে। সাম্প্রতিক লড়াইকে ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর সবচেয়ে বড় সামরিক উত্তেজনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
২০১৪ সালে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও কয়েকটি প্রদেশ দখল করার পর দেশটিতে সংঘাত শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিতে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন একটি জোট সামরিক হস্তক্ষেপ করে।





















