ঢাকা ০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬

সায়েদাবাদ থেকে কাঁচপুর যাবে দূরপাল্লার বাস: ডিএসসিসি প্রশাসক

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৩১:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 33

ছবি সংগৃহীত

 

রাজধানীর যানজট কমানো ও গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার বাসগুলো শিগগিরই কাঁচপুরে নির্মাণাধীন নতুন টার্মিনালে স্থানান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) কাঁচপুর বাস টার্মিনালের নির্মাণকাজের অগ্রগতি সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। এ সময় নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানসহ প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন  সায়েদাবাদে তুচ্ছ ঘটনায় মারামারি, প্রাণ গেল বাসের হেলপারের

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ঢাকা মহানগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দ্রুততম সময়ে কাঁচপুর টার্মিনালের নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে অস্থায়ী শেড নির্মাণ করে চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা ও নোয়াখালীসহ ১৬টি জেলার দূরপাল্লার বাস সায়েদাবাদ থেকে কাঁচপুরে স্থানান্তর করা হবে। পরবর্তী সময়ে সেখানে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

আবদুস সালাম বলেন, দূরপাল্লার বাসগুলো রাজধানীর মূল শহরে প্রবেশ না করলে ঢাকার যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। কাঁচপুর থেকে সায়েদাবাদে যাতায়াতকারী যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে পরিবহন মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে ডিএসসিসির উদ্যোগে বিশেষ ‘শাটল সার্ভিস’ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি আরও জানান, গুলিস্তান বাস টার্মিনালও বুড়িগঙ্গার ওপারে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

কাঁচপুর বাস টার্মিনাল প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি প্যাকেজে নির্মাণকাজ চলছে। প্রকল্পের সার্বিক গড় অগ্রগতি ৩০ শতাংশ। এর মধ্যে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ ৭৫ শতাংশ এবং অভ্যন্তরীণ প্ল্যাটফর্ম নির্মাণের কাজ ২৫ শতাংশ শেষ হয়েছে।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক কাজ শেষ করে টার্মিনালটি চালুর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রায় ১২ একর জায়গার ওপর নির্মাণাধীন টার্মিনালটিতে একসঙ্গে প্রায় ৪০৫টি বাসের ধারণক্ষমতা থাকবে। এর মধ্যে ৩৭৮টি বাসের পার্কিং ব্যবস্থা, ২২টি বাস বে, পাঁচটি ওয়াশিং বে এবং ৪০টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

যাত্রীদের জন্য থাকবে ৪৮০ আসনের ওয়েটিং জোন ও ১০৬টি টিকিট কাউন্টার। এছাড়া পুরুষদের জন্য ১০টি এবং নারীদের জন্য ছয়টি টয়লেট নির্মাণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। টার্মিনালে ৬৫ বর্গমিটার অফিস স্পেস ও ৫০ বর্গমিটার ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল রুমের সংস্থানও রয়েছে।

পরিদর্শনকালে ডিএসসিসি প্রশাসক নির্মাণকাজের গুণগত মান শতভাগ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা এবং কোনো ধরনের নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার না করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের কঠোর নির্দেশনাও দেন তিনি।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

সায়েদাবাদ থেকে কাঁচপুর যাবে দূরপাল্লার বাস: ডিএসসিসি প্রশাসক

আপডেট সময় ০৭:৩১:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

রাজধানীর যানজট কমানো ও গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার বাসগুলো শিগগিরই কাঁচপুরে নির্মাণাধীন নতুন টার্মিনালে স্থানান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) কাঁচপুর বাস টার্মিনালের নির্মাণকাজের অগ্রগতি সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। এ সময় নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানসহ প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন  সায়েদাবাদে তুচ্ছ ঘটনায় মারামারি, প্রাণ গেল বাসের হেলপারের

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ঢাকা মহানগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দ্রুততম সময়ে কাঁচপুর টার্মিনালের নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে অস্থায়ী শেড নির্মাণ করে চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা ও নোয়াখালীসহ ১৬টি জেলার দূরপাল্লার বাস সায়েদাবাদ থেকে কাঁচপুরে স্থানান্তর করা হবে। পরবর্তী সময়ে সেখানে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

আবদুস সালাম বলেন, দূরপাল্লার বাসগুলো রাজধানীর মূল শহরে প্রবেশ না করলে ঢাকার যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। কাঁচপুর থেকে সায়েদাবাদে যাতায়াতকারী যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে পরিবহন মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে ডিএসসিসির উদ্যোগে বিশেষ ‘শাটল সার্ভিস’ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি আরও জানান, গুলিস্তান বাস টার্মিনালও বুড়িগঙ্গার ওপারে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

কাঁচপুর বাস টার্মিনাল প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি প্যাকেজে নির্মাণকাজ চলছে। প্রকল্পের সার্বিক গড় অগ্রগতি ৩০ শতাংশ। এর মধ্যে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ ৭৫ শতাংশ এবং অভ্যন্তরীণ প্ল্যাটফর্ম নির্মাণের কাজ ২৫ শতাংশ শেষ হয়েছে।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক কাজ শেষ করে টার্মিনালটি চালুর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রায় ১২ একর জায়গার ওপর নির্মাণাধীন টার্মিনালটিতে একসঙ্গে প্রায় ৪০৫টি বাসের ধারণক্ষমতা থাকবে। এর মধ্যে ৩৭৮টি বাসের পার্কিং ব্যবস্থা, ২২টি বাস বে, পাঁচটি ওয়াশিং বে এবং ৪০টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

যাত্রীদের জন্য থাকবে ৪৮০ আসনের ওয়েটিং জোন ও ১০৬টি টিকিট কাউন্টার। এছাড়া পুরুষদের জন্য ১০টি এবং নারীদের জন্য ছয়টি টয়লেট নির্মাণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। টার্মিনালে ৬৫ বর্গমিটার অফিস স্পেস ও ৫০ বর্গমিটার ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল রুমের সংস্থানও রয়েছে।

পরিদর্শনকালে ডিএসসিসি প্রশাসক নির্মাণকাজের গুণগত মান শতভাগ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা এবং কোনো ধরনের নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার না করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের কঠোর নির্দেশনাও দেন তিনি।