ঢাকা ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১৮ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বাজারে রফতানি বাড়াতে কৌশল প্রণয়ন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:৩২:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 30

ছবি : সংগৃহীত

 

দেশের রফতানি আয় বাড়ানো এবং তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরতা কমাতে পণ্য ও বাজারের বৈচিত্র্য আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বিশ্বের ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক বাজারের সম্ভাবনা, প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিযোগী দেশগুলোর অবস্থান বিশ্লেষণ করে পৃথক রফতানি কৌশল তৈরি করা হচ্ছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক কর্মশালায় এসব তথ্য জানান বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন তিনি।

আরও পড়ুন  নানা সংকটের মধ্যেও তৈরি পোশাক রফতানিতে রেকর্ড, আয় ছাড়াল ৩৯ বিলিয়ন ডলার

বাণিজ্য সচিব বলেন, বাংলাদেশের রফতানি খাতকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে পণ্য ও বাজার—উভয় ক্ষেত্রেই বৈচিত্র্য আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ বাজারের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে দেশভিত্তিক প্রোফাইল এবং বাস্তবায়নযোগ্য কৌশল তৈরি করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক উইং থেকে সংশ্লিষ্ট বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি, রফতানির বাধা, সম্ভাবনাময় পণ্য এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিটি দেশের জন্য পৃথক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে।

আতাউর রহমান খান বলেন, বাজার বিশ্লেষণে সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশের রফতানির পরিমাণ, নির্দিষ্ট পণ্যে প্রধান প্রতিযোগী দেশগুলোর অবস্থান, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর উপায় এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ বাজার বিশ্লেষণের মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনাময় পণ্য চিহ্নিত করার পাশাপাশি বিদ্যমান পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে।

কর্মশালায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, রফতানি বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে শুধু পণ্য নয়, সেবা খাতকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতি, সক্ষমতাবর্ধক সেবা এবং ফ্রিল্যান্সিং খাতের উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে উৎপাদন ও সেবা খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে ভৌগোলিক নৈকট্য কাজে লাগিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে বাংলাদেশের পণ্য ও সেবা রফতানি বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

কর্মশালায় বিজিএমইএ, ফ্লেক্সা, সিপিডি, ওয়ালটন গ্রুপ, বাংলাদেশ এগ্রোপ্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন এবং ওষুধশিল্পের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা রফতানি সম্প্রসারণে নিজেদের প্রস্তাব তুলে ধরেন। এ ছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন।

অংশগ্রহণকারীরা তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, ইলেকট্রনিকস, কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি এবং অন্যান্য সেবা খাতকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ বাজারকে কেন্দ্র করে এই কৌশল বাস্তবায়ন করা হলে বাংলাদেশের রফতানির পরিধি বাড়বে। পাশাপাশি নতুন পণ্য ও বাজার তৈরি, বিদ্যমান বাজারে রফতানি সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদে বহুমুখী ও টেকসই রফতানি কাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

১৮ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বাজারে রফতানি বাড়াতে কৌশল প্রণয়ন

আপডেট সময় ০৪:৩২:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

দেশের রফতানি আয় বাড়ানো এবং তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরতা কমাতে পণ্য ও বাজারের বৈচিত্র্য আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বিশ্বের ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক বাজারের সম্ভাবনা, প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিযোগী দেশগুলোর অবস্থান বিশ্লেষণ করে পৃথক রফতানি কৌশল তৈরি করা হচ্ছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক কর্মশালায় এসব তথ্য জানান বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন তিনি।

আরও পড়ুন  নানা সংকটের মধ্যেও তৈরি পোশাক রফতানিতে রেকর্ড, আয় ছাড়াল ৩৯ বিলিয়ন ডলার

বাণিজ্য সচিব বলেন, বাংলাদেশের রফতানি খাতকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে পণ্য ও বাজার—উভয় ক্ষেত্রেই বৈচিত্র্য আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ বাজারের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে দেশভিত্তিক প্রোফাইল এবং বাস্তবায়নযোগ্য কৌশল তৈরি করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক উইং থেকে সংশ্লিষ্ট বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি, রফতানির বাধা, সম্ভাবনাময় পণ্য এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিটি দেশের জন্য পৃথক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে।

আতাউর রহমান খান বলেন, বাজার বিশ্লেষণে সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশের রফতানির পরিমাণ, নির্দিষ্ট পণ্যে প্রধান প্রতিযোগী দেশগুলোর অবস্থান, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর উপায় এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ বাজার বিশ্লেষণের মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনাময় পণ্য চিহ্নিত করার পাশাপাশি বিদ্যমান পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে।

কর্মশালায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, রফতানি বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে শুধু পণ্য নয়, সেবা খাতকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতি, সক্ষমতাবর্ধক সেবা এবং ফ্রিল্যান্সিং খাতের উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে উৎপাদন ও সেবা খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে ভৌগোলিক নৈকট্য কাজে লাগিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে বাংলাদেশের পণ্য ও সেবা রফতানি বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

কর্মশালায় বিজিএমইএ, ফ্লেক্সা, সিপিডি, ওয়ালটন গ্রুপ, বাংলাদেশ এগ্রোপ্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন এবং ওষুধশিল্পের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা রফতানি সম্প্রসারণে নিজেদের প্রস্তাব তুলে ধরেন। এ ছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন।

অংশগ্রহণকারীরা তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, ইলেকট্রনিকস, কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি এবং অন্যান্য সেবা খাতকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ বাজারকে কেন্দ্র করে এই কৌশল বাস্তবায়ন করা হলে বাংলাদেশের রফতানির পরিধি বাড়বে। পাশাপাশি নতুন পণ্য ও বাজার তৈরি, বিদ্যমান বাজারে রফতানি সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদে বহুমুখী ও টেকসই রফতানি কাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।