ঢাকা ১২:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

হঠাৎ আবুধাবিতে নেতানিয়াহু, বৈঠক ঘিরে জল্পনা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:২৭:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 65

ছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা তৈরি

 

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আকস্মিক আবুধাবি সফর এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) আবুধাবিতে দুই নেতার বৈঠকের বিষয়টি এক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন। তবে বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে দুই দেশের পক্ষ থেকেই তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই নেতানিয়াহুর এই অঘোষিত সফর সামনে এলো। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৈঠক নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। ফলে বৈঠকের উদ্দেশ্য ও আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন  নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আজ বৈঠকে বসছে জামায়াত

নেতানিয়াহুর এই সফরের সময়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনের কারণে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার প্রায় দেড় সপ্তাহ আগে শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ নেতানিয়াহুকে হামাসের বড় ধরনের অভিযানের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। হারেৎজের দাবি অনুযায়ী, সেই সতর্কবার্তা ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা বা সেনাবাহিনীর কাছে পৌঁছায়নি।

তবে হারেৎজের ওই প্রতিবেদনকে নেতানিয়াহু অস্বীকার করেছেন। তিনি এটিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে দাবি করেছেন এবং সংবাদপত্রটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। একই ঘটনায় ইসরায়েলের বিরোধী নেতারা ৭ অক্টোবরের হামলার আগে নিরাপত্তা ব্যর্থতার জন্য নেতানিয়াহুর সরকারের জবাবদিহির প্রশ্ন তুলেছেন।

এই পরিস্থিতিতে আমিরাতের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নেতানিয়াহুর বৈঠক নতুন করে ওই সতর্কবার্তার বিতর্ককে সামনে এনেছে। তবে বৈঠকটি ওই বিতর্কের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত কি না, কিংবা আলোচনায় বিষয়টি উঠেছে কি না—এ বিষয়ে কোনো পক্ষই প্রকাশ্যে কিছু জানায়নি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। আমিরাত জানিয়েছে, দেশ দুটির মধ্যে ‘খোলামেলা ও সরাসরি যোগাযোগের’ পথ রয়েছে। তবে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয় সাধারণত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে আলোচনা করা হয় বলে এর আগে আমিরাতের একটি সূত্র জানিয়েছিল।

এর আগেও নেতানিয়াহুর আমিরাত সফর নিয়ে গোপনীয়তার নজির দেখা গেছে। চলতি বছরের মে মাসে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নেতানিয়াহুর আমিরাত সফর ও শেখ মোহাম্মদের সঙ্গে বৈঠকের কথা জানালেও আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরে সেই বৈঠকের বিষয়টি অস্বীকার করেছিল। পরে একটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, ২৬ মার্চ আবুধাবির আল-আইন শহরে দুই নেতার বৈঠক হয়েছিল।

এবারের সফরও তাই দুই দেশের সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে রোববারের বৈঠকে ঠিক কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বা কোনো নতুন সমঝোতা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

হঠাৎ আবুধাবিতে নেতানিয়াহু, বৈঠক ঘিরে জল্পনা

আপডেট সময় ০৮:২৭:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আকস্মিক আবুধাবি সফর এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) আবুধাবিতে দুই নেতার বৈঠকের বিষয়টি এক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন। তবে বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে দুই দেশের পক্ষ থেকেই তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই নেতানিয়াহুর এই অঘোষিত সফর সামনে এলো। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৈঠক নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। ফলে বৈঠকের উদ্দেশ্য ও আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর বৈঠক: স্বাস্থ্যসহ অগ্রাধিকার খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে আহ্বান

নেতানিয়াহুর এই সফরের সময়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনের কারণে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার প্রায় দেড় সপ্তাহ আগে শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ নেতানিয়াহুকে হামাসের বড় ধরনের অভিযানের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। হারেৎজের দাবি অনুযায়ী, সেই সতর্কবার্তা ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা বা সেনাবাহিনীর কাছে পৌঁছায়নি।

তবে হারেৎজের ওই প্রতিবেদনকে নেতানিয়াহু অস্বীকার করেছেন। তিনি এটিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে দাবি করেছেন এবং সংবাদপত্রটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। একই ঘটনায় ইসরায়েলের বিরোধী নেতারা ৭ অক্টোবরের হামলার আগে নিরাপত্তা ব্যর্থতার জন্য নেতানিয়াহুর সরকারের জবাবদিহির প্রশ্ন তুলেছেন।

এই পরিস্থিতিতে আমিরাতের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নেতানিয়াহুর বৈঠক নতুন করে ওই সতর্কবার্তার বিতর্ককে সামনে এনেছে। তবে বৈঠকটি ওই বিতর্কের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত কি না, কিংবা আলোচনায় বিষয়টি উঠেছে কি না—এ বিষয়ে কোনো পক্ষই প্রকাশ্যে কিছু জানায়নি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। আমিরাত জানিয়েছে, দেশ দুটির মধ্যে ‘খোলামেলা ও সরাসরি যোগাযোগের’ পথ রয়েছে। তবে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয় সাধারণত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে আলোচনা করা হয় বলে এর আগে আমিরাতের একটি সূত্র জানিয়েছিল।

এর আগেও নেতানিয়াহুর আমিরাত সফর নিয়ে গোপনীয়তার নজির দেখা গেছে। চলতি বছরের মে মাসে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নেতানিয়াহুর আমিরাত সফর ও শেখ মোহাম্মদের সঙ্গে বৈঠকের কথা জানালেও আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরে সেই বৈঠকের বিষয়টি অস্বীকার করেছিল। পরে একটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, ২৬ মার্চ আবুধাবির আল-আইন শহরে দুই নেতার বৈঠক হয়েছিল।

এবারের সফরও তাই দুই দেশের সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে রোববারের বৈঠকে ঠিক কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বা কোনো নতুন সমঝোতা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।