ঢাকা ০১:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘ভাত চুরির’ অপবাদে নির্যাতন, আয়মানের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:২৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 35

ছবি সংগৃহীত

 

 

খুলনায় নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আয়মান মো. আজমুল হোসেনকে নির্যাতনের পর ‘ভাত চুরি’, মোবাইল ফোন ও টাকা চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। পরে তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হলে আতঙ্কে তিনি চারতলার ছাদ থেকে পাশের তৃতীয় তলায় লাফ দেন বলে মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এরপর সেখান থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন  ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নৌকায় বসা নিয়ে দ্বন্দ্ব: সহযাত্রীর ঘুষিতে১ জনের মৃত্যু

বুধবার রাতে গ্রেপ্তার খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী শেখ আসিফ হোসেনের জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে এলিট ফোর্স এসআরবি-৬।

এসআরবি-৬-এর অধিনায়ক নিস্তার আহমেদ জানান, আয়মান হত্যা মামলায় শেখ আসিফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার রাত আড়াইটার দিকে এসআরবি-৬-এর স্পেশাল কোম্পানি ও ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্পের যৌথ অভিযানিক দল গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার ভাটিয়াপাড়া গোলচত্বর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আসিফকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) হরিণটানা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এসআরবির একাধিক সূত্রের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে আসিফ আয়মানের মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, একটি ব্যাংকে তার চাকরি হয়েছিল এবং ২০ সেপ্টেম্বর তার কাজে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। তবে ১৮ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে আয়মানের মৃত্যুর পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

আসিফের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলসংলগ্ন একটি ভবনে নিজের ব্যাচের সহপাঠীদের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে আয়মানকে মারধর করা হচ্ছিল বলে তিনি দাবি করেছেন। একপর্যায়ে আয়মানকে চারতলার ছাদে নিয়ে নির্যাতন করা হয়।

আসিফ আরও দাবি করেছেন, আয়মানকে ‘ভাত চুরি’, মোবাইল ফোন ও টাকা চুরির কথা স্বীকার করতে বাধ্য করা হয়। ওই বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করা হয় এবং পরে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হলে আয়মান আতঙ্কিত হয়ে ছাদ থেকে লাফ দেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন।

তবে আসিফের দেওয়া এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই করছে তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ভিডিও ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত পর্যালোচনা করছেন।

জিজ্ঞাসাবাদে আসিফ আরও দাবি করেছেন, মেস ম্যানেজার মেহেদী এবং কৃষি ব্যাংকের খুলনার টাউন নওয়াপাড়া শাখার ক্যাশ অফিসার হাবিব রিফাত এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত। তারাই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী বলে দাবি করেছেন তিনি।

এ ছাড়া খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাজা হলের সামনে থাকা মা-বাবার দোয়া তানহা জুস কর্নারের মালিক তারেক ওরফে রুবেল আয়মানকে বেশি মারধর করেছেন বলেও আসিফ দাবি করেছেন।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে কৃষি ব্যাংকের টাউন নওয়াপাড়া শাখার ক্যাশ অফিসার হাবিব রিফাত (৩০) এবং মা-বাবার দোয়া তানহা জুস কর্নারের মালিক তারেক ওরফে রুবেলকে (৩৫) গ্রেপ্তার করে এসআরবি। একই ঘটনায় প্রতাপ সরকার (২৮) নামে আরও একজনকে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

শেখ আসিফকে গ্রেপ্তারের পর এ মামলায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারজনে।

হরিণটানা থানার ওসি মো. ইকবাল হোসেন জানান, মামলার আসামি হাবিব রিফাত মঙ্গলবার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অন্য আসামিরাও স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে পারেন বলে জানান তিনি।

ওসি আরও বলেন, মামলার অন্যতম আসামি মেস ম্যানেজার মেহেদীকে গ্রেপ্তার করা গেলে ঘটনা সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

‘ভাত চুরির’ অপবাদে নির্যাতন, আয়মানের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪

আপডেট সময় ১১:২৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

 

খুলনায় নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আয়মান মো. আজমুল হোসেনকে নির্যাতনের পর ‘ভাত চুরি’, মোবাইল ফোন ও টাকা চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। পরে তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হলে আতঙ্কে তিনি চারতলার ছাদ থেকে পাশের তৃতীয় তলায় লাফ দেন বলে মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এরপর সেখান থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন  ‎বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে নরসিংদীতে চার মাদ্রাসাছাত্রীর ডুবে মৃত্যু

বুধবার রাতে গ্রেপ্তার খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী শেখ আসিফ হোসেনের জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে এলিট ফোর্স এসআরবি-৬।

এসআরবি-৬-এর অধিনায়ক নিস্তার আহমেদ জানান, আয়মান হত্যা মামলায় শেখ আসিফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার রাত আড়াইটার দিকে এসআরবি-৬-এর স্পেশাল কোম্পানি ও ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্পের যৌথ অভিযানিক দল গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার ভাটিয়াপাড়া গোলচত্বর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আসিফকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) হরিণটানা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এসআরবির একাধিক সূত্রের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে আসিফ আয়মানের মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, একটি ব্যাংকে তার চাকরি হয়েছিল এবং ২০ সেপ্টেম্বর তার কাজে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। তবে ১৮ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে আয়মানের মৃত্যুর পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

আসিফের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলসংলগ্ন একটি ভবনে নিজের ব্যাচের সহপাঠীদের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে আয়মানকে মারধর করা হচ্ছিল বলে তিনি দাবি করেছেন। একপর্যায়ে আয়মানকে চারতলার ছাদে নিয়ে নির্যাতন করা হয়।

আসিফ আরও দাবি করেছেন, আয়মানকে ‘ভাত চুরি’, মোবাইল ফোন ও টাকা চুরির কথা স্বীকার করতে বাধ্য করা হয়। ওই বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করা হয় এবং পরে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হলে আয়মান আতঙ্কিত হয়ে ছাদ থেকে লাফ দেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন।

তবে আসিফের দেওয়া এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই করছে তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ভিডিও ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত পর্যালোচনা করছেন।

জিজ্ঞাসাবাদে আসিফ আরও দাবি করেছেন, মেস ম্যানেজার মেহেদী এবং কৃষি ব্যাংকের খুলনার টাউন নওয়াপাড়া শাখার ক্যাশ অফিসার হাবিব রিফাত এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত। তারাই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী বলে দাবি করেছেন তিনি।

এ ছাড়া খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাজা হলের সামনে থাকা মা-বাবার দোয়া তানহা জুস কর্নারের মালিক তারেক ওরফে রুবেল আয়মানকে বেশি মারধর করেছেন বলেও আসিফ দাবি করেছেন।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে কৃষি ব্যাংকের টাউন নওয়াপাড়া শাখার ক্যাশ অফিসার হাবিব রিফাত (৩০) এবং মা-বাবার দোয়া তানহা জুস কর্নারের মালিক তারেক ওরফে রুবেলকে (৩৫) গ্রেপ্তার করে এসআরবি। একই ঘটনায় প্রতাপ সরকার (২৮) নামে আরও একজনকে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

শেখ আসিফকে গ্রেপ্তারের পর এ মামলায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারজনে।

হরিণটানা থানার ওসি মো. ইকবাল হোসেন জানান, মামলার আসামি হাবিব রিফাত মঙ্গলবার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অন্য আসামিরাও স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে পারেন বলে জানান তিনি।

ওসি আরও বলেন, মামলার অন্যতম আসামি মেস ম্যানেজার মেহেদীকে গ্রেপ্তার করা গেলে ঘটনা সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।