মরিয়মের মৃত্যু: গাজী নজরুল ৪, স্ত্রী মাকসুদা ১ দিনের রিমান্ডে
- আপডেট সময় ০৫:১৩:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 25
রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুজ্জোহা সরকার গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকসুদা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত গাজী নজরুলের চার দিন ও মাকসুদার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলাটি করা হয়েছে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায়। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে রাতে গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামকে হেফাজতে নেওয়া হয়। একই রাতে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, মাকসুদা বেগম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে মরিয়মের বাবা অভিযোগ করেন, গত জুনে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী মরিয়মের বিয়ে হয়। সংসদ সদস্য হওয়ায় গাজী নজরুল তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ও মরিয়মকে নিয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। বিষয়টি মরিয়ম বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে তার পরিবারকে জানিয়েছিলেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের বিষয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল ইসলাম মরিয়মের বাবাকে ফোন করে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি অনেক লোকজন দেখতে পান। পরে একটি কক্ষে মরিয়মকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে দরজা খুলে মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই সময় একটি সুইসাইড নোট পাওয়ার কথাও এজাহারে বলা হয়েছে।
মামলার বাদীর অভিযোগ, গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকসুদার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং প্ররোচনার কারণে মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন। পুলিশ মামলাটির তদন্ত করছে।
এর আগে গত জুলাইয়ে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ওই ঘটনায় ২১ জুলাই পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন মরিয়মের মামা ও গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান। সেই মামলায় গাজী নজরুল ইসলামকে আসামি করা হয়। পরে ১০ আগস্ট ওই মামলায় হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের জামিন পান তিনি।
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে সাংগঠনিক তদন্তে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।
এদিকে, মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় ওই মামলার বাদী ওবায়দুর রহমানকেও আসামি করা হয়েছে। মামলার তদন্তে মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
























