ঢাকা ০৩:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:২১:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 21

ছবি: সংগৃহীত

খুলনার হরিণটানা এলাকায় আজমল (২২) নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হ/ত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলরোড এলাকার মসজিদ গলি সংলগ্ন একটি আবাসিক ভবনে তাকে মারধরের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, আজমল নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি হরিণটানা এলাকায় একটি মেসে থাকতেন। তাঁর বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দর্শনায়। তবে কারা এবং কী কারণে তাঁকে মারধর করেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের দাবি, রাত ১টার দিকে একটি ভবনের চতুর্থ তলার ছাদে কয়েকজন আজমলকে মারধর করেন। পরে তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় নিচে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় তিনি পানি চাইলে স্থানীয়রা তাঁকে পানি দেন।

আরও পড়ুন  রাশিয়ার অভিযোগ: যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনে বিশ্বজুড়ে অস্ত্র প্রতিযোগিতা বাড়ছে

পরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে কয়েকজন আজমলকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দেওয়া কয়েকজন যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় আজমলকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে নেওয়ার ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়।

হাসপাতালে আজমলের সঙ্গে থাকা যুবকেরা কর্তৃপক্ষকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার একটি ভবনের চতুর্থ তলা থেকে চুরি করে পালানোর সময় লাফিয়ে পড়ে তিনি আহত হন।

তবে হাসপাতাল সূত্রের ভাষ্য, আজমলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাঁর মাথার চুলও এক পাশ দিয়ে কাটা ছিল। মৃত্যুর পর তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে আসা যুবকেরা দ্রুত সেখান থেকে চলে যান।

স্থানীয় কয়েকজন বাড়ির মালিক জানান, রাত সাড়ে ১২টা থেকে ১টার দিকে পাশের একটি ভবন থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে তাঁরা বাইরে বের হন। এ সময় ভবনের চতুর্থ তলায় একজনকে কয়েকজন মিলে মারধর করতে দেখা যায়। পরে ওই ব্যক্তিকে নিচে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আহত অবস্থায় আজমল পানি চাইলে তাঁরা তাঁকে পানি দেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ঘটনার বিষয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন বলেন, তাঁরা ঘটনাটি জানতে পেরেছেন। আজমলের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

আপডেট সময় ০২:২১:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খুলনার হরিণটানা এলাকায় আজমল (২২) নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হ/ত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলরোড এলাকার মসজিদ গলি সংলগ্ন একটি আবাসিক ভবনে তাকে মারধরের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, আজমল নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি হরিণটানা এলাকায় একটি মেসে থাকতেন। তাঁর বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দর্শনায়। তবে কারা এবং কী কারণে তাঁকে মারধর করেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের দাবি, রাত ১টার দিকে একটি ভবনের চতুর্থ তলার ছাদে কয়েকজন আজমলকে মারধর করেন। পরে তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় নিচে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় তিনি পানি চাইলে স্থানীয়রা তাঁকে পানি দেন।

আরও পড়ুন  খুলনায় শ্রমিক দলের নেতাকে গুলি করে হত্যা, আটক ১

পরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে কয়েকজন আজমলকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দেওয়া কয়েকজন যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় আজমলকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে নেওয়ার ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়।

হাসপাতালে আজমলের সঙ্গে থাকা যুবকেরা কর্তৃপক্ষকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার একটি ভবনের চতুর্থ তলা থেকে চুরি করে পালানোর সময় লাফিয়ে পড়ে তিনি আহত হন।

তবে হাসপাতাল সূত্রের ভাষ্য, আজমলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাঁর মাথার চুলও এক পাশ দিয়ে কাটা ছিল। মৃত্যুর পর তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে আসা যুবকেরা দ্রুত সেখান থেকে চলে যান।

স্থানীয় কয়েকজন বাড়ির মালিক জানান, রাত সাড়ে ১২টা থেকে ১টার দিকে পাশের একটি ভবন থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে তাঁরা বাইরে বের হন। এ সময় ভবনের চতুর্থ তলায় একজনকে কয়েকজন মিলে মারধর করতে দেখা যায়। পরে ওই ব্যক্তিকে নিচে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আহত অবস্থায় আজমল পানি চাইলে তাঁরা তাঁকে পানি দেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ঘটনার বিষয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন বলেন, তাঁরা ঘটনাটি জানতে পেরেছেন। আজমলের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।