হুথি সংকট সামলানো নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন
- আপডেট সময় ১১:২১:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 33
ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথির অগ্রযাত্রা এবং সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের সংঘাত মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘বিভ্রান্ত’ অবস্থায় রয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন নিরাপত্তা বিশ্লেষক কেনেথ কাৎজমান। তার দাবি, সংকট মোকাবিলায় ট্রাম্প কার্যকর কমান্ডার-ইন-চিফের ভূমিকা পালন করছেন না।
নিউইয়র্কভিত্তিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ ও বৈশ্বিক ভূরাজনীতি বিষয়ক থিঙ্কট্যাংক সৌফান সেন্টারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কেনেথ কাৎজমান কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন।
রোববার দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর সক্ষমতা ও কার্যপদ্ধতি বিবেচনায় বিমান অভিযান চালিয়ে হুথিদের অগ্রযাত্রা সহজেই ঠেকানো সম্ভব ছিল। তার মতে, সেটি করা হলে বর্তমানে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা হয়তো সৃষ্টি হতো না।
আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। এর মধ্যে কয়েক দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি আরবের জ্বালানি খাতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর ১১ সেপ্টেম্বর রাতে লোহিত সাগর ও এডেন সাগরকে সংযুক্তকারী বাব এল মান্দেব প্রণালি হুথি যোদ্ধারা দখল করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ঘটনাটি সৌদি আরবের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কারণ, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সৌদি আরব এত দিন বাব এল মান্দেব প্রণালি ব্যবহার করে তাদের অধিকাংশ জ্বালানি তেল রপ্তানি করে আসছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হুথিদের দমনে মার্কিন সামরিক সহায়তা চেয়ে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করেন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান।
জবাবে ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে এই মুহূর্তে হুথিদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করার মতো অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র নেই। তবে সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ এবং লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করতে পারবে ওয়াশিংটন।
কেনেথ কাৎজমানের মতে, ইয়েমেনের পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, তা নিয়ে ট্রাম্প বিভ্রান্তিতে রয়েছেন। এ ইস্যুতে তিনি কার্যকর কমান্ডার-ইন-চিফের ভূমিকা পালন করছেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কাৎজমান বলেন, কয়েক দশক ধরে সমুদ্রপথে অবাধ জাহাজ চলাচল, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের মধ্য দিয়ে জ্বালানি পরিবহন, যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। কিন্তু ইরান ও ইয়েমেনের হুথিদের কারণে বর্তমানে সেই অবাধ নৌ চলাচল চাপের মুখে পড়েছে।
তার ভাষ্য, ট্রাম্প আপাতত খুব বেশি কিছু না করে সৌদি আরবের মাধ্যমে পরিস্থিতির কোনো সমাধান হয়ে যাবে—এমনটা আশা করছেন। তবে কাৎজমান মনে করেন, এভাবে সংকট সমাধানের সম্ভাবনা কম।
সূত্র: আলজাজিরা





















