ঢাকা ০৪:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারি খরচ কমাতে বলছে আইএমএফ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:১০:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 32

ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ কর্মসূচিতে থাকা দেশগুলোর ওপর সরকারি ব্যয় কমানোর চাপ গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা অক্সফাম। সংস্থাটি বলছে, অতিরিক্ত কৃচ্ছ্রসাধনের কারণে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও আবাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনসেবা খাত সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রাও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে অক্সফাম এ সতর্কবার্তা দেয়। একই সঙ্গে আইএমএফের বর্তমান ঋণ কর্মসূচিগুলোতে সামাজিক খাতের ব্যয় সুরক্ষার ব্যবস্থাও আগের তুলনায় দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

অক্সফামের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে আইএমএফের ঋণগ্রহীতা দেশগুলোর জন্য নির্ধারিত কৃচ্ছ্রসাধনের মধ্যম বার্ষিক মাত্রা ছিল মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) শূন্য দশমিক ২১ শতাংশ। ২০১৮ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এই হার চার গুণের বেশি বেড়ে জিডিপির শূন্য দশমিক ৮৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

আরও পড়ুন  সব পেট্রোল পাম্পে সরকারি 'ট্যাগ অফিসার' নিয়োগের সিদ্ধান্ত, কড়া নজরদারিতে জ্বালানি খাত

অক্সফামের আশঙ্কা, আইএমএফ হয়তো ১৯৮০-এর দশকের কঠোর ‘কাঠামোগত সমন্বয়’ কর্মসূচির দিকে ফিরে যাচ্ছে। ওই ধরনের কর্মসূচিতে ধাপে ধাপে ব্যয় কমানোর পরিবর্তে শুরুতেই বড় ধরনের সরকারি ব্যয় সংকোচনের চাপ দেওয়া হতো বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

অক্সফামের আন্তর্জাতিক জ্যেষ্ঠ নীতিবিষয়ক উপদেষ্টা নাবিল আবদো আইএমএফের এই নীতির সমালোচনা করেছেন। তার ভাষায়, শুরুতেই বড় মাত্রায় কৃচ্ছ্রসাধনের চাপ দেওয়া এমন, যেন কোনো দেশকে একবারে পুরো বোতল বিষ পান করতে বলা হচ্ছে।

তবে অক্সফামের অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছে আইএমএফ। সংস্থাটির মুখপাত্র জুলি কোজাক জানিয়েছেন, আইএমএফের প্রতিটি ঋণ কর্মসূচিতেই ‘সামাজিক ব্যয়ের সীমা’ বা ‘সোশ্যাল স্পেন্ডিং ফ্লোর’ রাখা হয়। এর লক্ষ্য হলো ঝুঁকিপূর্ণ ও অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক ব্যয় সুরক্ষিত রাখা।

জুলি কোজাক আরও জানান, আইএমএফ শুধু সরকারি ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে না। দেশগুলো কীভাবে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে রাজস্ব ও কর সংগ্রহ বাড়াতে পারে, সেদিকেও সংস্থাটি কাজ করছে।

আইএমএফের ব্যয় সংকোচন নিয়ে এই বৈশ্বিক বিতর্ক বাংলাদেশের অর্থনীতির সঙ্গেও সম্পর্কিত। বাংলাদেশ বর্তমানে আইএমএফের অর্থনৈতিক সংস্কার ও ঋণ সহায়তা কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে দেশে রাজস্ব আদায় বাড়ানো, ভর্তুকি যৌক্তিকীকরণ এবং সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় সংস্কারের উদ্যোগ চলছে।

আইএমএফের সাম্প্রতিক পর্যালোচনায় অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় অপ্রয়োজনীয় মূলধনি ব্যয় কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা খাতকে অগ্রাধিকারমূলক সামাজিক ব্যয়ের আওতায় সুরক্ষিত রাখার কথাও বলা হয়েছে।

২০২৬ সালেও বাংলাদেশে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি সীমিত সম্পদের মধ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয় বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আইএমএফের ঋণ ও সংস্কার কর্মসূচির শর্ত পূরণ করতে গিয়ে সরকারি কৃচ্ছ্রসাধনের মাত্রা কতটা হবে এবং এর মধ্যে সাধারণ মানুষের মৌলিক সেবা কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে—অক্সফামের উত্থাপিত এই প্রশ্ন বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

সরকারি খরচ কমাতে বলছে আইএমএফ

আপডেট সময় ০৬:১০:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ কর্মসূচিতে থাকা দেশগুলোর ওপর সরকারি ব্যয় কমানোর চাপ গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা অক্সফাম। সংস্থাটি বলছে, অতিরিক্ত কৃচ্ছ্রসাধনের কারণে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও আবাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনসেবা খাত সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রাও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে অক্সফাম এ সতর্কবার্তা দেয়। একই সঙ্গে আইএমএফের বর্তমান ঋণ কর্মসূচিগুলোতে সামাজিক খাতের ব্যয় সুরক্ষার ব্যবস্থাও আগের তুলনায় দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

অক্সফামের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে আইএমএফের ঋণগ্রহীতা দেশগুলোর জন্য নির্ধারিত কৃচ্ছ্রসাধনের মধ্যম বার্ষিক মাত্রা ছিল মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) শূন্য দশমিক ২১ শতাংশ। ২০১৮ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এই হার চার গুণের বেশি বেড়ে জিডিপির শূন্য দশমিক ৮৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

আরও পড়ুন  কৃষিতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখতে আইএমএফ ছাড়ার সিদ্ধান্ত: ড. আনিসুজ্জামান

অক্সফামের আশঙ্কা, আইএমএফ হয়তো ১৯৮০-এর দশকের কঠোর ‘কাঠামোগত সমন্বয়’ কর্মসূচির দিকে ফিরে যাচ্ছে। ওই ধরনের কর্মসূচিতে ধাপে ধাপে ব্যয় কমানোর পরিবর্তে শুরুতেই বড় ধরনের সরকারি ব্যয় সংকোচনের চাপ দেওয়া হতো বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

অক্সফামের আন্তর্জাতিক জ্যেষ্ঠ নীতিবিষয়ক উপদেষ্টা নাবিল আবদো আইএমএফের এই নীতির সমালোচনা করেছেন। তার ভাষায়, শুরুতেই বড় মাত্রায় কৃচ্ছ্রসাধনের চাপ দেওয়া এমন, যেন কোনো দেশকে একবারে পুরো বোতল বিষ পান করতে বলা হচ্ছে।

তবে অক্সফামের অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছে আইএমএফ। সংস্থাটির মুখপাত্র জুলি কোজাক জানিয়েছেন, আইএমএফের প্রতিটি ঋণ কর্মসূচিতেই ‘সামাজিক ব্যয়ের সীমা’ বা ‘সোশ্যাল স্পেন্ডিং ফ্লোর’ রাখা হয়। এর লক্ষ্য হলো ঝুঁকিপূর্ণ ও অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক ব্যয় সুরক্ষিত রাখা।

জুলি কোজাক আরও জানান, আইএমএফ শুধু সরকারি ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে না। দেশগুলো কীভাবে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে রাজস্ব ও কর সংগ্রহ বাড়াতে পারে, সেদিকেও সংস্থাটি কাজ করছে।

আইএমএফের ব্যয় সংকোচন নিয়ে এই বৈশ্বিক বিতর্ক বাংলাদেশের অর্থনীতির সঙ্গেও সম্পর্কিত। বাংলাদেশ বর্তমানে আইএমএফের অর্থনৈতিক সংস্কার ও ঋণ সহায়তা কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে দেশে রাজস্ব আদায় বাড়ানো, ভর্তুকি যৌক্তিকীকরণ এবং সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় সংস্কারের উদ্যোগ চলছে।

আইএমএফের সাম্প্রতিক পর্যালোচনায় অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় অপ্রয়োজনীয় মূলধনি ব্যয় কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা খাতকে অগ্রাধিকারমূলক সামাজিক ব্যয়ের আওতায় সুরক্ষিত রাখার কথাও বলা হয়েছে।

২০২৬ সালেও বাংলাদেশে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি সীমিত সম্পদের মধ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয় বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আইএমএফের ঋণ ও সংস্কার কর্মসূচির শর্ত পূরণ করতে গিয়ে সরকারি কৃচ্ছ্রসাধনের মাত্রা কতটা হবে এবং এর মধ্যে সাধারণ মানুষের মৌলিক সেবা কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে—অক্সফামের উত্থাপিত এই প্রশ্ন বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।