ঢাকা ১২:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উপসাগরীয় নিরাপত্তায় মার্কিন উপস্থিতি যথেষ্ট নয়: কাতার

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:২৫:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 26

ছবি সংগৃহীত

 

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ও কৌশলগত জোট এখন আর যথেষ্ট নয়। তিনি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আঞ্চলিক দেশগুলোকে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। আবুধাবিতে হিলি ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় আল-আনসারি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে আন্তর্জাতিক বাহিনীর উপস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হলেও কেবল এর ওপর নির্ভর করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন  মার্কিন প্রস্তাব আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন: প্রেসিডেন্ট আব্বাস

তিনি বলেন, “নিরাপত্তায় নিজেদের স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তোলাই একমাত্র পথ। অংশীদার ও মিত্রদের প্রয়োজন আছে। কিন্তু শুধু তাদের ওপর নির্ভর করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে না।”

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে কাতার। দেশটিতে আরব বিশ্বের সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের আঞ্চলিক সদর দপ্তরও কাতারে অবস্থিত।

এর আগে সাবেক মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক এভ্রিল হেইনস ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস ফেস্টিভ্যালে বলেছিলেন, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে মার্কিন উপস্থিতি কমিয়ে দেওয়া হলে তা পুরোপুরি উপস্থিত থাকার চেয়েও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

চলতি বছরের শুরুতে ইরান মার্কিন সম্পদ ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বাড়ানোর পর উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে হাজার হাজার মার্কিন সেনা ও দূতাবাসকর্মী সরিয়ে নেওয়া হয়।

ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে আল-আনসারি বলেন, দুই দেশের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠনে সময় লাগবে। তবে এটি জরুরি, কারণ ইরান কাতারের প্রতিবেশী হিসেবে সবসময়ই থাকবে।

ওয়াশিংটনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা নীতির সঙ্গেও ভিন্নমত পোষণ করেন কাতারের এই মুখপাত্র। তাঁর মতে, অতীতে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। ইরান ইস্যুর সমাধান আলোচনার টেবিলেই সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সঙ্গে একমত নন আল-আনসারি। এর আগে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল পরিবহনের জন্য বিকল্প পাইপলাইন নির্মাণের কথা বলেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, আগামী দুই বছরে হরমুজ ‘মূল্যহীন’ হয়ে যাবে।

তবে আল-আনসারি বলেন, বিকল্প ব্যবস্থা যতই গড়ে তোলা হোক না কেন, হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবেই থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

উপসাগরীয় নিরাপত্তায় মার্কিন উপস্থিতি যথেষ্ট নয়: কাতার

আপডেট সময় ০৮:২৫:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ও কৌশলগত জোট এখন আর যথেষ্ট নয়। তিনি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আঞ্চলিক দেশগুলোকে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। আবুধাবিতে হিলি ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় আল-আনসারি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে আন্তর্জাতিক বাহিনীর উপস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হলেও কেবল এর ওপর নির্ভর করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন  ইরানে ফের মার্কিন বিমান হামলা শুরু

তিনি বলেন, “নিরাপত্তায় নিজেদের স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তোলাই একমাত্র পথ। অংশীদার ও মিত্রদের প্রয়োজন আছে। কিন্তু শুধু তাদের ওপর নির্ভর করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে না।”

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে কাতার। দেশটিতে আরব বিশ্বের সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের আঞ্চলিক সদর দপ্তরও কাতারে অবস্থিত।

এর আগে সাবেক মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক এভ্রিল হেইনস ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস ফেস্টিভ্যালে বলেছিলেন, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে মার্কিন উপস্থিতি কমিয়ে দেওয়া হলে তা পুরোপুরি উপস্থিত থাকার চেয়েও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

চলতি বছরের শুরুতে ইরান মার্কিন সম্পদ ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বাড়ানোর পর উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে হাজার হাজার মার্কিন সেনা ও দূতাবাসকর্মী সরিয়ে নেওয়া হয়।

ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে আল-আনসারি বলেন, দুই দেশের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠনে সময় লাগবে। তবে এটি জরুরি, কারণ ইরান কাতারের প্রতিবেশী হিসেবে সবসময়ই থাকবে।

ওয়াশিংটনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা নীতির সঙ্গেও ভিন্নমত পোষণ করেন কাতারের এই মুখপাত্র। তাঁর মতে, অতীতে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। ইরান ইস্যুর সমাধান আলোচনার টেবিলেই সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সঙ্গে একমত নন আল-আনসারি। এর আগে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল পরিবহনের জন্য বিকল্প পাইপলাইন নির্মাণের কথা বলেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, আগামী দুই বছরে হরমুজ ‘মূল্যহীন’ হয়ে যাবে।

তবে আল-আনসারি বলেন, বিকল্প ব্যবস্থা যতই গড়ে তোলা হোক না কেন, হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবেই থাকবে।