গণমাধ্যম বাঁচলেই গণতন্ত্র বাঁচবে: রাষ্ট্রপতি
- আপডেট সময় ০৬:৩৪:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 31
গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে গণমাধ্যমকে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, গণতন্ত্রের মূল শক্তি গণমাধ্যম; তাই গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হলে গণমাধ্যমকেও বাঁচাতে হবে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সুশাসনের জন্য সাংবাদিকদের সঠিক পথে থেকে কাজ করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ম্যানেজিং কমিটির ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রেস ক্লাবের সঙ্গে তার সম্পর্ক শুধু রাজনৈতিক নয়, দীর্ঘদিনের আত্মিক সম্পর্ক। জীবনের সবচেয়ে দুঃসময়ে প্রেস ক্লাবের সদস্যরা তার পাশে ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সাংবাদিকদের কল্যাণে নিজের অবস্থান থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, তাদের জন্য তার পক্ষ থেকে যতটুকু করার সুযোগ রয়েছে, তা করার চেষ্টা করবেন।
এ সময় দৈনিক বাংলা-সহ বন্ধ থাকা অন্যান্য পত্রিকা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। সংবাদকর্মীদের কর্মসংস্থানের সংকটের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, বন্ধ পত্রিকাগুলো এবং বিশেষ ট্রাস্টের অধীনে থাকা পত্রিকাগুলো চালু করা সম্ভব হলে অন্তত এক হাজার সাংবাদিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও তাগিদ দেন তিনি।
সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, বিভক্তি কখনো সাফল্য এনে দিতে পারে না। মৌলিক বিষয়গুলোতে সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারলে সরকার ও বিরোধী দলের সঙ্গেও কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
সাংবাদিকদের নিজেদের সুরক্ষার পাশাপাশি অনিয়ম ও গণহারে সাংবাদিক ছাঁটাইয়ের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
দেশে গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে তরুণ প্রজন্মের মন-মানসিকতায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রেও সাংবাদিকদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র একটি সংস্কৃতি, এটিকে প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে হবে। এজন্য পুরোনো কর্তৃত্ববাদী চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধারণ করা জরুরি। নতুন প্রজন্মের মধ্যেও গণতান্ত্রিক ভাষা ও মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। আন্দোলনের মাধ্যমে পরিবর্তন এলেও পুরোনো মানসিকতা থেকে গেলে প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি সরকারের যৌক্তিক ও গঠনমূলক সমালোচনা করার পাশাপাশি সরকারের ভালো কাজগুলোও গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যথাযথভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান। জনগণের নির্বাচিত সরকারকে কাজ করার জন্য সময় দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের বিষয়টিও গণমাধ্যমে যথাযথভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের দীর্ঘ ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার এ প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে অবদানের কথাও উল্লেখ করেন। দেশের গণমাধ্যমের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে জাতীয় প্রেস ক্লাবের উন্নয়নে সরকারের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সাক্ষাতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ উপস্থিত সদস্যদের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন এবং সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে সুবিধাজনক সময়ে প্রেস ক্লাবে যাওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানান তিনি।
প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া অতীতের স্মৃতিচারণ করে বলেন, প্রেস ক্লাবে রাষ্ট্রপতি তাদের পরিবারের একজন সদস্যের মতো ছিলেন। প্রেস ক্লাবের একজন সদস্য রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারা গর্বিত ও আনন্দিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সদস্য কাদের গনি চৌধুরী বিগত সময়ে অপসাংবাদিকতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের ধারা অব্যাহত রাখতে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন।
সদস্য সৈয়দ আবদাল আহমদ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অতীতের স্মৃতিচারণ করেন এবং গণতন্ত্র রক্ষায় তার ত্যাগ ও অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, গত ১৭ বছর সাংবাদিকদের ওপর নানা ধরনের বাধা ও নিয়ন্ত্রণ ছিল। এতে সাংবাদিকতার সংজ্ঞাই পরিবর্তন করতে হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিকরা মুক্তভাবে লেখা ও কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন এবং এই স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকরা সরকারের সামনে সত্য তুলে ধরেন। অন্য অনেক জায়গায় হয়তো মনমতো কথা শোনা যেতে পারে, কিন্তু সত্য জানতে সাংবাদিকদের কাছে আসতে হবে। এই স্বাধীনতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের কল্যাণে দ্রুত দশম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে সরকার ও রাষ্ট্রপতির সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।
সাংবাদিক নেতারা জাতীয় প্রেস ক্লাবের অবকাঠামো সম্প্রসারণে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা চাইলে তিনি সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন সহ-সভাপতি ও সদস্য আবদুল হাই শিকদার, কাজী রওনাক হোসেন, জাহিদুল ইসলাম রনি, শাহনাজ বেগম পলি, মাসুমুর রহমান খলিলী ও এ কে এম মহসীন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিবসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।




















