ঢাকা ০৫:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :

চীনের ঝুঁকি বাড়ায় ভারতে ব্যবসা সম্প্রসারণে জাপানি কোম্পানিগুলো

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৩০:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 15

ছবি সংগৃহীত

 

চীনে ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকায় ভারতের বাজারে ব্যবসা ও বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে জাপানি কোম্পানিগুলো। খুচরা পণ্য, ব্যাংকিং, প্রযুক্তি, উৎপাদন ও গবেষণা—বিভিন্ন খাতে দেশটিতে জাপানি প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির নতুন সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে ভারতকে গুরুত্ব দিচ্ছে জাপানের বড় ও মাঝারি আকারের কোম্পানিগুলো।

আরও পড়ুন  তেলাপোকার আন্দোলনের সমর্থনে গানের মুক্তি পেছালেন গায়ক আরমান মালিক

সম্প্রতি ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের নেতৃত্বে দেশটির একটি বড় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল জাপান সফর করে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই সফর অনুষ্ঠিত হয়।

ভারতের বাজারে বাড়ছে জাপানি ব্র্যান্ডের উপস্থিতি

ভারতের মুম্বাই, দিল্লি ও বেঙ্গালুরুর মতো বড় শহরগুলোতে জাপানি ব্র্যান্ডের উপস্থিতি এখন বেশ দৃশ্যমান। পোশাক ব্র্যান্ড ইউনিক্লো ও মুজি, স্নিকার্স ব্র্যান্ড অনিতসুকা টাইগারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দেশটিতে ব্যবসা সম্প্রসারণ করছে।

জাপানের আসবাব প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান নিটোরিও সম্প্রতি ভারতের বাজারে কার্যক্রম শুরু করেছে। অন্যদিকে জাপানি কনভেনিয়েন্স স্টোর চেইন লসনও ভারতীয় বাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে ভারতে প্রায় ১০ হাজার দোকান চালু করা হতে পারে। মুম্বাই থেকে এই কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতেও জাপানের আগ্রহ

শুধু খুচরা ব্যবসা নয়, ভারতের আর্থিক খাতেও বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো।

জাপানের সবচেয়ে বড় ব্যাংক এমইউএফজি গত বছর ভারতের শ্রীরাম ফাইন্যান্সের ২০ শতাংশ শেয়ার কিনেছে প্রায় ৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে। এটি ভারতের আর্থিক খাতে অন্যতম বড় বিদেশি বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

একই সময়ে সুমিতোমো মিৎসুই ব্যাংকিং করপোরেশন ভারতের ইয়েস ব্যাংকের ২৪ দশমিক ২২ শতাংশ শেয়ার কিনে প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডারে পরিণত হয়েছে।

প্রযুক্তি ও গবেষণায় বাড়ছে অংশগ্রহণ

ভারতের গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার বা জিসিসি খাতেও জাপানি কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম বাড়ছে।

ডেলয়েটের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতে শতাধিক জাপানি প্রতিষ্ঠান এ ধরনের কেন্দ্র পরিচালনা করছে। এসব প্রতিষ্ঠানে গবেষণা ও উন্নয়ন, করপোরেট পরিকল্পনা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত কাজ পরিচালিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জাপানের অভ্যন্তরীণ বাজার সংকুচিত হওয়ায় বিদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে।

নেক্সট ভারত ভেঞ্চার্সের প্রতিষ্ঠাতা ভিপুল নাথ জিন্দাল বলেন, জাপানে গত প্রায় দেড় দশক ধরে জনসংখ্যা কমছে। ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজার ও ভোক্তা চাহিদাও ধীরে ধীরে সংকুচিত হচ্ছে। এ কারণে প্রবৃদ্ধির জন্য জাপানি কোম্পানিগুলোকে নতুন বাজারের দিকে তাকাতে হচ্ছে।

চীনের বিকল্প হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে ভারত

জাপানি কোম্পানিগুলোর জন্য একসময় চীন ছিল অন্যতম প্রধান ব্যবসায়িক গন্তব্য। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সরবরাহব্যবস্থার অনিশ্চয়তা এবং অর্থনৈতিক ঝুঁকি বাড়ায় সেখানে নতুন বিনিয়োগের গতি কমেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও শুল্কনীতি ও তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে ব্যবসা পরিচালনা তুলনামূলক কঠিন হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশের বাজার তুলনামূলক ছোট।

এই পরিস্থিতিতে বিশাল জনসংখ্যা, দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি এবং উৎপাদন খাত সম্প্রসারণের সুযোগ ভারতের বাজারকে জাপানি বিনিয়োগকারীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

জোরালো হচ্ছে ভারত-জাপান অর্থনৈতিক সম্পর্ক

গত দেড় দশকে ভারত ও জাপানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে। বাণিজ্য উদারীকরণ চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়।

২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ককে বিশেষ কৌশলগত ও বৈশ্বিক অংশীদারত্বের পর্যায়ে উন্নীত করা হয়।

এ সময় ভারতে জাপানি কোম্পানির সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণের পাশাপাশি মুম্বাই-আহমেদাবাদ বুলেট ট্রেন প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে জাপানের বেসরকারি খাতও ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

জুলাইয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির দিল্লি সফরকালে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে জাপানি কোম্পানিগুলো প্রায় ১২০টি চুক্তির মাধ্যমে ভারতে ১২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়।

এসব বিনিয়োগের মধ্যে সেমিকন্ডাক্টর ও সবুজ জ্বালানি খাতও রয়েছে।

ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল জানিয়েছেন, জাপানের ১০ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত সময়ের আগেই পূরণ হতে পারে।

ছোট কোম্পানিগুলোও খুঁজছে ভারতের সুযোগ

জাপানের বড় কোম্পানিগুলোর পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি আকারের প্রতিষ্ঠানও ভারতের বাজারে প্রবেশের সুযোগ খুঁজছে।

সুজুকি, হোন্ডা ও ইয়ামাহার মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাপানের হামামাতসু শহরে সম্প্রতি ‘হামামাতসু ইন্ডিয়া কমিটি’ গঠন করা হয়েছে।

এই কমিটি স্থানীয় ছোট ও মাঝারি কোম্পানিগুলো কীভাবে ভারতের বাজারে ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারে, সে বিষয়ে কাজ করবে।

রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জও

তবে ভারত-জাপানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের পথ পুরোপুরি বাধামুক্ত নয়।

চীনের উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে জাপানের অর্থনীতি এখনো গভীরভাবে যুক্ত। ফলে জাপানি কোম্পানিগুলোর জন্য চীন থেকে পুরোপুরি সরে আসা সহজ নয়।

অন্যদিকে ভারতে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রেও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। করসংক্রান্ত অনিশ্চয়তা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং জমি ও পরিবেশগত অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে।

বুলেট ট্রেন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়েও সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে কিছু মতপার্থক্যের বিষয় সামনে এসেছে। যদিও ভারত সরকার এ বিষয়ে ওঠা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চীনে বাড়তে থাকা ঝুঁকির মধ্যে ভারত জাপানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প বাজার হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। একই সঙ্গে জাপানের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার লক্ষ্য এবং ভারতের উৎপাদন খাত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করছে।

তবে জাপানি বিনিয়োগের বর্তমান গতি ধরে রাখতে হলে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে ভারতকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

চীনের ঝুঁকি বাড়ায় ভারতে ব্যবসা সম্প্রসারণে জাপানি কোম্পানিগুলো

আপডেট সময় ০৩:৩০:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

চীনে ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকায় ভারতের বাজারে ব্যবসা ও বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে জাপানি কোম্পানিগুলো। খুচরা পণ্য, ব্যাংকিং, প্রযুক্তি, উৎপাদন ও গবেষণা—বিভিন্ন খাতে দেশটিতে জাপানি প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির নতুন সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে ভারতকে গুরুত্ব দিচ্ছে জাপানের বড় ও মাঝারি আকারের কোম্পানিগুলো।

আরও পড়ুন  তেলাপোকার আন্দোলনের সমর্থনে গানের মুক্তি পেছালেন গায়ক আরমান মালিক

সম্প্রতি ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের নেতৃত্বে দেশটির একটি বড় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল জাপান সফর করে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই সফর অনুষ্ঠিত হয়।

ভারতের বাজারে বাড়ছে জাপানি ব্র্যান্ডের উপস্থিতি

ভারতের মুম্বাই, দিল্লি ও বেঙ্গালুরুর মতো বড় শহরগুলোতে জাপানি ব্র্যান্ডের উপস্থিতি এখন বেশ দৃশ্যমান। পোশাক ব্র্যান্ড ইউনিক্লো ও মুজি, স্নিকার্স ব্র্যান্ড অনিতসুকা টাইগারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দেশটিতে ব্যবসা সম্প্রসারণ করছে।

জাপানের আসবাব প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান নিটোরিও সম্প্রতি ভারতের বাজারে কার্যক্রম শুরু করেছে। অন্যদিকে জাপানি কনভেনিয়েন্স স্টোর চেইন লসনও ভারতীয় বাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে ভারতে প্রায় ১০ হাজার দোকান চালু করা হতে পারে। মুম্বাই থেকে এই কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতেও জাপানের আগ্রহ

শুধু খুচরা ব্যবসা নয়, ভারতের আর্থিক খাতেও বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো।

জাপানের সবচেয়ে বড় ব্যাংক এমইউএফজি গত বছর ভারতের শ্রীরাম ফাইন্যান্সের ২০ শতাংশ শেয়ার কিনেছে প্রায় ৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে। এটি ভারতের আর্থিক খাতে অন্যতম বড় বিদেশি বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

একই সময়ে সুমিতোমো মিৎসুই ব্যাংকিং করপোরেশন ভারতের ইয়েস ব্যাংকের ২৪ দশমিক ২২ শতাংশ শেয়ার কিনে প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডারে পরিণত হয়েছে।

প্রযুক্তি ও গবেষণায় বাড়ছে অংশগ্রহণ

ভারতের গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার বা জিসিসি খাতেও জাপানি কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম বাড়ছে।

ডেলয়েটের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতে শতাধিক জাপানি প্রতিষ্ঠান এ ধরনের কেন্দ্র পরিচালনা করছে। এসব প্রতিষ্ঠানে গবেষণা ও উন্নয়ন, করপোরেট পরিকল্পনা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত কাজ পরিচালিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জাপানের অভ্যন্তরীণ বাজার সংকুচিত হওয়ায় বিদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে।

নেক্সট ভারত ভেঞ্চার্সের প্রতিষ্ঠাতা ভিপুল নাথ জিন্দাল বলেন, জাপানে গত প্রায় দেড় দশক ধরে জনসংখ্যা কমছে। ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজার ও ভোক্তা চাহিদাও ধীরে ধীরে সংকুচিত হচ্ছে। এ কারণে প্রবৃদ্ধির জন্য জাপানি কোম্পানিগুলোকে নতুন বাজারের দিকে তাকাতে হচ্ছে।

চীনের বিকল্প হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে ভারত

জাপানি কোম্পানিগুলোর জন্য একসময় চীন ছিল অন্যতম প্রধান ব্যবসায়িক গন্তব্য। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সরবরাহব্যবস্থার অনিশ্চয়তা এবং অর্থনৈতিক ঝুঁকি বাড়ায় সেখানে নতুন বিনিয়োগের গতি কমেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও শুল্কনীতি ও তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে ব্যবসা পরিচালনা তুলনামূলক কঠিন হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশের বাজার তুলনামূলক ছোট।

এই পরিস্থিতিতে বিশাল জনসংখ্যা, দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি এবং উৎপাদন খাত সম্প্রসারণের সুযোগ ভারতের বাজারকে জাপানি বিনিয়োগকারীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

জোরালো হচ্ছে ভারত-জাপান অর্থনৈতিক সম্পর্ক

গত দেড় দশকে ভারত ও জাপানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে। বাণিজ্য উদারীকরণ চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়।

২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ককে বিশেষ কৌশলগত ও বৈশ্বিক অংশীদারত্বের পর্যায়ে উন্নীত করা হয়।

এ সময় ভারতে জাপানি কোম্পানির সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণের পাশাপাশি মুম্বাই-আহমেদাবাদ বুলেট ট্রেন প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে জাপানের বেসরকারি খাতও ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

জুলাইয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির দিল্লি সফরকালে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে জাপানি কোম্পানিগুলো প্রায় ১২০টি চুক্তির মাধ্যমে ভারতে ১২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়।

এসব বিনিয়োগের মধ্যে সেমিকন্ডাক্টর ও সবুজ জ্বালানি খাতও রয়েছে।

ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল জানিয়েছেন, জাপানের ১০ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত সময়ের আগেই পূরণ হতে পারে।

ছোট কোম্পানিগুলোও খুঁজছে ভারতের সুযোগ

জাপানের বড় কোম্পানিগুলোর পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি আকারের প্রতিষ্ঠানও ভারতের বাজারে প্রবেশের সুযোগ খুঁজছে।

সুজুকি, হোন্ডা ও ইয়ামাহার মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাপানের হামামাতসু শহরে সম্প্রতি ‘হামামাতসু ইন্ডিয়া কমিটি’ গঠন করা হয়েছে।

এই কমিটি স্থানীয় ছোট ও মাঝারি কোম্পানিগুলো কীভাবে ভারতের বাজারে ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারে, সে বিষয়ে কাজ করবে।

রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জও

তবে ভারত-জাপানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের পথ পুরোপুরি বাধামুক্ত নয়।

চীনের উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে জাপানের অর্থনীতি এখনো গভীরভাবে যুক্ত। ফলে জাপানি কোম্পানিগুলোর জন্য চীন থেকে পুরোপুরি সরে আসা সহজ নয়।

অন্যদিকে ভারতে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রেও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। করসংক্রান্ত অনিশ্চয়তা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং জমি ও পরিবেশগত অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে।

বুলেট ট্রেন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়েও সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে কিছু মতপার্থক্যের বিষয় সামনে এসেছে। যদিও ভারত সরকার এ বিষয়ে ওঠা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চীনে বাড়তে থাকা ঝুঁকির মধ্যে ভারত জাপানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প বাজার হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। একই সঙ্গে জাপানের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার লক্ষ্য এবং ভারতের উৎপাদন খাত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করছে।

তবে জাপানি বিনিয়োগের বর্তমান গতি ধরে রাখতে হলে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে ভারতকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।