ঢাকা ০৪:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
সুড়ঙ্গে ড্রোন পাঠিয়েও সন্ধান পাওয়া যায়নি ৯৩ শ্রমিকের ‘দীর্ঘ সংগ্রামের পর দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি’: প্রধানমন্ত্রী নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে মোদির ঘোষণা ভারত-বাংলাদেশের স্বার্থে সম্পর্ক বাড়াতে চায় চীনের ঝুঁকি বাড়ায় ভারতে ব্যবসা সম্প্রসারণে জাপানি কোম্পানিগুলো নবম-দশম ওয়েজ বোর্ড একসঙ্গে বাস্তবায়ন: তথ্য উপদেষ্টা রাজশাহীতে ঢালারচর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত, বন্ধ রেল যোগাযোগ ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ থেকে সরে আসার আহ্বান, পুতিনকে মোদির বার্তা জার্মানিতে দ্বিতীয় উষ্ণতম গ্রীষ্ম, অতিরিক্ত গরমে প্রাণ গেল প্রায় ১৬ হাজার মানুষের সপ্তাহখানেকের মধ্যে গ্যাস স্বাভাবিক: রিজভী

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে মোদির ঘোষণা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৫৮:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 10

ছবি সংগৃহীত

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ ও সামরিক হামলার মধ্যে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য আরও বাড়ানো ও বহুমুখীকরণের আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার (৩১ আগস্ট) কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোদি জানান, ইরানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব আরও জোরদারের বিষয়ে তিনি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে আগামী দিনে দুই দেশের বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণের ইচ্ছার কথাও জানান তিনি।

আরও পড়ুন  ভারত হামলা বন্ধ করলে পাকিস্তানও ভাববে: ইসহাক দার

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত-ইরান বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭০৩ কোটি ডলার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে ১৬৩ কোটি ডলারে নেমে এসেছে।

সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসন ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ চালু করে নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরি জানিয়েছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বর্তমানে ভারত ও ইরানের মধ্যে যে বাণিজ্য চলছে, তা মূলত বেসরকারি খাতনির্ভর এবং এর প্রভাব সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে বলে জানান তিনি।

বৈঠকে কৌশলগত চাবাহার বন্দর নিয়েও আলোচনা হয়েছে। পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরি জানান, বন্দরটির সার্বিক পরিস্থিতি বর্তমানে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। দুই দেশ যৌথভাবে একটি টেকসই উপায় খুঁজে বের করার জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মোদি। তার মতে, আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমেই বিভিন্ন সমস্যার সমাধান সম্ভব।

সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। সংঘাতের ঘটনায় অন্তত ১৩ জন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মার্কিন যুদ্ধনীতির সমালোচনা করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কূটনীতিকে একমাত্র পথ হিসেবে উল্লেখ করেন।

এ সময় আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য পেজেশকিয়ানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান নরেন্দ্র মোদি।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে মোদির ঘোষণা

আপডেট সময় ০৩:৫৮:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ ও সামরিক হামলার মধ্যে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য আরও বাড়ানো ও বহুমুখীকরণের আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার (৩১ আগস্ট) কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোদি জানান, ইরানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব আরও জোরদারের বিষয়ে তিনি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে আগামী দিনে দুই দেশের বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণের ইচ্ছার কথাও জানান তিনি।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধের প্রস্তুতি জোরালো হচ্ছে!

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত-ইরান বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭০৩ কোটি ডলার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে ১৬৩ কোটি ডলারে নেমে এসেছে।

সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসন ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ চালু করে নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরি জানিয়েছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বর্তমানে ভারত ও ইরানের মধ্যে যে বাণিজ্য চলছে, তা মূলত বেসরকারি খাতনির্ভর এবং এর প্রভাব সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে বলে জানান তিনি।

বৈঠকে কৌশলগত চাবাহার বন্দর নিয়েও আলোচনা হয়েছে। পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরি জানান, বন্দরটির সার্বিক পরিস্থিতি বর্তমানে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। দুই দেশ যৌথভাবে একটি টেকসই উপায় খুঁজে বের করার জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মোদি। তার মতে, আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমেই বিভিন্ন সমস্যার সমাধান সম্ভব।

সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। সংঘাতের ঘটনায় অন্তত ১৩ জন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মার্কিন যুদ্ধনীতির সমালোচনা করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কূটনীতিকে একমাত্র পথ হিসেবে উল্লেখ করেন।

এ সময় আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য পেজেশকিয়ানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান নরেন্দ্র মোদি।