ঢাকা ০৮:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
শিরোনাম :
রাষ্ট্রের কল্যাণে দলনিরপেক্ষভাবেই দায়িত্ব পালন করব: রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি মর্মাহত: স্পিকার প্রথম দিনেই উত্তপ্ত সংসদ, বিরোধীদের প্রতিবাদ পুলিশে ৪ হাজার এসআই, ৪০০ সার্জেন্ট ও ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ দেবে সরকার: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তথ্য ‘মক্কার যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে অন্য কারও উদ্বেগের অবকাশ নেই’ সালমান শাহ হত্যা মামলা, ডনের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত কমিশন: সিইসি আমিনবাজারের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে চীনা কোম্পানি ১৫ মামলায় খালাস মির্জা আব্বাস আশ্রমের আড়ালে মানবিকতার ব্যবসা, সাংবাদিক পিটিয়ে মিল্টন সমাদ্দারের বুনো উল্লাস

প্রথম দিনেই উত্তপ্ত সংসদ, বিরোধীদের প্রতিবাদ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:২৯:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / 3

ছবি সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংসদ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সংসদ সদস্যদের ওপর হামলা নিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেন। একপর্যায়ে অধিবেশন কক্ষে হট্টগোল শুরু হয়।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকাল ৩টায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অধিবেশনের প্রথম বৈঠক শুরু হয়। শুরুতে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বীর বিক্রম।

অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারের গত ছয় মাসের অপরাধ পরিস্থিতি তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সফল না ব্যর্থ—এমন প্রশ্ন করেন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তার প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘শাহবাগ ও পল্টন’ প্রসঙ্গ তুললে সংসদে উত্তেজনা তৈরি হয়।

আরও পড়ুন  শপথ নিতে জাতীয় সংসদে নবনির্বাচিত এমপিরা

হাসনাত আবদুল্লাহ গত ছয় মাসের আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, তিনি সফল না ব্যর্থ। জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সফল না ব্যর্থ—এ ধরনের প্রশ্ন শাহবাগ ও পল্টনে করা যায়, সংসদে নয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ছয় মাসে সংঘটিত প্রতিটি অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। কোনো অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—এমন নির্দিষ্ট উদাহরণ বিরোধী সংসদ সদস্যদের দিতে বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘স্পেসিফিক করে বলতে হবে, কোন অপরাধে শাস্তি হয়নি।’

তবে বক্তব্যে ‘শাহবাগ ও পল্টন’ প্রসঙ্গ আসার পর বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসন থেকে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ ও চিৎকার শুরু করেন। এতে অধিবেশন কক্ষে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতির মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পিকারের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আমি আপনার শেল্টার চাই।’

পরে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে প্রায়ই তুচ্ছতাচ্ছিল্যের সুরে কথা বলেন এবং নিজেকে সংসদের শিক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা তার ছাত্র হতে সংসদে আসিনি। তিনি শিক্ষকতা করতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে পারেন। সেখানে যার ইচ্ছা ভর্তি হবে, শিখবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে সংসদের সৌন্দর্য ক্ষুণ্ন হয়েছে দাবি করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদের মর্যাদা রক্ষায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

প্রথম দিনেই উত্তপ্ত সংসদ, বিরোধীদের প্রতিবাদ

আপডেট সময় ০৭:২৯:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংসদ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সংসদ সদস্যদের ওপর হামলা নিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেন। একপর্যায়ে অধিবেশন কক্ষে হট্টগোল শুরু হয়।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকাল ৩টায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অধিবেশনের প্রথম বৈঠক শুরু হয়। শুরুতে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বীর বিক্রম।

অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারের গত ছয় মাসের অপরাধ পরিস্থিতি তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সফল না ব্যর্থ—এমন প্রশ্ন করেন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তার প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘শাহবাগ ও পল্টন’ প্রসঙ্গ তুললে সংসদে উত্তেজনা তৈরি হয়।

আরও পড়ুন  তারেক রহমানকে প্রধান উপদেষ্টার অভিনন্দন বার্তা

হাসনাত আবদুল্লাহ গত ছয় মাসের আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, তিনি সফল না ব্যর্থ। জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সফল না ব্যর্থ—এ ধরনের প্রশ্ন শাহবাগ ও পল্টনে করা যায়, সংসদে নয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ছয় মাসে সংঘটিত প্রতিটি অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। কোনো অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—এমন নির্দিষ্ট উদাহরণ বিরোধী সংসদ সদস্যদের দিতে বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘স্পেসিফিক করে বলতে হবে, কোন অপরাধে শাস্তি হয়নি।’

তবে বক্তব্যে ‘শাহবাগ ও পল্টন’ প্রসঙ্গ আসার পর বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসন থেকে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ ও চিৎকার শুরু করেন। এতে অধিবেশন কক্ষে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতির মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পিকারের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আমি আপনার শেল্টার চাই।’

পরে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে প্রায়ই তুচ্ছতাচ্ছিল্যের সুরে কথা বলেন এবং নিজেকে সংসদের শিক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা তার ছাত্র হতে সংসদে আসিনি। তিনি শিক্ষকতা করতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে পারেন। সেখানে যার ইচ্ছা ভর্তি হবে, শিখবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে সংসদের সৌন্দর্য ক্ষুণ্ন হয়েছে দাবি করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদের মর্যাদা রক্ষায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে হবে।