এ বছরের মধ্যেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হবে: অর্থমন্ত্রী
- আপডেট সময় ০৬:৩৩:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
- / 22
চলতি বছরের মধ্যেই সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে পে-স্কেল নিয়ে আরও আলোচনা প্রয়োজন রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পে কমিশন নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি।
পে কমিশনের অগ্রগতি সম্পর্কে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পে-কমিশনের বিভিন্ন দিক রয়েছে এবং সেগুলো বিবেচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তবে আরও আলোচনা প্রয়োজন হওয়ায় পরে আবার বৈঠক হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ বছরের মধ্যেই নতুন পে-স্কেল হবে। তবে পে-স্কেল বাস্তবায়নের পর মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় সরকার কী পদ্ধতি অনুসরণ করবে, সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর জানানো হবে।
একই অনুষ্ঠানে সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম এবং দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কথা বলেন। তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিতে সরকার সক্ষম হয়েছে। তবে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিস্থিতির আরও উন্নতি করতে সময় লাগবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাসের মধ্যে অনেক সংস্কারমূলক কাজ করা হয়েছে। একই সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন প্রশংসনীয় উদ্যোগও দেখা গেছে।
তিনি বলেন, ১৮০ দিনের মধ্যে সরকার যেসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে এবং যেগুলোর কাজ শুরু করেছে, সেগুলো প্রশংসিত হয়েছে বলে তিনি আশা করেন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কয়েকটি সংকটময় পরিস্থিতিও সরকার সফলভাবে মোকাবিলা করেছে বলে জানান তিনি।
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের সংকট এড়াতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ব্যাপক বিনিয়োগ আহ্বান করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগও থাকবে।
তিনি জানান, মাতারবাড়িতে ল্যান্ডবেইজড এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মহেশখালীতে আরও একটি এফএসআরইউ স্থাপনের জন্য স্থান নির্ধারণে জরিপ চলছে। এছাড়া সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে দুটি এফএসআরইউ নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বর্তমানে সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউ রয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এসব স্থাপনায় যান্ত্রিক ত্রুটি বা অন্য কোনো সমস্যা দেখা দিলে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। সরকার এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
দেশের গ্যাস খাতে আমদানি নির্ভরতা কমানোর প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত সরকারের সময়ে গ্যাসের ক্ষেত্রে আমদানি নির্ভরতা তৈরি হয়েছিল। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে দেশের অভ্যন্তরে গ্যাস অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশীয় সম্পদ ব্যবহার করে গ্যাসের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
খাদ্য নিরাপত্তা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে সরকারের নেওয়া পরিকল্পনা প্রায় বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তিনি প্রতিবেদনটি এখনো পড়েননি। তবে শুনেছেন, সেখানে কিছু পর্যবেক্ষণ থাকতে পারে। প্রতিবেদনটি না দেখে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবেদনে যেসব বিষয় অনুমান করা হয়েছে বলে বলা হচ্ছে, অনুমাননির্ভর কোনো প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সরকার পদক্ষেপ নিতে পারে না। প্রতিবেদনটি হাতে নিয়ে না দেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।






















